আগামী কাল সাংবাদিকদের প্রতীকী অবস্থান:ইসির অসদাচরণ

ঢাকা,০২ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)-নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মোবারকের অসদাচরণের প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা রাজনৈতিক দলের সাথে কমিশনের চলমান সংলাপ অনুষ্ঠান বর্জনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।রোববার দুপুরে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে ইসির সংলাপের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবের এক পর্যায়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুল মোবারক সাংবাদিকদের সাথে অসৌজন্যমূলক ব্যবহার করেন।সংলাপ শেষে আব্দুল মোবারক সাংবাদিকদের বেয়াদব, অসভ্য ও মূর্খসহ ব্যবহার অনুপযোগী অনেক কিছু বলে গালাগালি করেন।

তিনি সাংবাদিকদের নির্বাচনী আইন ও সংবিধান না পড়ে বিতর্কিত লেখিকা তসলিমা নাসরিনের ‘খ’ পড়ার উপদেশও দেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ অন্য তিন নির্বাচন কমিশনার এবং নির্বাচন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতেই অপ্রত্যাশিত এ আচরণ করেন তিনি।

এ সময় একজন নির্বাচন কমিশনার তাকে থামানোর চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন।

এ ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন বিটে কর্মরত বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা প্রতীকী প্রতিবাদ জানাতে আগামীকাল সোমবার কমিশনের চলমান সংলাপ অনুষ্ঠান বর্জন এবং কমিশন কার্যালয় চত্বরে অবস্থান কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।

আজ রোববার নির্বাচন কমিশনের সাথে বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন ও বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাথে সংলাপ ছিল।

এ সংলাপ শেষে পৌনে ১টার দিকে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে সংবিধানের ১২৩ এর ৩ অনুচ্ছেদ সম্পর্কে সিইসির মন্তব্য চাওয়া হয়।

সম্প্রতি ওয়ার্কার্স পার্টির সাথে সংলাপে দলটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন সংবিধানের এ অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলেন, সংসদ সদস্য পদে বহাল থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নেয়ার সুযোগ থাকলে নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ থাকবে না এবং নির্বাচনও সুষ্ঠু হবে না।

এ সময় সিইসিও তার সাথে একমত পোষণ করে বলেন, এ সমস্যার দ্রুত সমাধান হওয়া দরকার। সিইসি নির্বাচনকালীন সরকারের রূপরেখা জাতীয় নির্বাচনের জন্য একটি মুখ্য বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, জাতি এখন এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে।

সাংবাদিকদের পক্ষে রোববার এর সমাধান কিভাবে হবে কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোন উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে কি না তা জানতে চাওয়া হয়।

সিইসি বিষয়টি এড়িয়ে গেলে একজন সাংবাদিক আবারও বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চান। এ সময় নির্বাচন কমিশনার মোহাম্মদ আব্দুল মোবারক উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের প্রতি অসদাচরণ করেন।

নির্বাচন কমিশনার মো. জাবেদ আলী এ সময় উত্তেজিতভাবে উত্থাপিত বিষয়টি সম্পর্কে জানতে সংবিধানের ১২৩ (খ) অনুচ্ছেদটি ভাল করে পড়ার পরামর্শ দিলে মোবারক বলেন, ‘ওরা সংবিধানের কি বোঝে? ওদের তসলিমার ‘খ’ পড়তে বলেন।’

এ সময় তিনি সাংবাদিকদের হুঁশিয়ার করে বলেন, ‘সীমা লঙ্ঘন করবেন না।’

সাংবাদিকরা সীমা লঙ্ঘন করেননি জানালে তিনি উচ্চারণ অনুপযোগী শব্দ ব্যবহার করে বলেন, ‘তাহলে আপনারা যা খুশি লিখুন।’

এ ঘটনার পর নির্বাচন কমিশন বিটে কর্মরত সাংবাদিকদের সংগঠন রিপোটার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি) তাৎক্ষণিক বৈঠকে ঘটনার প্রতিবাদে আগামীকাল সোমবার কমিশনের চলমান সংলাপ অনুষ্ঠানরে খবর সংগ্রহ বর্জনের সিদ্ধান্ত নেয়।

এছাড়া সভায় কমিশন কার্যালয় চত্বরে সকাল ১১টায় প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচি পালনেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।