রবিবার, জানুয়ারী 23, 2022
রবিবার, জানুয়ারী 23, 2022
রবিবার, জানুয়ারী 23, 2022
spot_img
Homeমানবাধিকার‘ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে চিকিৎসককে হত্যা করেন ক্লিনিকের কর্মী’

‘ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে চিকিৎসককে হত্যা করেন ক্লিনিকের কর্মী’

ঢাকা,০২ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- রাজধানীর দক্ষিণখানে ব্র্যাক ক্লিনিকের খণ্ডখালীন চিকিৎসক সাজিয়া আফরিনকে হত্যার ঘটনায় ওই ক্লিনিকের কর্মচারী মো. ফয়সালকে (২৭) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।পুলিশ দাবি করছে, বৃহস্পতিবার রাতে ধর্ষণের চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে সাজিয়াকে হত্যা করেন ফয়সাল। পরদিন সকালে তিনি পালিয়ে যান। তাঁকে শুক্রবার গভীর রাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের শামু গ্রামে নানার বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ফয়সালকে গতকাল শনিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে সাংবাদিকদের সামনে হাজির করা হয়। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় পাঁচ মাস ধরে তিনি ওই ক্লিনিকে চাকরি করছেন। রাতে ক্লিনিকের তিন তলায় একটি কক্ষে থাকতেন তিনি। একই তলায় আরেক পাশে চিকিৎসকদের বিশ্রামাগার। গত বৃহস্পতিবার রাতের পালায় কাজ শেষে বিশ্রামাগারে ছিলেন সাজিয়া। রাত সাড়ে ১২টার দিকে ফয়সাল দরজায় করাঘাত করেন। দরজা খোলা মাত্রই তিনি কক্ষে ঢুকে সাজিয়াকে ধর্ষণের চেষ্টা চালান। সাজিয়া বাধা দিতে থাকলে ধস্তাধস্তি হয় এবং একপর্যায়ে তাঁকে শ্বাসরোধে হত্যা করে নিজের কক্ষে চলে যান ফয়সাল। পরদিন সকালে তিনি পালিয়ে নানার বাড়ি চলে যান।
মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম শাখার উপকমিশনার (ডিসি) মাসুদুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফয়সাল জানিয়েছেন, পাশবিক নির্যাতনে বাধা দেওয়ায় সাজিয়াকে শ্বাসরোধে একাই হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় অন্য কোনো কারণ বা আর কেউ জড়িত আছেন কি না, সে ব্যাপারে জানতে তাঁকে রিমান্ডে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এদিকে গতকাল বেলা আড়াইটার দিকে সাজিয়ার মরদেহ দেখতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে যান স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, সাজিয়ার হত্যাকারীর সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।
ময়নাতদন্ত শেষে গতকাল বিকেলে এই সাজিয়ার লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে মর্গ কর্তৃপক্ষ। সাজিয়া ২০০৮ সালে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করেন। তিন মাস আগে তিনি ব্র্যাকের ক্লিনিকে খণ্ডকালীন চিকিৎসক হিসেবে চাকরি নেন। পরিবারের সঙ্গে তিনি দক্ষিণখানের কাউলায় থাকতেন। তাঁর বাবা মনিরুল ইসলাম ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আদালতে পুলিশের উপপরিদর্শক হিসেবে কর্মরত আছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার তো সব শেষ হয়ে গেল। দ্রুত হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া আমার এখন আর কিছুই চাওয়ার নেই।’
বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) নবনির্বাচিত সভাপতি মাহমুদ হাসান ও মহাসচিব এম ইকবাল আর্সলান, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) সভাপতি এ কে এম আজিজুল হক পৃথক বিবৃতিতে এবং এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতারা চিকিৎসক সাজিয়াকে হত্যার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করে খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments