সমাবেশ করতে বাধা আসলে আগামীকাল হরতাল জামায়াতের

ঢাকা,০৩ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)-যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তার শীর্ষ নেতাদের মুক্তিসহ বিভিন্ন দাবিতে রাজধানীতে সোমবার সমাবেশ করার ঘোষণা দিলেও অনুমতি পায়নি জামায়াতে ইসলামী।পুলিশ বলছে, নিরাপত্তাজনিত কারণে তাদের অনুমতি দেয়া হয়নি। তবে দলটি এখন পর্যন্ত সমাবেশ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্তে অটল রয়েছে।দলটির নেতারা জানিয়েছেন, যে কোন মূল্যে তারা কর্মসূচি সফল করবেন। এতে সরকার বাধা দিলে প্রয়োজনে হরতালের মতো কর্মসূচি দেয়া হবে বলেও তারা জানিয়েছেন। এই হরতাল আগামীকাল মঙ্গলবার দেয়া হবে বলে স্বীকার করেছেন জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ডা. আব্দুল্লাহ মো. তাহের।

এদিকে, অনুমতি না পেয়ে জামায়াতের কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্তে নগরীতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই বায়তুল মোকাররম মসজিদ ও এর আশপাশের এলাকায় বিপুলসংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

পুলিশ প্রশাসন এবং জামায়াতের মুখোমুখি অবস্থানে ফের সংঘর্ষের আশঙ্কায় নগরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

উল্লেখ্য, ঢাকা মহানগর জামায়াত ইসলামী সোমবার বিকেল ৩টায় বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিল কর্মসূচি দিয়েছিল।

এ ব্যাপারে পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশন) মাসুদুর রহমান বলেন, ‘নিরাপত্তাজনিত কারণে জামায়াতকে সমাবেশ করার অনুমতি দেয়া হয়নি।’

তিনি আরো বলেন, ‘তাদের কাছে দলটি কর্মসূচির নামে নাশকতা করতে পারে এমন তথ্য থাকায় সমাবেশ করতে অনুমতি দেয়া হয়নি।’

এদিকে, গতকাল রোববার সচিবালয়ে জাতীয় চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির এক সভা শেষে সাংবাদিকদের স্বারাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর জানান, সমাবেশের জন্য জামায়াত কোন আবেদন করেনি।

তিনি আরো বলেন, ‘অনুমোদন না নেয়ায় তাদের সমাবেশ হবে বেআইনি। আর বেআইনি সমাবেশ করতে দেয়া হবে না।’

তবে জামায়াতের নেতারা জানিয়েছেন, তারা গত ২৯ নভেম্বর ডিএমপির কাছে কর্মসূচি পালনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছেন।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, আজ সোমবার সমাবেশ করতে না পারলে আগামীকাল মঙ্গলবার দেশব্যাপী হরতাল কর্মসূচির ব্যাপারে প্রাথমিকভাবে সিদ্ধান্ত নিয়ে রেখেছে জামায়াত।

এ প্রসঙ্গে মহানগর জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, ‘আমরা এখনো সরকারের অনুমতির জন্য অপেক্ষা করছি। আশা করছি, তারা শেষ সময়ে হলেও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি পালনে অনুমতি দিবে।’

তিনি জানান, অনুমতি না দেয়া হলে কেন্দ্রীয় নেতাদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। সেক্ষেত্রে হরতালের কর্মসূচিও আসতে পারে।

সোমবার বিকেলে বায়তুল মোকাররমের সামনে সমাবেশ করতে না পারলেও বিকেলে রাজধানী এবং সারা দেশে বিক্ষোভ মিছিল করা হবে বলে জানা গেছে।

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে জামায়াতের শীর্ষ আট নেতার বিরুদ্ধে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার চলছে।

শীর্ষ নেতাদের মুক্তির দাবিতে নভেম্বর মাসের শুরু থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে কর্মসূচি পালন করতে গেলে তাদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষ হয়। এ সময় দলটির নেতা-কর্মীরা পুলিশের ওপর হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।