লন্ডনে মুখোমুখি আ.লীগ-বিএনপি রাজনৈতিক সংকট নিয়ে

নিউজ ডেস্ক, ৪ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)-লন্ডনে হাউস অব লর্ডসে বহুদিন পর এক সেমিনারে মুখোমুখি আলোচনায় বসলেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি নেতারা।
ব্রিটিশ পার্লামেন্টে অল পার্টি বাংলাদেশ পার্লামেন্টারিয়ান গ্রুপের চেয়ারপারসন অ্যান মেইন ও লর্ড এভভেরি এ সেমিনারের আয়োজন করে।সোমবার অনুষ্ঠিত এই সেমিনারে ছিলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এইচ টি ইমাম, সংসদ সদস্য সাবের হোসেন চৌধুরী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শিরিন শারমিন চৌধুরী।অন্যদিকে, বিএনপি নেতাদের মধ্যে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য এমকে আনোয়ার, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা শমসের মবিন চৌধুরী ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সংসদ সদস্য মাহবুবউদ্দিন খোকন।

এতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ এমপি রুশনারা আলীও বক্তব্য রাখেন।

তিন ঘণ্টার এই সেমিনারে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি, সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের মুখোমুখি হন দুই প্রধান দলের নেতারা।

এ সময় তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা প্রসঙ্গে অনড় অবস্থা ব্যক্ত করেন উভয়দলের নেতারা। তবে, বিদেশের মাটিতে দেশের রাজনৈতিক সমস্যা নিয়ে আলোচনাকে বাংলাদেশের জন্য লজ্জাকর বলে মন্তব্য করেছেন হাউস অব লর্ডস এবং হাউস অব কমন্সের বাঙালি বংশোদ্ভূত সদস্যরা।

সেমিনারে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিরোধিতা করে নির্বাচন কমিশনের অধীনেই সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগ নেতা সাবের হোসেন চৌধুরী।

তিনি বলেন, এই সরকার আমলে পাঁচ হাজার নির্বাচন হয়েছে। সবগুলো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয়েছে। কোনো নির্বাচন নিয়েই প্রশ্ন তোলা যায়নি। আওয়ামী লীগ প্রার্থী হেরেছেনও অনেক জায়গায়।

অন্যদিকে বিএনপির শমসের মবিন চৌধুরী বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইস্যুটি বারবার ফিরে আসবেই। রাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্যই এই ব্যবস্থা চালু থাকতে হবে।

নির্বাচন কমিশনের ওপর সরকারের প্রভাব কাজ করছে দাবি করে নির্দলীয় সরকার পদ্ধতি পুনর্বহালের দাবি জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম কে আনোয়ার।

সাবের চৌধুরী বিরোধী দলের সংসদ বর্জনের সমালোচনা করলে বিএনপি নেতারা বলেন, সংসদে তাদের কথা বলতে দেয়া হয় না।

এর জবাবে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন, খালেদা জিয়া বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে ৫ ঘণ্টা ৩৮ মিনিট বক্তৃতা দিয়েছেন। অথচ শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেতা থাকা অবস্থায় ৭২ বার মাইক বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল।

দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে আমীর খসরু বলেন, ‘পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে আমাদের বিদেশি বন্ধুদের এই উদ্যোগ নিতে হয়েছে। দেশে কোনো গণতান্ত্রিক ও নাগরিক অধিকার চর্চা করতে পারছে না বিএনপি।’

এসময় লর্ড এভভেরি বলেন, ‘আমরা কোনো কিছু ডিক্টেক্ট করতে আপনাদের (রাজনীতিক) ডাকিনি। বাংলাদেশের বাইরে থেকে আমাদের এই বিষয়ে বলাও উচিত নয়। দুই পার্টির কথা শোনার জন্যই এই আয়োজন।’

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রশ্নে মতভেদ দূর করতে সংলাপের তাগিদ দেন ব্রিটিশ পার্লামেন্টের এই সদস্য। তিনি বলেন, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার ইস্যু থেকে ফিরে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কীভাবে করা যায়, সে দিকে নজর দিতে হবে। এজন্য একটি পথ খুঁজে বের করতে হবে।

তবে তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতে মতপার্থক্য থাকলেও সেমিনারে অংশ নেয়া ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ এবং প্রধান বিরোধী দল বিএনপির নেতারাও নির্যাতনবিরোধী একটি আইন প্রণয়নে একমত হয়েছেন।

সেমিনারে বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতি, হত্যা-গুম, র্যা বের বিচারবহির্ভূত ‘হত্যাকাণ্ডের’ ঘটনাগুলো তুলে ধরে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের গবেষক আব্বাস ফয়েজ দুই রাজনৈতিক দলের নেতাদের প্রতি প্রশ্ন রাখেন- তারা নির্যাতনবিরোধী কোনো আইন প্রণয়নে একযোগে কাজ করতে রাজি কিনা।

জবাবে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি উভয় পক্ষের নেতারাই ‘হ্যাঁ’ সূচক জবাব দেন। বিরোধী দলের সংসদ সদস্য এম কে আনোয়ার বলেন, ‘আমরা নিজেরা নির্যাতনের শিকার। সুতরাং এই আইন করতে আমরা সহযোগিতা করব।’

অ্যান মেইন ও লর্ড এভভেরি দুই রাজনৈতিক দলের একমত হওয়ার প্রশংসা করে বলেন, এটি একটি যুগান্তকারী ঘটনা।

অ্যান মেইন বলেন, রাজনীতিকদের গুম হওয়ার পেছনে কেউ না কেউ তো দায়ী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।