‘বিভ্রান্তিকর প্রচারের’ জবাব দিতে সংবাদ সম্মেলন করবে সরকার

ঢাকা, ডিসেম্বর ২০ (খবর তরঙ্গ ডটকম)- সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের চলমান বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে ‘বিভ্রান্তিকর প্রচারের’ জবাব দিতে সংবাদ সম্মেলন করবে  আগামী ২৬ ডিসেম্বর। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে আইনমন্ত্রীর দপ্তরের দীর্ঘ বৈঠকের পর আইনমন্ত্রী শফিক আহমেদ ও তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। দুই মন্ত্রীই পরে নিজ নিজ দপ্তরে ফিরে আলাদাভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
শফিক আহমেদ বলেন, “বিচারাধীন এ বিষয় নিয়ে বাইরে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দেয়া হচ্ছে। আমরা ২৬ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলন করে সরকারের অবস্থান তুলে ধরব। জনগণ যেন এ নিয়ে বিভ্রান্তিতে না পড়ে, সেজন্য বিষয়টি পরিষ্কার করা হবে।”

যারা এই ‘বিভ্রান্তিকর তথ্য’ প্রচার করে জনমনে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করছে, তাদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী ইনু।

মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের রায় কবে হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে নিজ দপ্তরে শফিক আহমেদ বলেন, রায় যথাসময়ে হবে। একটি বিচারাধীন প্রক্রিয়া ও এর রায় নিয়ে এখন কথা বলা সমীচীন হবে না। যাদের বিচার হচ্ছে, তারা সবাই মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে জড়িত।”

স্কাইপের মাধ্যমে প্রবাসী এক আইন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথিত কথপোকথন নিয়ে বিতর্কের মুখে গত ১৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের পদ থেকে ইস্তফা দেন বিচারপতি নিজামুল হক। এরপর পুনর্গঠন করা হয় দুই ট্রাইব্যুনাল।

প্রবাসী আইন বিশেষজ্ঞ আহমেদ জিয়াউদ্দিনের সঙ্গে বিচারপতি নিজামুল হকের কথিত কথোপকথনের অনুলিপি ও প্রতিবেদন বিএনপি ও জামায়াতপন্থী পত্রিকা দৈনিক আমার দেশ ও সংগ্রামে প্রকাশের পর বিরোধী দল মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজ নতুন করে শুরু করার দাবি তোলে।

জামায়াতের সাবেক আমীর গোলাম আযমের বিচার প্রক্রিয়া নতুন করে শুরুর জন্য ট্রাইব্যুনালে একটি আবেদনও করা হয়েছে ইতোমধ্যে।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাময়িকি ইকনোমিস্টও ওই কথিত কথোপকথনের ভিত্তিতে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

এরপর ওই কথিত কথোপকথনের ভিত্তিতে কোনো ধরনের প্রতিবেদন বা শ্রুতিলিখন প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।

গোলাম আযম ছাড়াও জামায়াতে ইসলামীর বর্তমান আমিরসহ শীর্ষ আট নেতা ও বিএনপির দুই নেতার বিচার চলছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে।

আইন মন্ত্রী বলেন, “৪০ বছর পরে হলেও বাংলাদেশ স্বীকৃত ও সম্পৃক্ত এ ধরণের অপরাধীদের বিচার করছে। জনগণ যাতে ধারণা পেতে পারে, এ বিচারে কোনো বিভ্রান্তি নেই, সেজন্য অভিযুক্তদের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা দেয়া হচ্ছে। তারা সাফাই সাক্ষী ও আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ নিয়ে আপিল করতে পারবে। যার নজীর পৃথিবীর কোনো দেশে নেই।”

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেন, যারা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চায়, তারাই এর বিচার প্রক্রিয়া এবং রায় নিয়ে নানান গুজব ছড়াচ্ছে।

“এ ধরণের অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করা হচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে দেশের প্রচলিত আইনে বিচার করা হবে। পত্রিকা, দল বা গোষ্ঠী, যেই এতে জড়িত থাক, কাওকে ছাড় দেয়া হবে না।”

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিটি) প্রসিকিউশনে (আইন সহায়তাকারী) কোনো পরিবর্তন হবে কি না জানতে চাইলে আইনমন্ত্রী বলেন, বর্তমান প্রসিকিউশন ‘সুন্দরভাবেই’ তাদের কাজ চালাচ্ছে। তাই এ মুহূর্তে পরিবর্তনের কোনো চিন্তা নেই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।