প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আব্দুর রাজ্জাকের আ. লীগের শ্রদ্ধা

ঢাকা, ২৩ ডিসেম্বর (খবর তরঙ্গ ডটকম)- প্রয়াত মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, আওয়ামী লীগের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য ও সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের প্রথম মৃত্যু বার্ষিকীতে তার সমাধীতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।রোববার সকাল ৯টায় বনানীতে তার কবরে এ শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য তোফায়েল আহমেদ, ওর্য়াকাস পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, বিএম মোজাম্মেল সহ অন্যান্য নেতারা।

এ সময় নেতারা বলেন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার দাবিতে যে আন্দোলন চলছে তা শুরু করেছিলেন প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচালে সকল যড়যন্ত্র মোকাবেলা করতে মুক্তিযুদ্ধ পক্ষের শক্তিকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান তারা।

তারা বলেন, আব্দুর রাজ্জাক যদি বেঁচে থাকতেন তাহলে এ বিচারের দাবিতে আন্দোলন আরো জোরালো হতো। তাই তার আত্মার শান্তির জন্য যুদ্ধপরাধীদের বিচার করতেই হবে।

আওয়ামী লীগের এই প্রবীন নেতা ২০১১ সালের ২৩ ডিসেম্বর ৬৯ বছর বয়সে লন্ডনের কিংস কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

ষাটের দশকের ডাকসাইটে এই  ছাত্রনেতা রাজনীতির অঙ্গনে ছিলেন কীর্তিমান পুরুষ, বঙ্গবন্ধুর স্নেহধন্য।

১৯৪১ সালের ১ আগস্ট শরীয়তপুর জেলার ডামুড্যা উপজেলার দক্ষিণ ডামুড্যা গ্রাম তার জন্ম। বাবার নাম ইমাম উদ্দিন এবং মায়ের নাম বেগম আকফাতুন্নেছা। স্থানীয় স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে ১৯৬০ সালে ঢাকা কলেজে ভর্তি হন। ঢাকা কলেজ থেকেই শুরু হয় রাজনৈতিক জীবন। তখন পূর্ব পাকিস্থান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনে অংশ নেওয়া এই নেতা ১৯৬৫-৬৭ দুইবার ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ৬ দফা-১১ দফা আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন তিনি।

১৯৭০ সালের নির্বাচনে প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য, ৭১- এর মুক্তিযুদ্ধের মুজিব বাহিনীর সেক্টর কমান্ডার, ৭২ থেকে ৭৫ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৯ সালের কাউন্সিলে উপদেষ্টামন্ডলীর সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

১৯৯৬ সালে তিনি পানিসম্পদ মন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পর পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান।

তার মৃত্যুর পর শরীয়তপুর-৩ আসনের উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন তারা ছেলে নাহিম রাজ্জাক।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।