ডিজিটাল মুদ্রা যাদুঘর প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক

ডিজিটাল মুদ্রা যাদুঘর প্রতিষ্ঠা করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। রাজধানীর মিরপুরের বাংলাদেশ ব্যাংক ট্রেনিং একাডেমির দ্বিতীয় তলায় এ যাদুঘর স্থাপন করা হচ্ছে। ৬ হাজার বর্গফুট আয়তনের এই ফ্লোরটিকে ডিজিটালাইজড করে প্রস্তুত করতে ইতিমধ্যে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। আগামী ১৭ জানুয়ারি কার্যাদেশ দেওয়া হবে। এই যাদুঘর প্রতিষ্ঠায় চিত্রশিল্পী হাসেম খান, অধ্যাপক মুনতাসির মামুন, স্থপতি বরিউল হোসাইন ও বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক দাশগুপ্ত অসীম কুমার সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এ বিষয়ে দাশগুপ্ত অসীম কুমার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “দেশ-বিদেশ থেকে বেশ কিছু মুদ্রা আমরা ইতিমধ্যে সংগ্রহ করেছি। আরও মুদ্রা সংগ্রহের কাজ চলছে। পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংককেও আমরা চিঠি লিখবো তাদের মুদ্রা পাওয়ার জন্য।

“যাদুঘরটির অভ্যন্তরীণ কাঠামোসহ অন্যান্য কাজ সম্পন্ন করতে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। দ্রুত কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। আশা করছি আগামী এপ্রিলের মধ্যে আমরা উদ্বোধন করতে পারবো। যাদুঘরটি সম্পূর্ন ডিজিটাল করা হবে।”

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর একটি সূত্র জানায়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আসন্ন জন্মদিন ১৭ মার্চে এই যাদুঘরটি উদ্বোধন করা হতে পারে। আর তা সম্ভব না হলে অবশ্যই এই গভর্নরের মেয়াদেই উদ্বোধন হবে। আগামী ৩০ এপ্রিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক গভর্নরের মেয়াদ শেষ হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কারেন্সী ম্যানেজমেন্ট ডিপার্টমেন্ট সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে একটি কারেন্সী মিউজিয়াম রয়েছে। সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদের মেয়াদের শেষ সময়ে এটি চালু করা হয়। কিন্তু মিউজিয়ামটি বাংলাদেশ ব্যাংকের অভ্যন্তরে হওয়ায় জনসাধারণ এটি দেখার সুযোগ পাচ্ছে না। এজন্য মিউজিয়ামটি সরিয়ে এবং বড় পরিসরে করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমান যাদুঘরে তিন হাজার বিভিন্ন মুদ্রা আছে।

ইতিমধ্যে দেশ-বিদেশ থেকে বিভিন্ন আমলের ধাতব মুদ্রা ও কাগজের নোট সংগ্রহ শুরু হয়েছে। অনেকে দান করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর নজরুল হুদা তার সংগ্রহে থাকা বিভিন্ন দেশের প্রায় সাড়ে ৩০০ মুদ্রা ও নোট নতুন এই মিউজিয়ামের জন্য দান করেছেন। ডেপুটি গভর্নর থাকাকালে তিনি এসব মুদ্রা সংগ্রহ করেন। এছাড়া আরও কয়েকজন তাদের ব্যক্তিগত সংগ্রহের মুদ্রা দান করেছেন।

যাদুঘরটি সমৃদ্ধ করতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন দেশ থেকেও দূর্লভ মুদ্রা কিনে আনছে।

ভারতীয় উপমহাদেশের মুদ্রার ইতিহাস তুলে ধরাই হবে এই মুদ্রা যাদুঘরের লক্ষ্য। দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের কাছে নিজেদের ও বিশ্বের মুদ্রার ইতিহাস এক নজরে তুলে ধরতে এ উদ্যোগ।

এই মুদ্রা যাদুঘরে অডিও গাইডও থাকবে।

শিশুদের জন্য ‘বিশেষ এলাকা’ থাকবে যেখানে ভিডিও গেমস এর মাধ্যমে মুদ্রা সম্পর্কিত জ্ঞান দেওয়া হবে। শিশুরা চাইলে নোটের মধ্যে তাদের ছবি যুক্ত করতে পারবে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।