রবিবার, জানুয়ারী 23, 2022
রবিবার, জানুয়ারী 23, 2022
রবিবার, জানুয়ারী 23, 2022
spot_img
Homeবাংলাদেশ ৪১ বছর পরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে প্রহসন: জামায়াত

৪১ বছর পরে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে প্রহসন: জামায়াত

মানবাতবিরোধী অপরাধ মামলার প্রথম রায়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াত ইসলামী।  সোমবার সন্ধ্যায় দলের ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারী জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান এই বিবৃতি দেন। তার পক্ষে ইমেইলে বিবৃতিটি পাঠান দলের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের কর্মকর্তা আলী আহমাদ। বিবৃতিতে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “সরকার সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তথাকথিত মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের বিচারের নামে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে কারাগারে আটক রেখেছে। ১৯৭৩ সালের ক্রাইম্স ট্রাইব্যুনাল এ্যাক্ট এর মাধ্যমে পরিচালিত এ বিচারের মান, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা সম্পর্কে দেশী বিদেশী আইনবিদগণ তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। এই আইনটি তৈরি করা হয়েছিল ১৯৫ জন চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীর বিচারের জন্য-যাদের সকলেই পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর অফিসার ছিলেন। পরবর্তীতে শেখ মুজিবুর রহমানের সরকার ওইসব চিহ্নিত যুদ্ধাপরাধীদের ক্ষমা করে দেয়।”

তিনি বলেন, “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এ আইন পরিবর্তন করে আওয়ামী লীগ সরকার ৪১ বছর পরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করার জন্য যুদ্ধাপরাধের বিচারের নামে প্রহসনের আয়োজন করে। আজ অভিযুক্ত মাওলানা আবুল কালাম আযাদের বিরুদ্ধে যে রায় প্রদান করা হয়েছে তা তারই অংশ মাত্র। আইন অনুযায়ী ব্যক্তির অপরাধের বিচার হওয়ার কথা। যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তার বিষয়েই রায় প্রদান স্বাভাবিক। কিন্তু আমরা অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি যে, ব্যক্তির অপরাধের সাথে জামায়াতে ইসলামীকে টেনে আনা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। পাশাপাশি এই মামলার রায়ে জনাব আলী আহসান মোঃ মুজাহিদকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি বা সংস্থার বক্তব্য শ্রবণ না করে তার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত প্রদান সম্পূর্ণ বেআইনী ও অযৌক্তিক।”

রফিকুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, “সরকার অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে এই বিচারকার্য সম্পন্ন করেছে। ২০১২ সালের ৪ঠা নভেম্বর মামলার চার্জ গঠন করা হয়। ২৬ নভেম্বর থেকে রাষ্ট্র পক্ষের স্বাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়, চলে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত। যুক্তিতর্ক শুরু হয় ২৩ ডিসেম্বর থেকে, শেষ হয় ২৬ ডিসেম্বর, ২০১২। মাত্র ২৫ দিনের মাথায় মামলার রায় ঘোষণা করা হলো। দুনিয়ার ইতিহাসে যুদ্ধাপরাধের বিচারে বিস্ময়কর দ্রুততার সাথে এভাবে রায় দেয়ার কোনো নজির নেই। অভিযুক্ত ব্যক্তি অনুপস্থিত থাকায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নামে মাত্র একজনকে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ দেয়া হয়, যা সম্পূর্ণ লোক দেখানো। দেশের প্রথিতযশা আইনজীবীদের মধ্য থেকে কাউকে স্টেট ডিফেন্স না করে দলীয় ব্যক্তিকে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ করা হয়। ফলে যথার্থভাবে মামলা মোকাবেলা করা হয়নি।”

তিনি আরো বলেন, “বিচারের নামে প্রহসন আর ন্যায় বিচার এক কথা নয়। অভিযুক্ত ব্যক্তির অধিকার আছে ন্যায়বিচার প্রাপ্তির। আমরা লক্ষ্য করেছি, মামলার রায় দ্রুত প্রদানের জন্য সরকার নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করে আসছে।  মাননীয় আদালত যে রায় প্রদান করেছেন তাতে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের প্রকাশ ঘটেছে। জাতি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এই রায় প্রত্যাখ্যান করেছে। আমরা আশা করবো রাজনৈতিক প্রতিহিংসার উদ্দেশ্যে পরিচালিত বিচারের নামে এই প্রহসন বন্ধ করে সরকার দেশকে বিভেদের হাত থেকে রক্ষা করবেন।”

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments