কুমিল্লার বি-পাড়া উপজেলায় ধর্ষণের পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা: গ্রেফতার ৫ জন

কুমিল্লার বি-পাড়া উপজেলার বড়ধূশিয়া গ্রামের হাবিবুর হমানের কন্যা জান্নাতকে ঢাকায় ধর্ষণের পর আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দেয়ার সময় ঢাকা উত্তরা থানা পুলিশের হাতে গ্রেফতার হন ৫ ব্যক্তি। গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধর্ষণের ঘটনা স্বীকার করে । পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে পাঁচ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেছে। পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার সকালে নিহতের লাশ নিয়ে আশা হয় উপজেলার বড়ধূশিয়া গ্রামে। লাশ নিয়ে আশার পর নিহতের বাড়ীতে শুরু হয় শোকের মাতন। স্থানীয় প্রভাবশালী মোনাফ ভূইয়া ও গণি ভূইয়া গংরা নিহতের অসহায় পরিবারকে হুমকির মুখে বিষয়টি নিয়ে বারাবারি না করে লাশ দাফনের জন্য চাপ সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে ব্রাক্ষণপাড়া থানা পুলিশ।

মামলার অভিযোগ ও নিহতের পরিবারের সাথে কথা বলে জানা যায়, উপজেলার বড়ধূশিয়া গ্রামের মৃত: হাবিবুর রহমানের কণ্যা জান্নাত (৯) কে অভাবের তাড়নায় প্রায় আট মাস পূর্বে পাশ্ববর্তী গ্রামের মমতাজ নামে এক নারীর মাধ্যমে ঢাকার উত্তরার সাত নম্বার সেক্টরের চার নম্বর রোডের ছয় নম্বর বাসার দ্বিতীয় তলায় ব্যবসায়ী খাদেমুলের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করতে পাঠায়। গত বুধবার রাতে উত্তরার ওই বাসয় জান্নাতকে জুবায়ের, কামরুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলাম ধর্ষণ করে।  ধর্ষণের পর সে অচেতন হয়ে পড়লে গৃহকর্তৃ সানজিদা আক্তার (২৫) অচেতন অবস্থায় জান্নাতকে রবীন্দ্র সরণী রোডের ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানকার কর্তব্যরত চিকিৎসক জান্নাতকে মৃত ঘোষণার পর হাসপাতাল থেকে পালানোর চেষ্টা করে সানজিদা। পরে হাসপাতালের চিকিৎসকরা কৌশলে সানজিদাকে আটক করে উত্তরা পশ্চিম পাড়া থানায় খবর দেয়। খাদেমুল বাসার (৩৪), কামরুল ইসলাম (৩৩) ও রফিকুল ইসলাম (৩৩) নামের দুই বন্ধুকে নিয়ে ওই হাসপাতালে উপস্থিত হয়ে পুলিশকে জানায় গৃহকর্মী জান্নাত আত্মহত্যা করেছে। এ সময় পুলিশের সন্দেহ হলে সনজিদাসহ ওই চার জনকে আটক করে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সানজিদার ভাই জুবায়ের হোসেন (১৮) পালানোর চেষ্টা করে। পরে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় এনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করলে সে গৃহকর্মী জান্নাতকে ধর্ষণের পর হত্যার কথা স্বীকার করে। পুলিশ ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে সানজিদার ভাই জুবায়ের হোসেন (১৮), হত্যার ঘটনা গোপন করার অভিযোগে গৃহকর্তা খাদেমুল বাসার, তার স্ত্রী সানজিদা আক্তার ও তার দুই বন্ধু কামরুল ইসলাম ও রফিকুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। পরে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে ওই পাঁচ জনের নামে মামলা দায়ের করেন।

এ ব্যাপারে উত্তরা পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) মোঃ সফিউল জানান, গৃহকর্ত্রী সানজিদা রাতে ওই গৃহকর্মীকে অচেতন অবস্থায় রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নিয়ে যান। চিকিৎসকরা মেয়েটিকে মৃত ঘোষণা করলে সেখান থেকে পালিয়ে যাবার চেষ্টা করে সানজিদা। হাসপাতালের চিকিৎসকরা থানায় খবর  দেন। মেয়েটিরক ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশকে জানান তারা। এর পর পুলিশ গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। পরবর্তীতে ময়না তদন্ত শেষে বৃহস্পতিবার রাতে লাশ কুমিল্লায় পাঠানো হয়।

শুক্রবার সকালে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন কালে জানা যায়, সরকার দলীয় এক নেতার নাম ভাঙ্গীয়ে বড়ধূশিয়া গ্রামের প্রভাবশালী মোনাফ ভূইয়া ও গনি ভূইয়া ধর্ষিতার অসহায় পরিবারকে বিষয়টি নিয়ে বারাবারি না করে লাশ দাফন ও আপোষ মিমাংশা করার জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয়রা মোনাফ ভূইয়া ও গণি ভূইয়াগংদের এহেন জঘন্য কার্যকলাপের বিরুদ্ধে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন এবং অভিযুক্ত ধর্ষকদের বিচার দাবী করেন।

এ ব্যাপারে মোনাফ ভূইয়ার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কুমিল্লার বার্তা ডট কমকে জানান, আমি লাশ দাফন করে দেয়ার কথা বলেছি। বিকালে থানায় গিয়ে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সহ বিষয়টি মিমাংসা করে দেব।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।