কুমিল্লার লাকসামে নানা সংকটে গ্রাহকদের বিদ্যুৎ সেবা বিঘ্নিত

লাকসামে বিদ্যুৎ বিভাগে চলছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। ১৬ হাজার গ্রাহকের বিপরীতে মাত্র ৩ জন মিটার রিডার থাকায় প্রায়ই ভুতুড়ে বিলের ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের। লোডশেডিংরে যন্ত্রণা আর অপ্রতুল যানবাহন ও জনবল সংকটে আপতকালীন সেবা দিতে বিদ্যুৎ বিভাগ হিমশীম খাচ্ছে। নানা সমস্যায় পিডিবি’র দৌলতগঞ্জ লাকসাম বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের কার্যক্রম চলছে ঢিমেতালে।
লোকবল ও আনুষঙ্গিক সরঞ্জামের অপ্রতুলতাসহ পুরাতন যন্ত্রপাতি দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ায় এ কার্যালয়ের অধীন লাকসামে বিদ্যুৎ বিভাগের সেবার মান নিুমুখী। প্রথম শ্রেণীর পৌরসভাসহ উপজেলা সদরে অসংখ্য শিল্প-কারখানা গড়ে উঠলেও প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ সেবা থেকে বঞ্চিত রয়েছেন এলাকাবাসী। কোথাও ট্রান্সফর্মা নষ্ট হলে তা মেরামতে কখনো কখনো ২/৩ সপ্তাহ পেরিয়ে যায়। শিল্প- কারখানার পাশাপাশি বহু আবাসিক ভবন নির্মিত হওয়ায় উপজেলা সদর এলাকায় বিদ্যুতের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। অন্যদিকে, চাহিদা মাফিক বিদ্যুৎ না পাওয়ায় শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহতসহ মালিকরা লোকসানের ঘানি টানছে। কেউ কেউ নিজস্ব উদ্যোগে জেনারেটর দিয়ে প্রতিষ্ঠান চালানোর কারণে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।
জানা গেছে, লাকসাম দৌলতগঞ্জ বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ কার্যালয়ের অধীনে প্রায় ১৬ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। তম্মধ্যে আবাসিক ১১ হাজার ৮শ’ ৯২, বানিজ্যিক ২ হাজার ৭শ’ ১৩, সেচ ৪শ’ ৬৩, শিল্প ২০টি সংযোগের বিপরীতে প্রায় ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদার পরিবর্তে মিলছে ৪-৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। অপ্রতুল সরবরাহের কারণে আবাসিক, বানিজ্যিক, সেচ ও শিল্প প্রতিষ্ঠানে জনসাধারণের ভোগান্তিসহ উৎপাদন বিঘিœত হচ্ছে। এ অফিসের আওতায় ১৬ হাজার  সংযোগের জন্য ১২টি মিটার রিডার পদের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র ৩ জন। এদের পে নিয়মিত রিডিং কালেকশন সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিদ্যুৎ চুরিসহ প্রায়ই ভুতুড়ে বিলের খড়গ চাপে সাধারণ গ্রাহকদের ঘাড়ে। এ দপ্তরের ৫২ জন জনবলের পরিবর্তে কর্মরত আছেন মাত্র ২৬ জন। আর দৈনিক মজুরিতে আছেন ৪ জন। এতে প্রাত্যহিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটছে। মান্দাতার আমলের ২টি জীপ গাড়ি দ্রুত সেবা তো দূরের কথা স্বাভাবিক গতি ধরে রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। প্রায়ই এগুলো থাকে বিকল।
আবাসন সংকটে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিজেদের সুবিধামতো বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করছেন। কেউ কেউ কুমিল−া শহর বা পার্শ্ববর্তী উপজেলায় বাসা নিয়ে থাকছেন। এতে ওই কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সময় এবং অর্থের অপচয়সহ অফিসের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়। যাতায়াতের অসুবিধাসহ প্রায়ই নানা রকম সমস্যায় পড়ছেন তারা।
পাশাপাশি এ অফিসের অধীনে অনেক সম্পত্তিতে আবাসিক ও বানিজ্যিক স্থাপনা নির্মান করে প্রভাবশালীরা দখল নিয়েছে। লাকসাম বিদ্যুৎ অফিস বিগত ১৯৮৭ সালে উদ্বোধনের পর থেকে সরকারিভাবে বরাদ্দ না থাকায় পুরাতন এ ঝুঁকিপূর্ন ভবনেই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হচ্ছে।
এ বিষয়ে লাকসাম বিদ্যুৎ অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী এটিএম শহীদুল্ল−াহ ভূঁইয়া (অতিরিক্ত দায়িত্ব) জানান, দীর্ঘদিন যাবত সরকারিভাবে লোকবল নিয়োগ না হওয়ায় স্বল্প সংখ্যক লোকবল দিয়েই গ্রাহক সেবা চালাতে হচ্ছে। আর চাহিদার চেয়ে বিদ্যুৎ কম পাওয়ায় গ্রাহকদের ঠিকভাবে সেবা দিতে গিয়ে প্রতিনিয়ত প্রতিকুলতার স্বীকার হতে হয়। জনবল নিয়োগ, বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধিসহ অন্যান্য সমস্যাগুলো সমাধান হলে গ্রাহকদের উত্তম সেবা দেয়া সম্ভব।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।