কক্সবাজারে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের হরতাল পালন, আটক-২

দেশব্যাপী জামায়াত-শিবির ও ইসলামী তৌহিদী জনতার বিরুদ্ধে সরকারের চরম মাত্রায় জুলুম নির্যাতনের প্রতিবাদে ডাকা গতকাল সোমবার সকাল-সন্ধ্যা হরতাল কক্সবাজারে শান্তিপূর্ণভাবে পালিত হয়েছে।  তবে কক্সবাজার জেলায় আরোও বেশ কয়েকটি ইসলামী সংগঠনের পূর্ব নির্ধারিত তাফসীর মাহফিল থাকায় কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামী হরতালের সময় সংকুচিত করে তা অর্ধদিবসে নিয়ে আসে। ফলে জনগণের স্বত:স্ফুর্ততায় গতকালও জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের অর্ধদিবস হরতাল পালিত হয়েছে।  সকালে গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্য দিয়ে পিকেটাররা বাংলাবাজার, লিংকরোড, বাসটার্মিনাল, বাজারঘাটা, সিটিকলেজ রোড, আলীরজাহালসহ শহরের প্রধান প্রধান সব সড়কেই অবস্থান নেয়। এসব জায়গায় পিকেটাররা কিছু গাড়ি ভাঙচুর করতে দেখা যায়। প্রত্যদর্শী সূত্রে জানা যায়, ৫টি সি.এন.জি, ১০টি ব্যাটারি চালিত টমটম, ২টি মাইক্রো বাসে ভাঙচুর পরবর্তী আগুন ধরিয়ে দিলে রাস্তায় কোন ধরনের যান চলাচল ল্য করা যায়নি। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পুলিশ, বি.জি.বি ও র‌্যাব মাঠে আসলে পিকেটাররা বিভিন্ন অলিগলিতে ঢুকে পড়ে। দুপুর ১টার দিকে যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। দোকানপাট, বিপনি বিতান ও অফিস আদালত গুলো খোলা থাকলেও লোকজনের তেমন কোন লেনদেন বা আনাগোনা ল্য করা যায়নি। এছাড়া কক্সবাজার শহরে তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। চকরিয়া, ঈদগাঁও, রামু, উখিয়া, টেকনাফসহ কক্সবাজার জেলার প্রায় সব জায়গাতেই শান্তিপূর্ণভাবে হরতাল পালিত হয়েছে বলে জানা যায়। টেকনাফ সড়কে চেইন্দা এলাকায় কয়েকটি ডাম্পার ও টেক্সিতে আগুন লাগানো ছাড়া আর তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। নিরাপত্তার খাতিরে শহরে পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব টহল দিলেও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে দাঙ্গা পুলিশের কঠোর সতর্কবস্থান ছিল। কক্সবাজার থেকে দুর পাল্লার কোন গাড়ী ছেড়ে যেতে দেখা যায়নি। বেলা বাড়ার সাথে সাথে আন্ত:পরিবহণ বাস গুলো চলাচল করতে শুরু করে। এদিকে কুতুবদিয়া মালেক শাহের ওরশ শরীফ উপলে কক্সবাজারে হরতাল অর্ধদিবস করা হয়েছে বলে কক্সবাজার জামায়াত সুত্রে জানা গেছে। বিকাল ৩টার দিকে দোকান-পাট সহ সরকারী বেসরকারী প্রতিষ্টান গুলো খোলতে দেখা যায়। টানা ৩ দিনের হরতাল পালন শেষে পুরো জেলার মানুষ আবার যেন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে। প্রসংগত, গত শুক্রবার কক্সবাজার শহরে হাশেমিয়া আলিয়া মাদ্রাসা জামে মসজিদের মুসল্লিদের সাথে পুলিশের সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে ৪ জন মুসল্লি নিহত, ৩০ জন গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক লোক আহত হয়েছে। এঘটনায় কক্সবাজার মডেল থানায় ৩ টি মামলা ও আটককৃত ২’শ জনের নাম উল্লেখ করে ৬ হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এদিকে হরতালে স্বত:স্ফুর্তভাবে রাজপথে অবস্থান নিয়ে হরতাল সফল করায় সাধারণ জনগনের প্রতি আন্তরিক মোবারকবাদ ও অভিনন্দন জানিয়েছেন কক্সবাজার জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. শাহাজাহান, নায়েবে আমীর মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা সেক্রেটারী জি.এম. রহিমুল্লাহ, এসিটেন্ট সেক্রেটারী এডভোকেট ফরিদ উদ্দিন ফারুকী, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্য নূর আহমদ আনোয়ারী, জেলা শ্রমিক নেতা মাওলানা মো. আলমগীর, শহর আমীর আবু তাহের চৌধুরী, শিবিরের জেলা সভাপতি দিদারুল ইসলাম, সেক্রেটারী মাহফুজুল করিম প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।