কক্সবাজারে সাংবাদিকের বাড়ীতে তাণ্ডব, ৫ লাখ টাকার মালামাল লুট

কক্সবাজারের চকরিয়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞায় খতিয়ান অকার্যকর ঘোষিত হওয়া সত্ত্বেও ভূয়া মালিক বনে ভাড়াটে সন্ত্রাসী দিয়ে সাংবাদিকের বাড়ীতে তাণ্ডব চালিয়েছে ভূমিদস্যুচক্র। এ সময় তারা বাড়ীতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় এবং ৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
অভিযোগ মতে, পৌরসভার বাটাখালী মৌজার দীর্ঘ ২৬ বছরের দখলীয় বাড়িসহ বাউন্ডারি ওয়াল, নেম ফলক, ফটক ও দরজা ভেঙ্গে ভূমিদস্যুচক্র ব্যাপক লুটতরাজ চালিয়েছে। কাজে বাধা দেওয়ায় বাড়ির প্রহরী ও নির্মাণকাজের শ্রমিকদেরও মারধর করেছে দূর্বৃত্তরা। দখলবাজদের সশস্ত্র হামলায় আহত হয় ৭ জন। আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দুপুরে ২৫/৩০ জনের স্বশস্ত্র সন্ত্রাসী দীর্ঘ ঘন্টাব্যাপী লুটপাট চালিয়ে টেলিভিশন, পানির ফিল্টার, ২০টি চেয়ার, একটি ল্যাপটপ ও ৪টি চেক বই লুট করে নিয়ে গেছে। থানার ৫শ গজ দুর থেকে পুলিশ আসার আগেই ভুমিদস্যূরা লুপাট চালিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়।
কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট জিএএম শহীদুল্লাহ মামুন ও তার ভাই কক্সবাজারের সিনিয়র সাংবাদিক জিএএম আশেক উল্লাহ জানান, চকরিয়া পৌরসভার বাটাখালী মৌজায় মায়ের ক্রয়করা জায়গায় দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে বাড়ি নির্মাণ করে শান্তিপূণভাবে বসবাস করে আসছিল। দীর্ঘ ২৬ বছর পরে স্থানীয় মৃত ফোজাফ্ফর আহমদের পুত্র নুরুল আলম তথ্য গোপন করে চকরিয়া সহকারি জজ আদালত থেকে একতরফা একটি ডিক্রী নেন। একইভাবে ওই ডিক্রির অনুবলে গোপনে একটি খতিয়ানও সৃজন করে ওই নুরুল আলম। ডিক্রিপ্রাপ্ত মামলা গুলোতে তাদের পভূক্ত না করায় তারা বিষয়টি জানেন না। ফলে নুরুল আলম কথিত খতিয়ানের অনুবলে বসতভিটা থেকে জায়গা পাবে দাবী করে আসছে।
স্থানীয় শালিশ-বৈঠকে তথ্য গোপন করে খতিয়ান সৃজন ও একতরফা ডিক্রী নেওয়ার বিষয় জানতে পেরে এডভোটেক শহীদুল্লাহ আইনের আশ্রয় নেন। ফলে মিথ্যা খতিয়ান সৃজন ও তথ্যগোপন করে একতরফা ডিক্রী নেওয়ার বিষয় জ্ঞাত হয়ে খতিয়ানের সকলপ্রকার কার্যক্রম স্থগিত করে বিজ্ঞ আদালত।
সাংবাদিক জিএএম আশেক উল্লাহ জানান, কথিত খতিয়ানের উপর আদালত কৃর্তক নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার খবর পেলে ওই নুরুল আলম গং প্তি হয়ে উঠে। কার্যকারিতা শূণ্য ওই খতিয়ানের অবৈধ অনুবলে স্থানীয় সরকারি দল সমর্থিত একটি ভূমিদস্যূ চক্রকে বায়না নামা বিক্রি দলিল করে দেয় তারা।
ইতিমধ্যে বায়না দলিল গ্রহীতারাও খতিয়ানের উপর নিষেধাজ্ঞার খবর পেলে হাতুড়ি, বাউন্ডারি ওয়াল ভাঙ্গার সরঞ্জামসহ সশস্ত্রভাবে ভাংচুর ও হামলা করতে আসে। এতে তাদের বেপরোয়া মারধরে আহত হন বাড়ির পাহারাদার নজু মিয়া (৪৫), মিস্ত্রী মো: বাদল (৪০), রাকিবুদ্দিন (১৮), মো: নোমান (২০), মো: রোমান (২২), মো: রাসেল (২০) ও মামুনুর রশিদ (১৯)।
এডভোকেট শহীদুল্লাহ ও সহোদর সাংবাদিক আশেক উল্লাহ আরও জানান, তারা দুইজনই সকালে পেশাগত কাজে বের হয়ে যান। কিন্তু বাড়িতে নির্মাণকাজের লোকসহ প্রহরী ছিল। ১১টার দিকে জানতে পারেন বাড়ি ভাংচুর হচ্ছে। তাৎনিত তারা চকরিয়া থানা পুলিশের আশ্রয় গ্রহন করলে থানার এস আই রুহুল আমিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছতে পৌছতে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
তারা জানান, সন্ত্রাসীরা হাতুড়ি, লোহা দিয়ে বাড়ির প্রধান ফটক ভেঙ্গে ফেলেছে। নেম ফলকও তুলে ফেলেছে। এরপর বাড়ির প্রথম ও ভেতরের দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে একটি টেলিভিশন, একটি পানির ফিল্টার, একটি ল্যাপটপ, ২০টি চেয়ার ও ৪টি চেক লুটে নেয়। আহত বাড়ির প্রহরী চকরিয়া হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে বলে জানা গেছে। এ ধরণের অনাকাঙ্খিত ঘটনা হতে পারে সম্ভাবনায় এডভোকেট জিএএম শহীদুল্লাহ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী লিপিবদ্ধ করেছেন বলে জানান সহোদর সাংবাদিক জিএএম আশেক উল্লাহ। এ ব্যাপারে চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।