জামায়াত নিষিদ্ধের আল্টিমেটাম সরকারপন্থি ছাত্রসংগঠনগুলোর

জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করতে সরকারের প্রতি আবারও দাবি জানিয়েছেন ছাত্রলীগ সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ ও সমমনা ছাত্রসংগঠনগুলোর নেতারা। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সমর্থক ছাত্রসংগঠনটির সভাপতি জনাব সোহাগ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগ বিক্ষোভের মহাসমাবেশে বক্তৃতা করছিলেন। পরে সমাবেশ থেকে সরকারকে আল্টিমেটাম দিয়ে বলা হয়, জামায়াত নিষিদ্ধের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আগামী ২৬ মার্চের মধ্যে মামলা দায়ের করতে হবে। মানবতাবিরোধী অপরাধীদের ফাঁসি ও জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ চেয়ে সরকার সমর্থক ও সমমনা ছাত্র-সাংস্কৃতিক-সামাজিক-পেশাজীবী সংগঠনগুলোর লোকেরা গণজাগরণ মঞ্চের ব্যানারে টানা বিক্ষোভের ১৭তম দিনে আজ মহাসমাবেশের আয়োজন করে। বিক্ষোভে প্রথমে বিপ্লবী ছাত্র সংহতি, ছাত্র আন্দোলন, ছাত্র ফ্রন্ট, ছাত্র ইউনিয়ন ও ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও পরে সভাপতিরা বক্তৃতা করেন।

সবশেষ বক্তৃতায় ছাত্রলীগ সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ বলেন, জামায়াত-শিবিরকে অবশ্যই নিষিদ্ধ করতে হবে এবং তাদের অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ করতে হবে।

জামায়াত-শিবির নেতা-কর্মীদের তিনি সুপথে ফিরে আসার আহ্বান জানান। সন্ধ্যা ছয়টায় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগানে বক্তৃতা শেষ করেন জনাব সোহাগ।

এরআগে বিকেল সোয়া চারটায় শুরু হওয়া সমাবেশে ইসলাম, সনাতন হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান ধর্মের পবিত্র গ্রন্থগুলো থেকে পাঠ করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত ও অমর ২১ ফেব্রুয়ারীর সংগীত পরিবেশন করা হয়। এ সময় উপস্থিত সকলে নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

শাহবাগ চৌরাস্তায় স্থাপিত অস্থায়ী মঞ্চ থেকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইমরান এইচ সরকার এই সমাবেশ পরিচালনা করেন, তাকে সহযোগিতা করেন ছাত্রলীগের সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ ও সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলম।

আওয়ামী লীগ থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা, আওয়ামী লীগপন্থি ও সমমনা রাজনীতিকসহ পেশাজীবী ব্যক্তিত্বরা সমাবেশে সংহতি প্রকাশ করেন। ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকী নাজমুল আলমের বক্তৃতার আগেভাগে সমাবেশে সংহতি জানান কল্পবিজ্ঞান লেখক মুহাম্মদ জাফর ইকবাল।

প্রায় আড়াই ঘণ্টাব্যাপী সমাবেশে শাহবাগ মোড়ের চারপাশ ঘিরে প্রায় কয়েক হাজার লোক ‘জয় বাংলা’ স্লোগানে সমাবেশস্থল সররগরম করে রাখেন। এছাড়া অমর একুশে শহীদ দিবসে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ঘিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় উৎসবমুখর জনতা ও বইমেলায় আগতদের এই সমাবেশের বক্তৃতা শুনতে দেখা যায়।

সবশেষে সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও শাহবাগের ‘গণজাগরণ’ মঞ্চের সমন্বয়ক ইমরান এইচ সরকার তাদের ছয় দফা দাবি ও পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

নতুন কর্মসূচি
যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি ও জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধের দাবিতে শাহবাগ আন্দোলন থেকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সন্ধ্যায় সাড়ে ৬টায় ব্লগার ও এক্টিভিস্ট নেটওয়ার্কের আহ্বায়ক ডা. এমরান এইচ সরকার এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে- ২২ ফেব্রুয়ারি স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত ও অন্যান্য শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মসজিদ, প্যাগোডা, মন্দির ও ধর্মীয় উপসানলয়ে দোয়া এবং প্রার্থনা, ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ৭ মার্চ পর্যন্ত দেশে-বিদেশে আন্দোলনের ৬ দফার সমর্থনে করে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি। প্রত্যেক গ্রাম, মহল্লায়, বিভাগ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই গণস্বাক্ষর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।

এ বিষয়ে ইমরান সবার প্রতি আহ্বান জানান, নিজেদের অবস্থানে থেকে প্রত্যেকে, কর্মক্ষেত্রে স্বাক্ষর সংগ্রহ করে প্রজন্ম চত্বরে পাঠিয়ে দিতে হবে। এছাড়া অনলাইনেও এই কর্মসূচি চলবে। এছাড়া প্রজন্ম চত্বরেও এই গণস্বাক্ষর অভিযান চলবে। পরে গণস্বাক্ষর নিয়ে জাতীয় সংসদে স্পিকারেরর মাধ্যমে সংসদের কাছে পৌঁছানো হবে।

তিনি জানান, ১ মার্চ থেকে ২০ মার্চ পর্যন্ত স্থানীয় জনসাধারণের সুবিধা অনুযায়ী গণসংহতি কর্মসূচি নেয়া হবে। ২৩ ফেব্রুয়ারি রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে সমাবেশ ও শপথ পাঠ করা হবে। ২৫ ফেব্রুয়ারি মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বর, বিকেল ৩টায় সমাবেশ করা হবে। ২৭ ফেব্রুয়ারি বিকেল ৩টায় শাপলা চত্বরে সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। ১ মার্চ প্রজন্ম চত্বরসহ বাংলাদেশের প্রতিটা মঞ্চে প্রতিবাদী গান পরিবেশন করা হবে। ৩ মার্চ যাত্রাবাড়ীর চৌরাস্তায় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।

ইমরান আরও বলেন, ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিখা চিরন্তনে শ্রদ্ধা নিবেদন, সমাবেশ ও প্রতিবাদী গান হবে। এ সকল কর্মসূচি বিকেল ৩টায় শুরু।

তিনি বলেন, প্রজন্ম চত্বরে সাংস্কৃতিক কর্মসূচি পালিত হবে। প্রতিটা শুক্রবার গণজাগরণ মঞ্চ এবং দেশজুড়ে গণজাগরণ মঞ্চে সমাবেশ পালিত হবে। প্রতিদিন বিকাল ৩টা থেকে গণজাগরণ মঞ্চে সবাইকে উপস্থিত হতে হবে।

ব্লগার এমরান বলেন, কাদের মোল্লাসহ সকল যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসি দিতে হবে। জামায়াত-শিবিরকে নিষিদ্ধ করতে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। ৬ দফা দাবির আলোকে সরকারকে আল্টিমেটাম দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রকৌশলী রাজীব হায়দার, জাফর মুন্সির হত্যাকারীদের চার দিনের মধ্যে বিচার করতে হবে।

জামায়াত-শিবির নিষিদ্ধ করতে, সংশোধিত আইনের অধীনে অভিযোগ গঠন ও নিষিদ্ধের আইনি প্রক্রিয়া শুরু করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান ইমরান।

তিনি বলেন, অবিলম্বে যুদ্ধাপরাধী সংগঠনগুলোর আর্থিক উৎসগুলো আইনের আওতায় নিয়ে স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারপ্রক্রিয়া অব্যাহত রাখতে ট্রাইব্যুনালকে অব্যাহত রাখতে হবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরকে সকল সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে।

আন্তর্জাতিক ও জাতীয় গণমাধ্যমে এদের ভয়ঙ্কর রূপ প্রকাশ করতে প্রচারণা চালাতে হবে। জামায়াত-শিবির সমর্থিত গণমাধ্যমগুলোর বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নিতে হবে বলেও দাবি জানান সাবেক ছাত্রলীগের এই নেতা ডা. ইমরান।

সূত্র:আরটিএনএন

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।