স্মার্ট অগ্নিকান্ডে ক্ষতিগ্রস্থ ৫ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নগরীর স্মার্ট ফ্যাশন গার্মেন্টেসে সম্প্রতি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের পরিবারের সদস্যদের মাঝে আজ আংশিক ক্ষতিপূরণ দেন প্রধানমন্ত্রী। স্থানীয় রফতানিকারক ও বিদেশী ক্রেতারা এই ক্ষতিপূরণ প্যাকেজ গঠন করে। গার্মেন্ট শ্রমিকদের কল্যাণ ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত ভূমিকা পালনের জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ আহ্বান জানিয়ে রবিবার প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার গার্মেন্ট শ্রমিকদের কল্যাণ ও তাদের কর্মস্থলের নিরাপত্তার জন্য অব্যাহত প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। বিগত চার বছরে বাংলাদেশে গার্মেন্টস শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ৮২ শতাংশ বেড়েছে। এর তুলনায় বিগত কয়েক বছরে ইন্দোনেশিয়ায় এই মজুরি বেড়েছে ৬০ শতাংশ।

শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকার ভয়াবহ অগ্নিকান্ডের ঘটনায় দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া এবং সম্ভাব্য কম সময়ের মধ্যে উদ্ধার কাজ শুরু করতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সংস্থাকে শক্তিশালী করেছে।

ক্রেতাদের সংগঠন ইন্ডাস্ট্রি অল, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ-এর যৌথভাবে গঠিত এই তহবিলের আওতায় নিহত গার্মেন্টস শ্রমিকদের প্রত্যেক পরিবারকে ১২ লাখ ৪৯ হাজার টাকা দেয়া হবে। এর মধ্যে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ ২ লাখ করে টাকা দিবে এবং অবশিষ্ট টাকা দিবে ইন্ডাস্ট্রি অল-গ্লোবাল ইউনিয়ন।

প্রধানমন্ত্রী আজ নিহত ৫ শ্রমিকের পরিবারের সদস্যদের হাতে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দেন।

এই প্যাকেজের আওতায় ইন্ডাস্ট্রি অল নিহত গার্মেন্ট শ্রমিকদের প্রত্যেক পরিবারের ২ জন করে সন্তানকে লেখাপড়া করার জন্য ১০ শতাংশ দিবে। এছাড়া, আহত প্রত্যেক গার্মেন্ট শ্রমিককে ৫ লাখ টাকা দেয়া হবে।

ইন্ডাস্ট্রি অল-গ্লোবাল ইউনিয়নের জেনারেল সেক্রেটারি ইওরকি রাইনা, বিজিএমইএ’র সভাপতি শাফিউল ইসলাম ও ইন্ডাস্ট্রি অলের সুদর্শন রাও অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা করেন।

নৌপরিবহন মন্ত্রী শাহজাহান খান, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুন্নুজান সুফিয়ান, এলজিআরডি ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক এবং ইন্ডাস্ট্রি অলের বাংলাদেশ চ্যাপ্টার, বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ’র নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি স্মার্ট ফ্যাশন গার্মেন্টেসে অগ্নিকাণ্ডে ৮ শ্রমিক নিহত ও অপর ২০ জন আহত হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।