আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ফাসির রায়ের প্রতিবাদে উত্তাল কক্সবাজার, নিহত ১

হরতালের পাশাপাশি সাঈদীর ফাঁসির রায় ব্যাপক উত্তপ্ত করে তুলেছে রাজপথ। সারাদেশ জুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। সেই সাথে কক্সবাজারেও তুমুল সংঘর্ষ, হামলা, পাল্টা হামলায় রণেেত্র পরিণত হয়েছে সড়ক উপসড়কগুলো। দেশবরেণ্য প্রখ্যাত আলেম আল্লামা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে ফাঁসির রায় ঘোষণা করায় পকেট রায় প্রত্যাখান করে কক্সবাজারে সাঈদী মুক্তি পরিষদ, দলীয় নেতাকর্মী, সাধারণ মুসল্লি, নারী পুরুষ এক সাথে রাস্তা নেমে আসে। সেই সাথে ব্যাপক বিােভ প্রদর্শন করে রায় প্রত্যাহার করে নেওয়ার দাবী জানিয়ে আসছে বিােভকারীরা। সাধারণ জনতা রায় ঘোষনার পর থেকেই টানা ৪ ঘন্টা ধরে সড়ক অবরোধ করে রাস্তায় শোয়ে আছে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কক্সবাজারের ঈদগাঁও, পেকুয়া, চকরিয়া, খুরুলিয়া, রামু, টেকনাফ, মহেশখালীতে বিােভ অব্যাহত ছিল। বিােভে পুলিশ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ত্রিমুখী হামলায় কক্সবাজারের পেকুয়ায় সাজ্জাদ হোসেন (১৭) নামের ১ কিশোর শাহাদাত বরণ করেছে। শহীদের পিতা জালাল আহমদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। নিহত সাজ্জাদ এইবারের দাখিল পরীার্থী ও ছাত্রদলের ওয়ার্ড সভাপতি ছিল বলে জানা গেছে। রায় শোনার পর কক্সবাজার এলাকার মানুষজন লাটিসোটা হাতে মিছিল করতে করতে পুলিশের সাথে মুখোমুখি হয়। পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করতে থাকে। অর্ধ শতাধিক মানুষ এতে আহত ও দুইজন মারাত্মকভাবে জখম হয়েছে বলে জানা গেছে। উত্তেজিত জনতা পুলিশের একটি ভাড়া করা গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। অনেক গাড়ী ভাংচুর করে। রাস্তায় আগুন জ্বালিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় কক্সবাজার থেকে বিজিবি ও র‌্যাব বর্তমানে অবস্থান করছেন।
এদিকে পেকুয়ায় পুলিশ বৃষ্টির মত গুলি বর্ষণ করেছে। পুলিশের গুলিতে ১০ জন বিােভকারী গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ঈদগাঁওতে পুলিশের গুলিতে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়ে মুমুর্ষ অবস্থায় হাসপাতালের দিকে যেতে দেখা যায়। ঈদগাঁও মেডিকেল সেন্টারে ভর্তিরত পুলিশের গুলিতে আহত ২ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তারা দু’জনেই এখন মুমুর্ষ অবস্থায় রয়েছে বলে মেডিকেল সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সর্বশেষ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত রায় প্রত্যাখান করে পেকুয়াতে বিশাল বিােভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। চকরিয়ায় সাঈদী মুক্তি পরিষদের পাশাপাশি সাধারণ জনতা রাস্তায় নেমে আসে। ঈদগাওঁতে বিশাল বিােভ মিছিলে ৭জন গুলিবিদ্ধ হয়েছে। স্থানীয় আওয়ামীগের হামলা চলতে থাকলেও সাধারণ জনগণ রাস্তা ছেড়ে যায়নি।
এদিকে রামুর ৮ টি মসজিদ থেকে আসর নামাজের পর বিােভ মিছিল হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র দাবী করেছে। কক্সবাজার শহরতলীর বাস টার্মিনালে নারীপুরুষ সহ বিশাল মিছিল ছিল ল্যণীয়। খরুলিয়ায় কয়েক ঘন্টা ধরে সাধারণ জনতার সড়ক অবরোধ চলতে থাকে। উখিয়ায় ৮টি স্থানে নারী পুরুষসহ বড় বড় মিছিল হয়েছে। আল্লামা সাঈদীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনাল ফাঁসির রায় দেওয়ায় উখিয়া ও টেকনাফের প্রতিটি গ্রামে গ্রামে অজানা আতংক ছড়িয়ে পড়ে। সবার মুখে একটি প্রশ্ন “সাঈদীর ফাঁসি হলে দেশে কি হবে”। বিকাল ৫ টায় কোটবাজার ষ্টেশনে বিােভকারীরা জড়ো হলে পুলিশ ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে উত্তেজিত জনতাকে ছত্রভঙ্গ করে দেয়। একই সময়ে রাজাপালং আলী মোরা এলাকায় জামায়াত সমর্থিত কয়েক হাজার বিােভকারী কক্সবাজার টেকনাফ আরাকান সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে অগ্নি সংযোগ করলে পুলিশ ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে বিােভকারীদের ধাওয়া করে। তবে এ ঘটনায় কোন হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। সকাল থেকে ডিস এন্টোর লাইন অঘোষিত ভাবে বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ বিটিভি ছাড়া অন্য কোন চ্যানেলের খবর দেখতে পারেনি। এছাড়াও গতকাল জামায়াতের ডাকা হরতাল থাকায় সকাল থেকে কোন ধরনের ভারী যান বাহন চলাচল করেনি। সর্বশেষ মহেশখালী ঘুরে এসে জানা যায়, মহেশখালীতে রায়ের পরে প্রতিটি ঘরে ঘরে মহিলাদের কান্নার রোল পড়েছে এবং মসজিদের দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রায় ১০ গ্রাম থেকে জনতা মিছিলও করেছে বলে জানা যায়। সদরের খুরুশকুলে নারী পুরুষের সমন্বয়ে বিশাল বিােভ মিছিল হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত দীপাঞ্চলীয় উপজেলা মহেশখালী হোয়ানক কালামার ছড়া সহ প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রধান সড়কে নেমে আসা হাজার হাজার জনতা বাসায় ফিরেনি বলে জানা যায়। তাদের প্রত্যেকেই সাঈদীর বিরুদ্ধে এই রায় মানি না, মানি না- নিঃশর্ত মুক্তি চাই।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।