সিরাজগঞ্জে ২ শিবিরকর্মী নিহত

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার চন্ডিদাসগাঁতীতে পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে জামায়াত-শিবিরকর্মীদের প্রায় ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে ২ জন নিহত এবং কমপক্ষে ২০ জন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। নিহতরা হলেন- শিবিরকর্মী নুরুল্লাহ সরকার ওরফে মুক্তা (২২) ও রুহুল আমীন (১৫)। তাদের পরিবার নিহতের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নুরুল্লাহ সরকার সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের রাজা খাঁর চরের আলমগীর খানের ছেলে। আর রুহুল আমীন একই ইউনিয়নের চন্ডিদাসগাঁতী গ্রামের আব্দুল জলিলের ছেলে। এদের মধ্যে রুহুল আমীন সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে অপারেশন থিয়েটারে মারা যান বলে হাসপাতালের আরএমও ফরিদ আহম্মেদ আরটিএনএন- কে জানিয়েছেন।

জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর মুক্তি ও আলেমদের গায়ে হাত তোলার প্রতিবাদে ডাকা হরতালের সমর্থনে বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জামায়াত-শিবির মিছিল করলে পুলিশ ও র‌্যাবের সঙ্গে সংঘর্ষে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ-র‌্যাব পৃথকভাবে দুই শতাধিক টিয়ারশেল, রাবার বুলেট, চাইনিজ রাইফেল ও এসএমজির গুলি নিক্ষেপ করে। ঘটনাস্থল থেকে র‌্যাব ও পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।

দুপুর সাড়ে ১২টার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কায় সিরাজগঞ্জ-বগুড়া আঞ্চলিক মহাসড়কে বিপুলসংখ্যক পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ র‌্যাব-১২- এর অপরাধ দমন বিশেষ শাখার অধিনায়ক সহকারী পুলিশ সুপার অশোক কুমার পাল বলেন, র‌্যাব শতাধিক রাউন্ড রাবার বুলেট ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। পুলিশ-র‌্যাব ঘটনাস্থল থেকে তিন জামায়াত-শিবিরকর্মীকে আটক করে।

সিরাজগঞ্জের ডিবি পুলিশ রাকিব হাসান বলেন, র‌্যাব-পুলিশ মিলে চায়নিজ ও এসএমজি মিলে ৩০ রাউন্ড, ১০০ রাউন্ড শর্টগানের গুলি এবং ৫০ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আল মামুন বলেন, জামায়াত-শিবিরের পিকেটাররা পুলিশ-র‌্যাবকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। সাড়ে ১২টার দিকে পিকেটাররা পিছু হটলেও এখনো উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে তিনি জানান।

গুলিবিদ্ধ হওয়ার কথা শুনেছি। কিন্তু কেউ মারা গেছে কিনা তা আল মামুন নিশ্চিত করতে পারেননি।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।