কুমিল্লায় সড়ক আবরোধ: হরতালের প্রথম দিনে রেললাইন বিচ্ছিন্ন, চারদিকে আতংক

হরতালের শুরুতে লাকসাম-নোয়াখালী রেলপথের মনোহরগঞ্জ উপজেলার বিপুলাসারে দু’টি রেললাইন উপড়ে ফেলে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। নাঙ্গলকোট উপজেলার লুধুয়া নামকস্থানে জামায়াত-শিবির কর্মীরা লাকসাম-নোয়াখালী সড়ক আবরোধ করে রাখে। পুলিশের সঙ্গে জামায়াত-শিবির কর্মীদের সংঘর্ষে পুলিশ কর্মকর্তাসহ সাতজন আহত হয়েছে। লাকসাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল খায়ের  জানান, সকাল সাড়ে নয়টায় লাকসাম-সোনাইমুড়ি সড়কের নাঙ্গলকোট উপজেলার লুধুয়া নামকস্থানে জামায়াত-শিবির কর্মীরা সড়ক আবরোধ করে রাখে। এ সময় পুলিশ অবরোধ সরাতে গেলে তারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। একপর্যায়ে পুলিশ তাদের ধাওয়া করলে জামায়াত-শিবির কর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে বৃষ্টিরমত পাথর নিক্ষেপ করে। এতে লাকসাম থানার সহকারী পুলিশ পরিদর্শক মো. গিয়াস উদ্দিনসহ সাত পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনতে পুলিশ ২০ থেকে ২৫ রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। উক্ত সড়কটির লাকসাম এবং মনোহরগঞ্জ উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে গেলেও মাঝখানে লুধুয়া নামকস্থানটি নাঙ্গলকোট উপজেলার সীমানা হওয়ায় প্রশাসনিক জটিলতায় পড়তে হয়।

এদিকে বুড়িচংয়ের সৈয়দপুরে জামায়াত-শিবিরের হামলায় মোশাররফ নামে এক পুলিশ কন্সটেবল আহত হয়েছেন। পুলিশ এ সময় ৯ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়েছে। রোববার সকাল পৌনে ৯টায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ কনস্টেবল মোশাররফকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)  আমিরুল আলম জানান, সৈয়দপুর সড়কে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা টায়ার জ্বালিয়ে সড়ক অবরোধ করার সময় পুলিশ তাতে বাধা দেয়। এ সময় তারা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে হামলা চালায়। এতে পুলিশ কন্সটেবল মোশাররফ আহত হয়েছেন। পুলিশ এ সময় পিকেটারদের ছত্রভঙ্গ করতে ৯ রাউন্ড রাবার বুলেট ছুড়েছে।

দুপুর পর্যন্ত কুমিল্লা নগরীতে হরতাল সমর্থক ও হরতাল বিরোধীদের রাস্থায় দেখা যায়নি। তবে সকাল থেকেই পূবালী চত্বরে ছাত্রলীগ ও আওয়ামীলী নেতা কর্মীরা অবস্থান নিয়েছিল। গনগরীতে হরতালে জনমনে আতংক বিরাজ করছে। ব্যাংক-বীমায় আর্থিক লেন দেন হয়নি। কোনো দোকানপাট খোলেনি। রিকশা, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশাসহ কিছু হালকা যানবাহন ছাড়া কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। নাশকতা এড়াতে সকাল থেকে নগরীর প্রাণকেন্দ্র কান্দিরপাড়ে ব্যাপক সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন ছিল। এছাড়া পুলিশ নগরীর প্রধান প্রধান সড়কে অবস্থান নিয়ে আছে। মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশ ও জেলার উপজেলায় ও নগরে পুলিশের টহল ব্যবস্থা ছিল চোখে পড়ার মত। নগরীর ৩টি বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার কোন বাস ছেড়ে যায়নি।

এদিকে সকালে লাকসামে কয়েকটি স্থানে পিকেটিং করছে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। ছাত্রলীগ কর্মীদেরও হরতাল বিরোধী অবস্থানে দেখাগেছে। এনিয়ে জনমনে আতংক বিরাজ করছে। ভোরে চৌদ্দগ্রামে হরতাল সমর্থকরা ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাছের গুড়িফেলে রাস্তা অবরোধ করে এবং মহাসড়কের কয়েকটি স্থানে অবস্থান নিয়ে পিকেটিং করে। পুলিশ মহাসড়ক থেকে গাছের গুড়ি সরিয়ে নিলেও কোন যানবাহন চলাচল করছেনা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বুড়িচং, চান্দিনা ও দাউদকান্দি অংশে কোনো যানবাহন চলাচল করছে না। দেবিদ্বারে সকালে পিকেটিং করছে জামায়াত-শিবির কর্মীরা। পিকেটিং করার সময় দুই শিবির কর্মীকে আটক করে দেবিদ্বার থানা পুলিশ। এছাড়া মুরাদনগর, ব্রাহ্মণপাড়া, বরুড়া, মেঘনা ও তিতাসে হরতাল পরিস্থিতি একেবারে স্বাভাবিক রয়েছে। উপজেলা গুলোতে কোনো দোকানপাট খোলেনি। রিকশা, ব্যাটারি চালিত অটোরিকশা ছাড়া কোনো যানবাহন চলাচল করছে না।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।