জামায়াতের ৩ নেতাকে ফের সময় দিল ট্রাইবুনাল

মানবতা বিরোধী অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচারধীন বিষয় নিয়ে বক্তব্য দেয়ায় জামায়াতের তিনি নেতাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে আরেকবার সময় দিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। আগামী ৬ মার্চ বুধবার তাদের ট্রাইব্যুনালে এসে ব্যাখ্যা দিতে হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থার নির্দেশ দেয়া হবে বলে ট্রাইব্যুনাল জানান। জামায়াতের এই তিনি নেতা হলেন- ভারপ্রাপ্ত সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য হামিদুর রহমান আযাদ এমপি ও ঢাকা মহানগরী সহকারী সেক্রেটারি মো. সেলিম উদ্দিন।

এছাড়া একই সঙ্গে ওইদিন তাদের হাজির না করতে পারলে তাদেরপক্ষে সময় প্রার্থনাকারী আইনজীবীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

রোববার ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারক ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল এ আদেশ দেন।

আজ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের তিন নেতারপক্ষে একজন জুনিয়র আইনজীবী মো. আব্দুল হান্নান বলেন, হরতালের কারণে সিনিয়র আইনজীবীরা উপস্থিত হতে পারেননি এবং দেশের বর্তমান পরিস্থিতে ওই নেতাদের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে পারেননি। এজন্য আমরা আরও কিছুদিন সময় প্রার্থনা করছি।

এ সময় প্রসিকিউটর তুরিন আফরোজ বলেন, হরতালের মধ্যে আমরা আসতে পারছি। কিন্তু তারা আসতে পারছে না। তিনি বলেন, এভাবে হরতালের দোহাই দিয়ে না আসলে ট্রাইব্যুনালের ভাব মর্যাদা ক্ষুণ্ন হবে। ট্রাইব্যুনালের মর্যাদা রক্ষায় তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করার দাবি করেন তুরিন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী বলেন, দেশের পরিস্থিতি বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনালের কাছে সময় প্রার্থনা করছি।

ট্রাইব্যুনাল বলেন, হরতাল হচ্ছে একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি। হরতাল হচ্ছে, হতে থাকবে। তাই বলে তারা যদি হরতালের দোহাই দিয়ে ট্রাইব্যুনালের আদেশ অমান্য করেন তাহলে আদালত অবমাননা হয়।

ট্রাইব্যুনাল বলেন, আমাদের চোখ কান খোলা, আমরা তো সব দেখছি, আমরা তো এদেশেরই মানুষ।

এ সময় প্রসিকিউটর রানা দাস গুপ্ত বলেন, ট্রাইব্যুনালের আদেশ থাকা সত্ত্বেও তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বার বার এ আদেশ অমান্য করে আসছে। এতে ট্রাইব্যুনালের মর্যাদা কি থাকে। আগামী দিনে হরতাল হবে না তা কে বলতে পারে। সুতরাং তাদের বিরুদ্ধে ওয়ারেন্ট ইস্যু করা হোক।

ট্রাইব্যুনাল রানা দাস গুপ্তের বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, আপনার কথায় যুক্তি আছে। তবে তারাতো ট্রাইব্যুনালের কাছেই এসেছেন। বাহিরে তারা যে কথাই বলুক না কেন, তারাতো ট্রাইব্যুনালের প্রতি সম্মান দেখিয়ে সময় প্রার্থনা করেছেন।

এরপর ট্রাইব্যুনাল তাদের বিষয়ে এ আদেশ দেন।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনালে তিন জামায়াত নেতারপক্ষে সুপ্রিমকোর্টের সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট গোলাম মোহাম্মদ চৌধুরী আলাল ও অ্যাডভোকেট মো. শাহাদাত হোসেন তিন নেতার ব্যক্তিগত হাজিরা থেকে অব্যাহতি চেয়ে সময় প্রার্থনা করেন। ট্রাইব্যুনাল ওইদিন তাদের ৬ মার্চের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে হাজির করতে নির্দেশ দেন।

এরআগে ২০ ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল তাদের আবেদন শুনে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছিলেন। গত ৭ ফেব্রুয়ারি জামায়াতের এ তিন নেতার বিরুদ্ধে কেন আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে শোকজ নোটিস জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

এরআগে গত ৪ ফেব্রুয়ারি রাজধানী মতিঝিলে জামায়াতের এক সমাবেশে ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি সেলিম উদ্দিন বলেন, ‘দেশকে গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিবেন না।’

সব কিছু হিসাব করে ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে সরকারকে হুশিয়ারি করে দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘একটা রায়-ই শেষ নয়। রায়েরপর রায়, এরপর বহু প্রতিক্রিয়া আছে। বিষয়টি হালকাভাবে দেখলে চলবে না। দেশকে গৃহযুদ্ধের থেকে বাঁচাতে হলে বিতর্কিত ট্রাইব্যুনাল থেকে রায় দেয়ার কোনো সুযোগ নেই।’

জামায়াতের অপর নেতা হামিদুর রহমান আযাদ এমপি বলেন, ‘এ ট্রাইব্যুনাল আর এক মুর্হত ও চলতে পারে না।’

এরপর গত ৫ ফেব্রুয়ারি জাতীয় দৈনিকে তাদের বক্তব্য সম্বিলিত খবর প্রকাশ হয়। ট্রাইব্যুনাল উক্ত খবর আমলে নিয়ে ওই আদেশ দেন।

এছাড়া রফিকুল ইসলাম খান গত ৫ ফেব্রুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করেছিলেন। সে বিষয়টি ট্রাইব্যুনাল আমলে নিয়ে তাকেও ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়।

উল্লেখ্য, এরআগে ট্রাইব্যুনালের বিচারাধীন বিষয়ে বক্তব্য দেয়ায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীরের কাছে ব্যাখ্যা দেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এছাড়া দপ্তর বিহীনমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্তের বিরুদ্ধেও ট্রাইব্যুনাল একই আদেশ দিয়েছেন।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।