জিল্লুর রহমান বনানীতে স্ত্রীর কবরে শায়িত

দুদফা নামাযে জানাযা শেষে রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানকে বনানী কবরাস্থানে দাফন করা হয়েছে। শুক্রবার বিকেলে তাঁর দাফন কার্যক্রম শেষ হয়। রাষ্ট্রপতির দাফন অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঢাকা সেনানিবাস কেন্দ্রীয় মসজিদের খতিব আলহাজ মাওলানা মাহমুদুল হক। নয় বছর আগে ২০০৪ সালে স্ত্রী আইভি রহমানকে যেখানে দাফন করা হয়েছিল, সেখানেই প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানকে দাফন করা হয়েছে। রাষ্ট্রপতিকে যেখানে দাফন করা হয়, সেটি বনানী কবরস্থানের ১৪৯৩/৮৩ নম্বর কবর। এটির মাথার কাছে একটি নারিকেল গাছ আর পায়ের কাছে বকুল ফুলের গাছ রয়েছে। এর চারপাশে রয়েছে মার্বেল পাথরের মোজাইক। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় স্ত্রী আইভি রহমান নিহত হলে তাকে এখানেই কবর দেয়া হয়।

দাফনের আগে মরদেহ কবরে রেখে জিল্লুর রহমানের বর্ণাঢ্য জীবনী তুলে ধরা হয়। এরআগে রাষ্ট্রপতির মরদেহে রাষ্ট্রীয় সম্মানে স্যালুট প্রদান করা হয়। এরপর সামরিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ করা হয়। মরহুমের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে এ সময় দুই মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

কবরে দাফনের সময় রাষ্ট্রীয় সন্মান জানিয়ে তোপধ্বনি দেয়া হয়। এরপর রাষ্ট্রপতির প্রতি সন্মান জানিয়ে ‘হলি ফায়ার’ করা হয়। দাফন শেষে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পক্ষে তার সামরিক সচিব ও রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা প্রয়াত রাষ্ট্রপতির কবরে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর দোয়া করা হয়।

রাষ্ট্রপতির এই কবরটি খনন করেন জাহাঙ্গীর আলম সরকার। তিনি কবরটির তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। আইভি রহমানের কবরটির কেয়ারটেকারও ছিলেন তিনি।

এরআগে রাষ্ট্রপতির মরদেহ ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারযোগে জন্মস্থান কিশোরগঞ্জের ভৈরবে নেয়া হয়। সেখানে সকাল ১০টা ১০ মিনিটে হাজী আসমত আলী কলেজ মাঠে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের প্রথম নামাযে জানাযা করা হয়।

নামাযে জানাযায় লাখো জনতা তাদের প্রিয় এই সন্তানকে শেষবারের মতো অশ্রুসিক্ত বিদায় জানান। এরপর দুপুর আড়াইটায় ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের দ্বিতীয় ও শেষ নামাযে জানাযা অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানের এই নামাযে ইমামতি করেন বায়তুল মোকাররম মসজিদের খতিব মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। নামায শেষে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।

মরহুম রাষ্ট্রপতির ছেলে জনতার উদ্দেশে কথা বলেন। এ সময় তিনি তার পিতার সম্পর্কে বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রয়াত রাষ্ট্রপতির নামাযে জানাযায় অংশ নিতে সকাল থেকে রাজধানী ও এর আশপাশের জেলা থেকে লাখো মানুষ জড়ো হতে থাকে। জুমার আগেই পুরো ঈদগাহ মাঠ পূর্ণ হয়ে যায়।

পরে উপস্থিত জনতা সেখানেই জুমার নামায আদায় করেন। দুপুর সোয়া ১টার দিকে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সামরিক বেসামরিক কর্মকর্তাসহ সাধারণ মানুষ জুমার নামায আদায় করেন। জুমার নামাযের পর জনতার ঢল মূল মাঠ ছাপিয়ে আশপাশের সড়কে গড়ায়।

দ্বিতীয় নামাযে জানাযা শেষে মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানকে তার গুলশানের নিজস্ব বাসভবনে নেয়া হয়। সেখান থেকে বনানীর গোরস্থানে নিয়ে দাফন করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।