শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
spot_img
Homeজেলালেখালেখিতে সময় কাটে প্রবীণ সাংবাদিক ভাষা সৈনিক আবদুল জলিলের

লেখালেখিতে সময় কাটে প্রবীণ সাংবাদিক ভাষা সৈনিক আবদুল জলিলের

ভাষা সৈনিক আবদুল জলিল লাকসাম সংবাদপত্রের ভুবনে এক জীবন্ত কিংবদন্তী। কুমিল্লা শিক্ষা ও সংস্কৃতির লীলাভ’মি হযেও লাকসাম সংবাদপত্র, সাহিত্য সংস্কৃতিতে ছিল পিছিয়ে। ঊনবিংশ শতাব্দির মধ্যভাগের কথা। তখন সাংবাদিক কি তা লাকসামের মানুষ জানতো না। ভাষা আন্দোলনের পাশাপাশি ১৯৫৫ সালের দিকে হাইস্কুলে অধ্যয়নরত নিয়মিত সংবাদপত্রের সাথে জড়িত হন। সেই পথ চলা আজও অব্যাহত রয়েছে। মাথার চুল পেকে শন হয়েছে, চোখে কম দেখেন, মুখের দাঁত অনেকগুলো পড়ে গেছে, কিন্তু তার কলম থেমে যায়নি। তার কলমে বার্ধক্য চেপে বসেনি। তার শরীরে বার্ধক্য আসলেও তার কলম টগবগে যৌবনা। ভাষা প্রেমিক আবদুল জলিল ১৯৩৬ সালের ১ জানুয়ারী লাকসামের চন্দনা গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন।

তিনি সাপ্তাহিক লাকসাম নামের একটি সংবাদপত্রের সম্পাদক ও প্রকাশক। এ পর্যন্ত তার বেশ কিছু বই প্রকাশিত হয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ‘মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় লাকসাম’ ও লাকসাম জনপদ কথামালা, ওগো বঙ্গবন্ধু। এতদঞ্চলে সাংবাদিকদের গুরু তিনি, সকলেই শ্রদ্ধার সাথে তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। কুমিল্লার লাকসাম চন্দনা গ্রামের কৃর্তীমান সাংবাদিক সাপ্তাহিক লাকসাম নামক সংবাদপত্রের সম্পাদক, প্রকাশক কবি, সাহিত্যিক, নাট্যকার এবং ৫২ এর অগ্রজ ভাষা আন্দোলনের বীর সৈনিক আব্দুল জলিল। পিতা মরহুম আলহাজ্ব মুন্সি বজলুর রহমান পন্ডিত, মাতা মরহুমা ওয়াহেনা খাতুন, ভাই বোনদের মধ্যে তিনি ৪র্থ তার ৩ ছেলে ও ৩ মেয়ে রেখে জীবন সাথী নুরজাহান ১৯৯৬ সালে পরকালে চলে যায়। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৯৫০ সালে শিক্ষার্থীদের সাথে ভাষা সংগ্রামে মিলিত হয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্র/ছাত্রীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন। সংগ্রামী আবদুল মতিন, গাজিউল হক, জলিল উদ্দিন, রওশন আরা বাচ্চু, মীর্জা মাজহার, হালিমা খাতুন, আলী তাহের মুজমদার, আলী আহম্মদ, অজিতগুহ, ভূঁইয়া আবদুল  জলিল এর মধ্যে  অনেকেই বেঁচে নেই। ভাষা সংগ্রামীদের সাথে মাতৃ ভাষার দাবিতে সংগ্রাম করেন। দীর্ঘ সময় পাকিস্তানীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে ১৯৬৮ পর্যন্ত লাকসাম উত্তরদা উচ্চ বিদ্যালয় এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান শিক্ষক হিসাবে শিক্ষা দান করেন। তৎকালীন তিনি চট্টগ্রাম বিভাগের সমন্বয় ও কুমিল্লায় দায়িত্ব পালন করেন। তিনি দি সিট নামক একটি সংবাদপত্রের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক ছিলেন।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকারের দেয়া নিবন্ধক মোতাবেক সাপ্তাহিক লাকসাম সংবাদ পত্রের সম্পাদক ও প্রকাশক হিসেবে গ্রাম বাংলার ইতিহাস ঐতিহ্য ধারনে নিজেকে সুনামের সাথে সম্পৃক্ত রেখেছেন। এ যাবত তিনি যুগভেরী, ইষ্টার্ণ হেলাল্ড, আওয়াজ, পূর্বাশা, রূপসী বাংলা, ফলক আজাদী, পূর্বদেশ, আজাদ, জনতা, দিলদার, জাতীয় নিশান, আজকের জীবন সহ আরো অনেক সংবাদ পত্রে বিভিন্ন ফিচার লিখছেন। শিশু কিশোর সংগঠন কচি কাচার মেলা, খেলাঘর, সুজন মজলিশ এর আঞ্চলিক সংগঠক ছিলেন। শিক্ষা জীবনে তিনি একজন মেধাবী সংগঠক হয়ে নওয়াব ফযজুন্নেছা সরকারী কলেজের ছাত্র সংসদে ভিপি ছিলেন। বি.এ পাশ করে ১৯৭১ সালে মহান মুক্তি যুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। যুদ্ধকালীন মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ধারনে নিরব স্বাক্ষী হয়ে বহু গ্রন্থ রচনা করেন।এক জরিপে ২০০৮ইং ২১ ফেব্র“য়ারি কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুর রহমান রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত মতে আবদুল জলিলকে ভাষা সৈনিক হিসেবে পুরস্কার তুলে দেন। এতে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ তাকে সংবর্ধিত করেন। এছাড়াও তাকে সম্মাননা প্রদান করেন- বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতার রির্পোটার্ণ এসোসিয়েশন। এশিয়া ছিন্নমূল মানবাধিকার বাস্তবায়ন ফাউন্ডেশন। তথ্য বাংলা ফাউন্ডেশন, এশিয়া সিটি দ্যা এ্যাওয়ার্ড, শাণে মদিনা, দিগন্ত টিভি কুশিল্লা অফিস। দৈনিক শ্রমিক, জাতীয় মানবাধিকার সোসাইটি, বীর মুক্তিযোদ্ধা ডাঃ হাশেম বাঙ্গালি ফাউন্ডেশন, নরপাটি হাইস্কুল। বঙ্গবন্ধু সম্মাননা, এশিয়ান ইউনির্ভাস অব বাংলাদেশ উল্লেখ্যযোগ্য। ভাষা সৈনিক আবদুল জলিল এর নিজস্ব প্রকাশনা চন্দনা প্রকাশন থেকে প্রকাশিত বই মহিয়সী নারী ফয়জুন্নেছা জীবনী, পীর মুর্শিদের আস্তানা, কুলি মেয়ে, জনপথ কথামালা (৩টি খন্ড), সাগর তীরে, কেওড়া বনে, বেদনা দাও, আল্লামা বারী জিহাদীর জীবনী,  লাকসামের আবদুল জলিল ভাষা আন্দোলনে সম্পৃক্ত হওয়ায় জাতী গর্বিত হয়েছে। অন্যবদ্য এ অবদানকে মূল্যায়নের সময় এসছে। নতুন প্রজন্মে ভাষা সংরক্ষনের জন্য ইতিহাসের ধারক ভাষা সৈনিক আবদুল জলিলের নামে লাকসাম পৌর এলাকার যে কোন একটি রাস্তা তার নাম করন করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments