শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
শনিবার, অক্টোবর 16, 2021
spot_img
Homeজেলাহাসপাতাল-ক্লিনিকে দুর্ভোগ, ক্ষুদ্ধ পৌরবাসী রায়পুরে তীব্র পানি সংকট, পৌরবাসীর কষ্ট একমাস...

হাসপাতাল-ক্লিনিকে দুর্ভোগ, ক্ষুদ্ধ পৌরবাসী রায়পুরে তীব্র পানি সংকট, পৌরবাসীর কষ্ট একমাস ধরে

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌরসভায় বসবাসকারী প্রায় ৪০ হাজার মানুষের পানির কষ্ট যেন কাটছেনা। গরম বাড়ার সাথে সাথে গত ১ মাস ধরে চলছে এখানে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট। বিদ্যুতের অব্যাহত লোডশেডিং ও লো-ভোল্টেজের কারণে উচ্চ জলাধারে (টাংকি) পাম্প দিয়ে পানি উত্তোলন করতে না পারায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়। এতে পৌরসভার মধ্যে বসবাসকারী হাজার হাজার পরিবারগুলোকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এতে শহরজুড়ে চলছে খাবার পানির জন্য হাহাকার।
হাসপাতাল ও ক্লিনিকেগুলোতে পানি না থাকায় রোগীরা পড়েছেন বেকাদায়। এছাড়া শহরের হোটেল-রেস্তোরায় লোকজন বাধ্য হয়ে আর্সেনিকযুক্ত পানি পান করছেন। অনেক পরিবার মিনারেল ওয়াটার কিনে পানির চাহিদা মেটাচ্ছেন মাস খানেক ধরে। ক্ষুদ্ধ পৌরবাসী এ অবস্থা চলতে থাকলে আন্দোলনে রাস্তায় নামার আশংকা করা হচ্ছে।
সংশি¬ষ্ট সূত্র জানায়, রায়পুর পৌর এলাকার প্রায় ৪০ হাজার মানুষের প্রতিদিন ১৫ লাখ লিটার পানির চাহিদা রয়েছে। পাম্প দিয়ে উচচ জলাধারে এ পানি উত্তোলন করতে হলে দৈনিক ১৫-১৭ ঘন্টা বিদ্যুতের প্রয়োজন। কিন্তু রায়পুর উপজেলা দৈনিক বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে ৯-১০ ঘন্টা। তাও আবার ভোল্টেজ থাকে না। এতে উচ্চ জলাধারে মাত্র ৫-৬ লাখ লিটার পানি উত্তোলন করা সম্ভব হয়। মাচের্র শুরু থেকে বিদ্যুতের লোডশেডিং শুরু হলে উচ্চ জলাধার টাংকিতে পানি উত্তোলন সম্ভব হচ্ছেনা। এতে শহরে পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করে।
পৌর শহরের আরমান পোল্ট্রি খামারের স্বত্বাধিকারী মো. কামাল হোসেন বলেন, ‘পানি সংকটের কারনে আমার পোল্ট্রি খামার বন্ধের উপক্রম হচ্ছে। প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকে টিউবওয়েলের পানি এনে ব্রয়লার মুরগীদের খাওয়াতে হয়। সামনে গরম বাড়ার সাথে সাথে এসমস্য আরো তীব্র আকার ধারণ করবে।
পৌর বাসিন্দা রেহানা আক্তার মিলি জানান, শহরবাসী মহিলারা পৌর সভার পানির ওপরই নিরর্ভশীল। পানি না থাকলে পুরুষরা বাহিরে গিয়ে গোসল করতে পারে। কিন্তু আমরা তো আর বাহিরে গিয়ে গোসল ও পানির চাহিদা মেটাতে পারে না। এ কারণে অনেক সময় বাসায় রান্না-বান্নার কাজ না করে বসে থাকি। এমনকি বায়সায় টয়লেট ব্যবহার করতেও ভোগান্তি পোহাতে হয়।
এদিকে বামনী গ্রামের শারমির আক্তার জানান, গ্রামেও ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় টিউবওয়েলে পানি উঠছে না। ফলে টিউবওয়েলগুলো এখন অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এতে খাবার পানির তীব্র সংকটে পড়েছেন গ্রামের লোকজন।
পানি সংকট নিয়ে আশার বাণী নেই রায়পুর পৌরসভার মেয়র এ বি এম জিলানীর মুখে। তিনি অবশ্য পৌরবাসীর দুর্ভোগের কথা স্বীকার করে বলেন, অব্যাহত লোডশেডিংয়ের কারণে চাহিদামত পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। বিষয়টি পল¬ী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার অবগত করেও কোন সুফল আসেনি।
যোগাযোগ করা হলে রায়পুর পল¬ী বিদ্যুৎ অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জাকির হোসেন বলেন, নোয়াখালী গ্রিড থেকে ভোল্টেজ কম পাওয়া যাচ্ছে। এ নিয়ে আমাদের কিছু করার নেই। লোডশেডিং এখন একটি জাতীয় সমস্যা। এছাড়া জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদামত বিদ্যুৎ সরবরাহ না করায় রায়পুরে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এখানে বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে ৭-৮ মেগাওয়াট, কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে ২-৩ মেগাওয়াট। তবে বিষয়টি সর্ম্পকে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments