রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
spot_img
HomeUncategorizedদালালদের কাছে জিম্মি লবণচাষিরা

দালালদের কাছে জিম্মি লবণচাষিরা

লবন ব্যবসাকেন্দ্রীক দালাল সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে মাঠ পর্যায়ের লবনচাষিরা। মাথার ঘাম মাঠে লবন উৎপাদন করেও মূল্যায়িত হচ্ছেনা তাদের শ্রম। ফলে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এ শিল্পে ধস নামার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টজনেরা।
বিসিক সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা ও দক্ষিণ চট্টগ্রামের আংশিক এলাকায় প্রায় ৭০ হাজার একর জমিতে লবণ উৎপাদন হয়। এলাকায় এ শিল্পে অন্তত  ৮০ হাজার লোকজন প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে জড়িত রয়েছে। দেশে লবণের চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৬ লাখ মে: টন। যার অধিকাংশ সরবরাহ করা হয় এ এলাকা থেকে। এর পরও জেলার এ শিল্প অবমূল্যায়িত হয়ে আসায় এতে জড়িত হাজারো লোকজন চরম ক্ষতিগ্রস্ত ও ক্ষুব্ধ।
এ শিল্পে সংশ্লিষ্ট লোকজন জানান, ডিসেম্বর থেকে মৌসুম শুরু হয়। এখনো আবহাওয়া অনুকূলে রয়েছে। তবে উৎপাদিত লবনের ন্যায্য দাম পাচ্ছেনা প্রান্তিক চাষারা। এদিকে আগামীতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ১৪লাখ মে:টন উৎপাদনের লক্ষমাত্রা ঠিক করেছে বিসিক।
জানা গেছে, সদরের ঈদগাঁও, ইসলামপুর, চৌফলদণ্ডী, ভারুয়াখালী, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, পেকুয়া, মগনামা, উজানটিয়া, রাজাখালীসহ অনেক জায়গায় প্রচুর মজুদ রয়েছে। প্রকৃত দাম না পাওয়ায় এসব এলাকার চাষারা তাদের উৎপাদিত লবন বিক্রি না করে জমা করে রেখে দিচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট লোকজন জানান।
এ দিকে গত বছর সরকারীভাবে কেজিপ্রতি ৪ টাকা দরে লবন কেনার ঘোষণাসহ সরকারের লবনণীতিমালা প্রণয়নের খবরে কিছুটা হলেও লবণ চাষের উপর আস্থা ফিরে পেয়েছিল চাষীরা। এ সময় লবণের দাম ছিল তুলনামুলকভাবে সন্তুষজনক। কিন্তু চলতি মৌসুমে সাদা লবন মাঠ পর্যায়ে বিক্রি হচ্ছে ১৫০ টাকায়। আর কাল (অপরিশোধিত) লবন বিক্রি হচ্ছে মণে ৯০ থেকে ১২০ টাকায়। যা উৎপাদন খরচের অনেক কম বলে জানান সংশ্লিষ্টজনেরা। এ জন্য দালালদের কারসাজিকে দায়ী করেছেন এ শিল্পে জড়িত লোকজন।
বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঁঠির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার জেলা ও চট্টগ্রাম জেলার আংশিক সহ চলিত লবণ মৌসুমে প্রায় ৭০হাজার একর জমিতে লবণ চাষ হচ্ছে। আর এতে জড়িত রয়েছে প্রায় ৮০হাজার মানুষ। দেশে লবণের জাতীয় চাহিদা রয়েছে প্রায় ১৬লাখ মে: টন। লবন উৎপাদন হয় সম্পূর্ন প্রাকৃতিক ভাবে। সুর্যের আলোক রশ্নি, বাতাস, সমুদ্রের লবনাক্ত পানি থেকে এ লবন উৎপাদিত হয়। আবহওয়া অনুকূলে থাকলে এ হিসেবে ১৪লাখ মে:টন লবণের ল্য মাত্রা ধরা হয়েছে।  অন্যদিকে প্রতিকূল আবহওয়া বিরাজ করলে লবন উৎপাদন হবে তারও কম, মাত্র ১০থেকে ১১লাখ মে:টন। বিসিক সূত্রে আরো জানা গেছে, বিগত কয়েক বছর ধরে দেশে লবণের ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে আবহওয়া প্রতিকূল থাকায় এই ঘাটতির কারন বলে জানা গেছে।
সদরের ইসলামপুরের লবণচাষা আবুল কালাম জানান, ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আশায় এ মৌসুমে আগেভাগে লবণ উৎপাদনের জন্য মাঠে কোমর বেঁেধ নেমে পড়েছিল চাষীরা। কিন্তু লবনের দাম না থাকায় তারা চরম হতাশ হয়েছেন। এরকম অবস্থা অব্যাহত থাকলে এ শিল্প ধ্বংসের আশঙ্কা করেছেন ভুক্তভোগি লোকজন।
বিসিক সূত্রে আরো জানা গেছে, বিগত কয়েক বছর ধরে দেশে লবণের ঘাটতি হচ্ছে। বিশেষকরে আবহাওয়া প্রতিকূল হলে ঘাটতি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
কক্সবাজার জেলা লবনমিল মালিক সমিতির সভাপতি ইসলামপুর ইউপি চেয়ারম্যান মাষ্টার আব্দুল কাদের জানান, সময়নুপাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ না থাকা ও ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় এ শিল্পে জড়িত লোকজন চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ শিল্প বাঁচাতে সরকারের হস্তক্ষেপ জরুরী মনে করেন সকলে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments