রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
spot_img
Homeজেলাকক্সবাজারে নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে আইনজীবীর সহায়তায় মেয়ে শিশুর বিবাহ সম্পন্ন

কক্সবাজারে নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে আইনজীবীর সহায়তায় মেয়ে শিশুর বিবাহ সম্পন্ন

কক্সবাজারের এ.কে. ফজলুল হক চৌধুরীর নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে চতুর্থ শ্রেনীতে পড়–য়া ১০ বছরের একটি কন্যা শিশুর জোরপূর্বক বিবাহ সম্পন্ন করেছে বলে জানা যায়। সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ কক্সবাজারের মহেশখালীর বড় মহেশখালী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়–য়া ৪র্থ শ্রেণীর ছাত্রী ও দেবাঙ্গা পাড়া গ্রামের বশির আহমদের শিশুকন্যা আফসানা খানম খুকিকে (১০) অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায় স্থানীয় বখাটে এবাদুল হক (২৫)। ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২৯ মার্চ রীতিমত স্কুল ছুটির পর বাড়ী ফেরার পথে স্থানীয় আব্দুল শুক্কুরের পুত্র বখাটে এবাদুল হক (২৫) পরিকল্পিতভাবে ওই স্কুল ছাত্রীকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। ৫ লক্ষ টাকা মুক্তি পণ দাবী করে মেয়ের অভিভাবকদের কাছে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে ওই এবাদুল ও তার সহযোগী দুর্বৃত্তরা। অপহৃতার অভিভাবক অসহায় দিন মজুর পিতা কৃষক বশির আহম্মদ দুর্বৃত্তদেও দাবীকৃত ওই টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করে। তার ঐ দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে গত ৯ এপ্রিল কক্সবাজারের নোটারি পাবলিক কার্যালয়ের অসাধু আইনজীবী এ.কে ফজলুল চৌধুরীর প্রত্যক্ষ সহযোগীতায় বাল্য বিবাহ আইন তোয়াক্কা না করেই অপহরণ মামলা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য জোর পূর্বক অপহৃত ওই মেয়ে শিশুটির বিবাহ সম্পন্ন করে। অন্যদিকে ২৯ মার্চ গণমাধ্যম কর্মীদের কানে গেলে খবরটি গুরুত্ব সহকারে প্রচারিত হয় প্রায় স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায়। খোজ নিয়ে জানা যায়, কক্সবাজার মডেল থানায় ওই বখাটের বিরুদ্ধে ১টি অভিযোগ দায়ের করার পরেই এবাদুল ও তার পরিবার অপহৃত অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে শিশুটিকে নিয়ে এমন বাল্যবিবাহ সম্পাদন করার অপচেষ্টা চালিয়ে এড. এ.কে ফজলুল হক চৌধুরী মোটা অংকের বিনিময়ে এ বিবাহ স¤পন্ন করে। বাল্যবিবাহ সম্পাদনকারী সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ফজলুল হক চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার সাথে সাথে ফোনের লাইনটি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। জানা যায়, এ আইনজীবী অতীতেও আরোও বেশ ক’টি বাল্য বিবাহ সম্পাদন করে বিতর্কের সৃষ্টি করেছিলেন।
এদিকে মেয়েটির খালাতো ভাই সাংবাদিক এম. জসিম উদ্দিন ছিদ্দিকী কক্সবাজার মডেল থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অন্যদিকে মেয়ের অসহায় পিতা বশির আহম্মদ বাদী হয়ে মহেশখালী থানায় একটি নারী-শিশু নির্যাতন ও অপহরণ মামলা দায়ের করেন। এবিষয়ে মহেশখালী থানার ওসি হাবিবুর রহমানের সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের ধারায় মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। আমরা অতিশীঘ্রই অপহৃত মেয়েটি উদ্ধার করে অভিভাবকদের হাতে হস্তান্তর করতে সক্ষম হবো এবং দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments