শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
শুক্রবার, অক্টোবর 22, 2021
spot_img
Homeজেলাইয়াবা সিন্ডিকেটের নতুন কৌশল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার

ইয়াবা সিন্ডিকেটের নতুন কৌশল আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার

টেকনাফ ও কক্সবাজারের বাঘা বাঘা ইয়াবা ব্যবসায়ীরা আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ির কারণে তারা এতদিন বেকায়দায় থাকলেও জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশদ্রোহী এই ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান প্রতিহতপূর্বক নিজেদের ব্যবসা চাঙ্গা করার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। এজন্যই সুচতুর ইয়াবা ব্যবসায়ীরা নিজেদের সিন্ডিকেটে বরাবরের মতো গুটি কয়েক রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত ও এক শ্রেণীর সংবাদকর্মীদের ব্যবহার করে সবসময়।
জানা গেছে, ওই সিন্ডিকেট সদস্যদের ইয়াবা ভান্ডার কিংবা অনৈতিক ব্যবসায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের মাঠ পর্যায়ের কারো হাত পড়লে তা তারা গুড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতাও রাখে।
সূত্র মতে, এজন্যই নিজেদের সিন্ডিকেটের সংবাদকর্মীদের তারা হরদম ব্যবহার করে প্রশাসনের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়ে পড়ায় সীমান্তের আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এখন ইয়াবা ধরতে নিজেদের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে কক্সবাজার জেলায় কর্মরত আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ইয়াবা বিরোধী অভিযানে খুব একটা সফলতা দেখাতে পারছে না। তবে কক্সবাজারের ডিবি পুলিশ গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত কয়েক মাসের ব্যবধানে বেশকিছু ইয়াবা উদ্ধারের পাশাপাশি র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন র‌্যাব উল্লেখযোগ্য ইয়াবা উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে।
জানা গেছে, সুচতুর ওই সদস্যদের কারণে শুধু আইন শৃঙ্খলা বাহিনী নয়, সোর্সরাও বিমুখ হয়ে পড়ছে কর্তব্য পালনে। সংশ্লিষ্টরা এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ না খুললেও কক্সবাজার জেলায় কর্মরত বিভিন্ন পুলিশ সদস্যদের সাথে আলাপে জানা গেছে, ইয়াবা ব্যবসায়ীরা এখন এক হাজার ট্যাবলেট নিয়ে ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দশ হাজার কিংবা তার অধিক ইয়াবা ধরেছে বলে অপপ্রচার করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে দুর্নাম করে। শুধু তাই নয়, এই বিষয়টি পাকাপুক্ত করতে তারা মাঝে মধ্যে সংবাদকর্মীদেরও ভুল তথ্য দেয়। এ কারণে কোথাও একটি ইয়াবা ধরা পড়লে দেখা যায় পরের দিন স্থানীয় গণমাধ্যমে আসে হাজার হাজার পিচ ইয়াবা জব্দ করেছেন অমুখ কর্মকর্তা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, সেই কর্মকর্তা সেই দিন ইয়াবাসহ যা পেয়েছিলেন তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সোপর্দ করে নিয়মিত মামলা রুজু করে দিয়েছে। কিন্তু এরপরও ক্ষিপ্ত ইয়াবা সিন্ডিকেট কোন কিছু করতে না পেরে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মাঠ পর্যায়ের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নাম রটানোর কারণে নিজেদের সংস্থার অভ্যন্তরে লজ্জিত হয়ে পড়ছেন আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মাঠ পর্যায়ের সদস্যরা। ফলে অনাকাংখিত এই বিরম্ভনা এড়াতে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এখন ইয়াবা নিয়ে মাথা ঘামান না। এ অবস্থায় সুচতুর ইয়াবা ব্যবসায়ীরা সুযোগটি কাজে লাগিয়ে প্রতিদিন হরদম চালিয়ে যাচ্ছে নিজেদের এই অনৈতিক ব্যবসা।
জানা গেছে, ইয়াবা ব্যবসায়ীদের এহেন কুটকৌশলের একমাত্রই কারণ অন্তত দুর্নাম এড়াতে হলেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর মাঠ পর্যায়ের কোন সদস্য যেন তা নিয়ে মাথা না ঘামায়। এ অবস্থায় কক্সবাজারের সচেতন মহল মনে করছেন এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার কিংবা সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিভ্রান্ত না হয়ে যেন কার্যকর পদক্ষেপ বহাল রাখেন। কারণ এতে করে ইয়াবা সিন্ডিকেটের এই জঘন্য প্রচেষ্টা ব্যাহত তো হবেই, মাঠ পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তারা কিছুতেই তাদের ছাড় দেবেন না।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments