বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 20, 2022
বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 20, 2022
বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী 20, 2022
spot_img
Homeজেলালক্ষ্মীপুরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে ‘সোনার ফসল’ সয়াবিন

লক্ষ্মীপুরে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে ‘সোনার ফসল’ সয়াবিন

আমাদের আবাস ভূমি প্রিয় লক্ষ্মীপুর জেলায় এবার ‘সোনার ফসল’ সয়াবিন আবাদে লক্ষমাত্রা ছড়িয়েছে। এ জেলাকে দেশের সয়াবিন ভান্ডার ও ‘সয়াবিনের রাজধানী’ হিসাবে পরিচিত। দেশে উৎপাদিত সয়াবিনের ৮০ ভাগ চাষ হয় এ জেলা থেকে যোগান হয়। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ রাজধানীতে ব্যাপক আকারে চাষ হয়েছে সয়াবিন। এছাড়াও সয়াবিনের বাম্পার ফলনের প্রত্যাশা করছেন কৃষক। এলাকাবাসী ও কৃষি অফিস সংশি¬ষ্টরা। বিলে বিলে শোভা পাচ্ছে সুবজ সয়াবিন গাছের সমারোহ।
লক্ষ্মীপুর সদর, রামগতি, কমলনগর ও রায়পুর উপজেলার চরাঞ্চলে যতদূর চোখ যায়- মাঠের পর মাঠ এখন সয়াবিনের চারার সবুজ হাতছানি। কৃষকদের চোখে-মুখে এখন রঙিন স্বপ্ন।
সংশি¬ষ্টদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, প্রতি বছর শুধু রায়পুর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের ৪টি ইউনিয়নে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা সয়াবিনের ওপর লেনদেন হয়। এ জন্য এটিকে কৃষকরা ‘সোনার ফসল’ বলে থাকেন। সয়াবিন বদলে দিয়েছে উপকূলীয় হায়দরগঞ্জ বাজার ও আশপাশ এলাকার মানুষের জীবন যাত্রার মান। এ ফসল বিক্রির নগদ টাকায় স্বাবলম্বী হয়েছেন হাজার হাজার কৃষক। ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিষ্ঠিত সয়াবিন তেল ও পোল্ট্রি খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এখান থেকে সয়াবিন কেনার জন্য ছুটে আসেন।
লক্ষ্মীপুর জেলা সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশে উৎপাদিত সয়াবিনের মধ্যে ৭০ ভাগ উৎপাদন হয় লক্ষ্মীপুরে। গত বছর জেলায় ৩৯ হাজার ১৪০ হেক্টর জমিতে সয়াবিন চাষাবাদ করা হলেও এ বছর উৎপাদন হয়েছে ৪৪ হাজার ৯০ হেক্টর। যা গতবারের তুলনায় ৫ হাজার হেক্টর বেশী। এর মধ্যে সদরে ৫ হাজার ৫৯৫ হেক্টর কমলনগরে ১৭ হাজার ৭০ হেক্টর, রামগতি ১৬ হাজার ৫’শ , রায়পুরে ৪ হাজার ৮৬৫ হেক্টর, রামগঞ্জ উপজেলায় ৬০ হেক্টর। গত বছর ৭৮ হাজার ২৮০ মেট্রিক টন য়াবিন উৎপাদন হয়েছে। অপার সম্ভাবনা থাকা সত্বেও দীর্ঘদিনেও লক্ষ্মীপুর জেলায় সয়াবিন প্রক্রিয়াজাত করার কোনো কারখানা এখনও গড়ে ওঠেনি।
কৃষকদের দাবি- লক্ষ্মীপুরে সয়াবিনভিত্তিক কারখানা স্থাপন ওদাদন ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করা। এতে তারা ন্যায্যমূল্য পেয়ে সয়াবিন চাষে ব্যাপকভাবে আগ্রহী হয়ে উঠবে। পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে হাজার-হাজার বেকার যুবকদের।
রায়পুর শহর থেকে পশ্চিমে ২৫-৩০ কিলোমিটার দূরে চরজালিয়া গিয়ে দেখা গেছে, মাঠের পর মাঠ সয়াবিনের চারা। এছাড়া চরঘাসিয়া, চর জালিয়া, চরইন্দুরিয়া ও কানিবগার চরে একই চিত্র। কৃষকরা ক্ষেতে রোদে পুড়ে ফসলের পরিচর্যা করছেন। এখন তাদের অপেক্ষার প্রহর গুনতে হচ্ছে- সোনার ফসল ঘরে তোলার।
উপজেলার উত্তর চর আবাবিল গ্রামর কৃষক আব্দুল মান্নান বলেন, এবারের মত অ্যার জীবনেও সয়াবিনের এরকম ফসল দেহিনাই। বৈশাইখ্যা হিলটিল (শীলা) না হড়লে অনেক সয়াবিন ঘরে উডাইতাম হারিয়াম।
এ ব্যাপারে হায়দরগঞ্জ বাজারের সয়াবিন ব্যবসায়ী সেলিম হোসেন ও শাহাজান পাটোয়ারী জানান, চলতি বছর সয়াবিন আবাদ বেশি হয়েছে। খেতে রোগ বালাইও এ বছর কম। আগামী ১-২ মাস আবহাওয়া সম্পূর্ন অনুকূলে থাকলে কৃষকরা বাম্পার ফলন ঘরে তুলতে পারবে। লক্ষ্মীপুর জেলায় রেকর্ড পরিমাণ সয়াবিন উৎপাদন হলেও গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটের কারণে সয়াবিন ভিত্তিক কোন শিল্প গড়ে ওঠছেনা।
যোগাযোগ করা হলে লক্ষ্মীপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোঃ ওসমান খান জানান, চাষাবাদ লক্ষ্যমাত্রা শতভাগ অর্জিত হয়েছে। কৃষকরা যেন সঠিক সময়ে সয়াবিন ক্ষেতে সার কীটনাশক ব্যবহার, পোকা দমনে জৈবিক পক্রিয়া প্রয়োগ করতে পারে সেজন্য জেলা-উপজেলা কৃষি অফিসারের কর্মকর্তা ও মাঠ কর্মীরা তদারকিতে রয়েছেন। সয়াবিন চাষীদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণ ও সহজে বাজারজাতকরণের জন স্থানীয়ভাবে সয়াবিনভিত্তিক শিল্প কারখানা প্রতিষ্ঠার কোন বিকল্প নেই উলে¬খ করে তিনি আশা প্রকাশ করে জানান, পোকামাকড় থেকে রক্ষা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার সয়াবিন উৎপাদন অতিতের সকল রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে। আমাদের কাছে সয়াবিন ভাগ্য বদলের ফসল হিসেবে পরিচিত।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments