২০ তম রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ

দ্বিতীয় কোন প্রার্থী না থাকায় বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বাংলাদেশের ২০তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ। সোমবার সকালে রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়নপত্র বাছাই শেষে আর কোনো প্রার্থী না থাকায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমেদ ২০তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে আবদুল হামিদের নাম ঘোষণা করেন। রোববার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত আওয়ামী লীগের সংসদীয় দলের সভায় সর্বসম্মতিক্রমে আবদুল হামিদকে প্রার্থী মনোনীত করা হয়। এর পরপরই  নির্বাচন কমিশন থেকে আবদুল হামিদের নামে চারটি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করা হয়। পরে তোফায়েল আহমেদের নেতৃত্বে কমিশনে আব্দুল হামিদের পক্ষে তিনটি মনোনয়নপত্র জমা দেয়া হয়।

 অন্য কোনো প্রার্থীর পক্ষে মনোনয়ন জমা না পড়ায় রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন হয়নি। ২৯ এপিল জাতীয় সংসদে এই নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।
উল্লেখ্য, গত ২০ মার্চ বিকেলে সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দেশের প্রবীণতম রাজনীতিক এবং ১৯তম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান। সংবিধানের ১২৩ (২) অনুচ্ছেদ অনুসারে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হয়। সে হিসেবে আগামী ১৯ জুনের মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ছিল। রাষ্ট্রপতি সরাসরি ভোটে নয়, সংসদ সদস্যদের ভোটে নির্বাচিত হন। তবে তফসিল ঘোষণাসহ এই নির্বাচন পরিচালনা করে নির্বাচন কমিশন।
আবদুল হামিদের  জীবন

আবদুল হামিদ ১৯৪৪ সালের ১ জানুয়ারি কিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলার কামালপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজ থেকে আই.এ ও বি.এ ডিগ্রি এবং ঢাকার সেন্ট্রাল ল’ কলেজ থেকে এলএলবি ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর তিনি আইন পেশায় নিয়োজিত হন এবং ১৯৯০ থেকে ১৯৯৬ সময়কাল পর্যন্ত পাঁচবার কিশোরগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

আবদুল হামিদের রাজনৈতিক জীবন শুরু ১৯৫৯ সালে তৎকালীন ছাত্রলীগের যোগদানের মাধ্যমে। ১৯৬১ সালে কলেজে অধ্যয়নকালে তিনি আইয়ুববিরোধী আন্দোলনে অংশ নেন। ফলে তৎকালীন পাকিস্তান সরকরা তাকে কারারুদ্ধ করে। ১৯৬৩ সাল তিনি কিশোরগঞ্জের গুরুদয়াল কলেজহ ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক এবং ১৯৬৫ সালে সহ-সভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। ১৯৬৯ সালে তিনি আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

আবদুল হামিদ ১৯৭০ সালে ময়মনসিংহ-১৮ আসন থেকে পাকিস্তান জাতীয় পরিষদে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হন। তখন তিনি মাত্র ২৬ বছরের যুবক। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন এবং ভারতের মেঘালয় রিক্রুটিং ক্যাম্পের চেয়ারম্যান ও তৎকালীন সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ জেলার বাংলাদেশ লিবারেশন ফোর্স (মুজিব বাহিনী) এর সাব সেক্টর কমাকন্ডার পদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ অনুষ্ঠিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-৫ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এরপর ১৯৮৬ সালে তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচ, ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচন, ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচন, ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং সবশেষ ২০০৮ সালে অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ সপ্তম জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচতি হন এবং ২০০১ সালের ১১ জুলাই থেকে ওই বছরের ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করেন।  অষ্টম জাতয়ী সংসদে তিনি বিরোধী দলীয় উপনেতা ছিলেন এবং ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকার গঠন করলে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো স্পিকার নির্বাচিত হন। আর সম্প্রতি দেশের উনিশতম রাষ্ট্রপতি মো. জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।