রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
রবিবার, অক্টোবর 24, 2021
spot_img
Homeজেলা৪ দিনেও সেচখাল মেরামত হয়নি শৈলকুপায় ৭ হাজার হেক্টর বোরো হুমকির মুখে

৪ দিনেও সেচখাল মেরামত হয়নি শৈলকুপায় ৭ হাজার হেক্টর বোরো হুমকির মুখে

চার দিনে পার হলেও শৈলকুপা উপজেলার চরবাখরবা গ্রামে জিকে প্রকল্পের সেচখাল মেরামত না হওয়ায় এলাকার প্রায় ৭ হাজার হেক্টর আবাদী জমি হুমকিতে পড়েছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে আধা-পাকা বোরো ধান ও রোপা আউশের বীজতলা। কৃষি অফিস সূত্র জানায় এ মৌসুমের আবাদী বোরোর ফলন কম এবং বাড়ন্ত বীজতলা চরম ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। পাউবো’র শাখা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম বলেন, সারুটিয়া অংশে জিকে প্রধান সেচখাল ভেঙ্গে যাওয়ার পর স্থানীয় জনরোষে পড়ে তারা জরুরী ভিত্তিতে কাজ করতে পারছেন না, ইতমধ্যে তাদের কার্যসহকারীকে মারধর করা হয়েছে। তাছাড়া পানি বন্ধ থাকায় ফেস-১ এর আওতায় থাকা শৈলকুপা ও মাগুরা জেলার শ্রীপুর অংশের চাষীরাও ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। কৃষকদের পক্ষ নিয়ে প্রভাবশালী এক ঠিকাদার জনতা উস্কে দিয়ে পরোক্ষভাবে এলাকার কৃষকদের চরম ক্ষতি করেছেন বলে পাউবো’র এক কর্মকর্তা জানান। পাউবো কর্তৃপক্ষ হামলার ভয়ে সেচখাল মেরামত করতে পারছেন না বলে জানা গেছে। শৈলকুপা শাখা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম জানান, শৈলকুপাসহ গোটা কুষ্টিয়া জোনের আওতায় ফেস-১ ও ফেস-২ এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের টেন্ডার এবং কোটেশনের বিভিন্ন কাজ ছাড়াও নানাবিধ সুযোগ-সুবিধাভোগী এক শ্রেণীর ঠিকাদার রয়েছে। যাদের সাথে কর্তৃপক্ষের দু’একজনের সাথে নিবিড় সখ্যতা গড়ে উঠেছে। এ সুবাদেই শৈলকুপার প্রভাবশালী ঠিকাদার মতিয়ার রহমান ও কার্যসহকারী মোশারফ হোসেনের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে। গত মৌসুমে প্রধান সেচখাল মেরামতের একটি প্রকল্পে ঠিকাদার মতিয়ার রহমানকে তুলে দিয়ে জোরপূর্বক কাজ করেছিল কার্যসহকারী মোশারফ হোসেন। তারই জের ধরে গত ২৬ এপ্রিল সারুটিয়া ইউনিয়নের চরবাখরবা গ্রামের প্রধান সেচখাল মেরামত করতে গিয়ে মরধর খায় মোশাররফ। শাখা কর্মকর্তা সুলতান আহম্মেদ অবিযোগ করেন, ঠিকাদার মতিয়ার ঘটনাস্থলে থাকলেও বড় অংকের বাজেট লুটতে নানাভাবে হয়রানি ও জরুরীভিত্তিতে মেরামত কাজ করার হীন উদ্দেশ্যে ক্ষতিগ্রস্থ চাষীদের এখনও উস্কে দিয়ে মিছিল মিটিং করাচ্ছেন। জানা গেছে সেচখাল ভাঙ্গার ঘটনায় শৈলকুপা অংশের প্রায় ৭ হাজার হেক্টর বোরো ও রোপা আউশের বীজতলা ব্যাপকভাবে হুমকির মুখে পড়েছে। বাড়ন্ত ও পাকা-আধাপাকা ঢেউ খেলানো ধানের মাঠে ফলন বিপর্যয়ের পাশাপাশি রোপা আউশের বীজতলা নষ্টের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে অফিস সূত্র জানা গেছে। শৈলকুপা পাউবো শাখা কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম ও সুলতান আহম্মেদ জানান, সারুটিয়া অংশে প্রধান সেচখাল ভেঙ্গে এলাকার চাষীদের অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে তবে দ্রুত খাল মেরামত করে পানি সরবরাহ করতে না পারলে অন্যান্য এলাকার চাষাবাদ ব্যহত হবে। কিন্তুু এ দূর্ঘটনাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জটিলতা নিরসন না হওয়া পর্যন্ত তারা এলাকায় যেতে পারছেন না। ক্ষতিপূরনের দাবিতে কৃষকেরা মিছিল-মিটিং, বিক্ষোভ-মানববন্ধনসহ হামলার হুমকি অব্যাহত রেখেছে ফলে এ মুহুর্তে জরুরী কাজ করা ব্যহত হচ্ছে। শৈলকুপা কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষিবিদ বিজয় কৃষ্ণ হালদার বলেন, ঠিকমত পানি সরবরাহ হলে বোরো ধানের ফলন ভাল হয়। তাছাড়াও সেচখাল ভাঙ্গার বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে রোপা আউশ মৌসুমের উপর। যে চাষে এবছর সরকার ভর্তুকি দিয়েছে। অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ঠিকাদারদের কারসাজি কিংবা অবহেলার কারনে জরুরী সেচখাল মেরামত ও পানি সরবরাহ না হলে শৈলকুপার বহু কৃষক ক্ষতিগ্রস্থ হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

RELATED ARTICLES
- Advertisment -spot_img

Most Popular

Recent Comments