বাবুনগরীর কাছ থেকে জোর করে জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে: আল্লামা শফী

হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা আহমদ শফী বলেছেন নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতির কারণে হেফাজতের ৫ মের সমাবেশে যেতে পারেননি , এ জন্য বারবার প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল, রাতের বেলায় নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতিতে এতগুলো মানুষকে ছেড়ে দেয়া যায় না। ভোরেই সমাবেশস্থলে গিয়ে মুনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘোষণা করবেন তিনি।

একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, হেফাজতের মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরীর কাছ থেকে জোর করে বিভ্রান্তিমূলক জবানবন্দি আদায় করা হয়েছে।

বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর ১৬৪ ধারায় প্রদত্ত জবানবন্দিকে উদ্ধৃত করে যে খবর প্রকাশিত হয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে বুধবার সন্ধ্যায় দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি এই দাবি করেন।

হেফাজতের বিরুদ্ধে সরকার পতনের অভিযোগ সঠিক নয় দাবি করে আল্লামা শফী বলেন, “হেফাজতে ইসলাম কোনো রাজনৈতিক দল বা গোষ্ঠীর এজেন্ডা বাস্তবায়ন বা কাউকে ক্ষমতা থেকে নামানো বা বসানোর জন্য ঢাকা অবরোধ করেনি। কারণ, হেফাজতে ইসলাম ঈমান-আকিদাভিত্তিক সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটি সংগঠন। শান্তিপূর্ণ উপায়ে ১৩ দফা দাবি আদায়ই আমাদের আন্দোলনের একমাত্র লক্ষ্য ছিল।”

তিনি হেফাজতের কর্মসূচিতে ১৮ দলের জোট বা অন্য কোনো দল থেকে অর্থ জোগানের দাবি নাকচ করে বলেন, “ঈমান-আকিদার তাগিদেই দেশের আলেম সমাজ ও তৌহিদি জনতা নিজ নিজ উদ্যোগে হেফাজতে ইসলামের কর্মসূচিতে শকিক হন।”

বিবৃতিতে শাহ আহমদ শফী বলেন, “৫ মে ঢাকা অবরোধ কর্মসূচি বাস্তবায়নের আগে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির চূড়ান্ত বৈঠকে ঢাকা অবরোধ-পরবর্তী মহাসমাবেশ ওই দিনই নির্ধারিত সময়ে শেষ করার বিষয়টা ঠিক করা ছিল। কিন্তু দুপুর দুইটার পর থেকে হেফাজতকর্মীরা রাজধানীতে সন্ত্রাসী হামলা ও হতাহতের শিকার হওয়ার পর যে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল, তাতে সেদিন আমার পক্ষে মহাসমাবেশে শরিক হওয়ার ক্ষেত্রে চরম নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল।”

তিনি বলেন, “ওই পরিস্থিতিতে আমার পক্ষ থেকে বারবার প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল যে, রাতের বেলায় চরম নিরাপত্তাহীন পরিস্থিতিতে এতগুলো মানুষকে ছেড়ে দেয়া যায় না। ভোরেই সমাবেশস্থলে গিয়ে মুনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘোষণা করা হবে। সুতরাং পরদিন হেফাজতের অবস্থানকারী নেতা-কর্মীদের বিএনপির নেতা ও ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার খাবার সরবরাহ করার কথা ছিল বলে যা বলা হচ্ছে, তা একেবারেই অমূলক।”

বিবৃতিতে বলা হয়, “৫ মে ঢাকায় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের সঙ্গে কারা জড়িত ছিল, তার সচিত্র প্রতিবেদন বিভিন্ন জাতীয় পত্রিকায় একাধিকবার প্রকাশিত হয়েছে। কারা এসবের সঙ্গে জড়িত, তা জাতি ভালোভাবেই জানেন।”

আল্লামা শফী বলেন, “হেফাজতে ইসলামের কোনো নেতাকর্মী আমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে ছিলেন না। আমাকে জানানো ছাড়া কোনো কর্মসূচি নির্ধারণ ও বাস্তবায়নের ক্ষমতাও কাউকে দেয়া হয়নি।” আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর কাছ থেকে রিমান্ডে জোর করে বিভ্রান্তিমূলক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়েছে বলে আল্লামা শফী দাবি করেন।

তিনি হেফাজতের কর্মীদের বিরুদ্ধে দমনপীড়ন, জবরদস্তিমূলক তৎপরতা ও হামলা-মামলা বন্ধ করে হেফাজতে ইসলামের ১৩ দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

দেশের অনেক মাদরাসা এখনো বন্ধ রয়েছে, অনেক মসজিদের ইমাম-খতিব হামলা ও গ্রেফতারের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন উল্লেখ করে বিবৃতিতে আল্লামা শফী বলেন, “ওলামায়ে কেরাম, মাদরাসার ছাত্র ও তৌহিদি জনতাকে তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালাতে দিতে হবে। এটা তাদের সাংবিধানিক নাগরিক অধিকার। এই অধিকার নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্রের।” দেশব্যাপী উলামায়ে কেরাম ও তৌহিদি জনতার বিরুদ্ধে দায়ের করা সব মামলা প্রত্যাহার করে সরকার দেশের শান্তিশৃঙ্খলা ও স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আলামা শফী হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব ও দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসার মুহাদ্দিস আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীকে মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, “তিনি কখনো প্রচলিত রাজনীতি ও সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ছিলেন, এটা কেউ বিশ্বাস করবে না।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।