মওদুদ নিজে ধরা খাইছেন, জিয়ারেও ধরা খাওয়াইছে,বাকি দলকে খাওয়ানো: সুরঞ্জিত

আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও দপ্তর বিহীনমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেন গুপ্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের কড়া সমালোচনা করেছেন । তিনি বলেন, ‘কর্নেল তাহেরের রায় নিয়ে বিপাকে বিএনপি। উকিল-মোখতাররা সব সময় ধরা খায়। এখন বিএনপির এক ব্যারিস্টার ধরা খাইছে।’ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরে বঙ্গবন্ধু একাডেমির এক আলোচনা সভায় সুরঞ্জিত সেন এসব মন্তব্য করেন। তিনি আরো বলেন, ‘মওদুদ সাহেব নিজে ধরা খাইছেন, জিয়ারেও ধরা খাওয়াইছে। এখন শুধু তার দলকে ধরা খাওয়ানো বাকি।’

‘খালেদাকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি মওদুদকে রাখবেন, না মৃত জিয়াকে রাখবেন?’ যোগ করেন উপদেষ্টা পরিষদের এই প্রবীণ সদস্য।

সুরঞ্জিত সেন বলেন, ‘ব্যারিস্টার মওদুদ তার লেখা দুটি বইয়ে কর্নেল তাহেরের রায় নিয়ে যে বর্ণনা দিয়েছেন, তার মাধ্যমেই তিনি ধরা খেয়েছেন। ধরা খাওয়ার পর বুধবার তিনি এর ব্যাখ্যা দিয়েছেন।’

যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন আর ব্যাখ্যা দিয়ে লাভ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সুরঞ্জিত জানান, ‘আদালত জিজ্ঞেস করেছেন, ‘আপনি (মওদুদ) আপনার বইয়ে যা লিখেছেন, তা কি ঠিক? তখন মওদুদ সাহেব জ্বি, ঠিক, ঠিক, ঠিক- তিনবার বলেছেন। আদালতকে দেয়া তার এ বক্তব্যের পর আর এখন ব্যাখা দেওয়ার দরকার নেই।’

সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞার ব্যাপারে সরকারের এ দপ্তর বিহীনমন্ত্রী বলেন, ‘গণতন্ত্রের মূলশক্তি বাকস্বাধীনতা। কথা বলার স্বাধীনতা না থাকলে গণতন্ত্র থাকে না। সভা-সমাবেশ সবার সাংবিধানিক অধিকার। সভা-সমাবেশ করার অধিকার অতীতে ছিল, এখনো থাকবে।’

তিনি বলেন, ‘যত কথাই বলেন আওয়ামী লীগ জরুরি অবস্থার রাজনীতি করে না। তবে মিটিং করার অধিকার যেমন তাদের আছে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বিধান করাও সরকারের দায়িত্ব।’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে সুরঞ্জিত বলেন, ‘সভা-সমাবেশ বিষয়ে সংবিধানের ধারা ৩৮ এ বর্ণনা আছে। এ বর্ণনাটাই গুছিয়ে বলতে গিয়ে এক উজির এভাবে বলে, অন্য উজির ওভাবে বলে। কথা একটাই, আইনের বিধি-বিধান লক্ষ রেখে সবাই সভা-সমাবেশ করতে পারবে।’

আলোচানার বিষয়ে তিনি বলেন, আলোচনার জন্য আওয়ামী লীগ ও মহাজোট সরকার সব সময় প্রস্তুত। তবে আলোচনা হবে শর্তহীন। শর্ত দিয়ে আলোচনা হয় না।

আওয়ামী লীগের এই প্রবীণ নেতা বলেন, আলোচনার বিষয় হবে- অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন। তত্ত্বাবধায়ক আর অন্তর্বর্তী সরকারের কথা বলে লাভ নেই। আমাদের লক্ষ সুষ্ঠু নির্বাচন। নির্বাচনকালীন যে সরকার প্রশাসন চালাবে, তারাই হবে তত্ত্বাবধায়ক।’

সংগঠনের উপদেষ্টা হাজি সেলিমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় কৃষক লীগের সহ-সভাপতি এমএ করিম, আসাদুজ্জামান দুর্জয়, মীর আখতার হোসেন প্রমুখ বক্তৃতা করেন।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।