রায়পুরে ব্যবসায়ীকে মারধর-কামড়িয়ে জখম করলেন জিয়া পরিষদের সভাপতি

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি জিয়াউল হক জিয়ার (৪০) বিরুদ্ধে ফিরোজ আলম নামের এক ব্যবসায়ীকে মারধর ও কামড়িয়ে মারত্মক জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও জিয়া হায়দরগঞ্জ তাহেরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার কম্পিউটার শিক্ষকের পদে চাকরী করছেন।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২২ মে) রাত ১০টায় বামনী ইউনিয়নের খায়েরহাট বাজারের নির্জন স্থানে। জিয়া নিজ এলাকার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হতে না পারায় এ কান্ড ঘটান।
স্থানীয় লোকজন আহত ব্যবসায়ীকে উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) দুপুরে ওই ব্যবসায়ীর পরিবারের লোকজন থানায় মামলার প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ঢাকার ব্যবসায়ী ফিরোজ আলম জানান, বুধবার সকালে চরবামনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির নির্বাচন হয়। সভাপতি পদে স্থানীয় খান বাড়ির ইউপি সদস্য মোঃ মিরন, মোঃ জবি উল্যা, জিয়াউল হক জিয়া এবং বামনী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক মাহবুবুর রহমান প্রার্থী হন। এতে স্থানীয় নুরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে ৫ গণ্যমান্য ব্যক্তি সংশ্লিষ্ট সকলের সম্মতিক্রমে শিক্ষক মাহবুবুর রহমানকে সভাপতি পদে নির্বাচিত করেন। ওই শিক্ষকের পক্ষে তিনি কাজ করায় বুধবার রাত ১০টায় জিয়াউল হক জিয়ার নেতৃত্বে ৫/৬ সন্ত্রাসী তাকে বাড়ি থেকে  রাতের আধারে ডেকে নির্জন স্থানে নিয়ে অমানুবিক নির্যাতন করে। এতে আমি চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। পরে জ্ঞান ফিরে এলে দেখি সরকারি হাসপাতালে ভর্তি রয়েছি। এ ঘটনায় আমার পরিবার থানায় মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
যোগাযোগ করা হলে উপজেলা জিয়া পরিষদের সভাপতি ও হায়দরগঞ্জ তাহেরিয়া ফাজিল মাদ্রাসার কম্পিউটার শিক্ষক জিয়াউল হক জিয়া বলেন, তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে ফিরোজ আলমের সাথে আমার কথা কাটাকাটি হয়েছে। তাকে সামান্য মারধর করেছি বলে ফোনটি কেটে দেন।
প্রত্যক্ষদর্শী বামনী ইউপি সদস্য মোঃ মিরন মোবাইলফোনে জানান, আমি ও জিয়াউল হক জিয়াসহ তিনজন একই বাড়ির ওই বিদ্যালয়ের সভাপতি পদে প্রার্থী হই। কিন্তু সাবেক পরিচালনা কমিটির সভাপতি সদস্যগণ, শিক্ষক ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সর্বসম্মতিক্রমে স্থানীয় উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি পদে মনোনীত করা হয়। ওই পদ না পাওয়ায় এতে ক্ষিপ্ত জিয়াউল হক জিয়া ওই বৃদ্ধ ব্যবসায়ীকে মারধর ও কামড়িয়ে জখম করে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।