তত্ত্বাবধায়ক মানতে সরকারকে বাধ্য করা হবে: খালেদা

আওয়ামী লীগকে সংখ্যালঘু আখ্যায়িত করে বিএনপি চেয়ারপারসন ও বিরোধী দলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, এই দেশের ৯০শতাংশ মানুষ গন দাব নির্দলীয় তত্ত্বাবাধায়ক সরকার মাধ্যমে নির্বাচন। আওয়ামী লীগকে এ দাবি মানতে বাধ্য করা হবে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টায় গুলশান বিএনপির দলীয় কার্যারলয়ে ২০১৩ বুদ্ধ পূর্ণিমা উপলক্ষে বাংলাদেশের বৌদ্ধ সমপ্রদায়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য, বিএনপির সহ-ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক ও রাঙ্গামাটি জেলা সভাপতি অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান। সুভেচ্ছা বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. সুকোমল বড়ুয়া্।

উপস্থিত ছিলেন, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, ব্রিগেডিয়ার জে. আসম হান্নান শাহ, ড. আব্দুল মঈন খান, গয়েম্বর চন্দ্র রায়, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আর নোমান, সাবেক মন্ত্রী এম মোর্মেদ খান, সাবেক মন্ত্রী গৌতম চক্রবর্তী, চট্রগ্র্রাম বিভাগ বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী আকবর হোসেন, বৌদ্ধ কল্যাণ ট্রাস্টের সাবেক সদস্য সুশীল বড়ুয়া, চন্দ্রগুপ্ত বড়ুয়া, সনদ কুমার তালুকদার, চট্রগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি উদয় কুসুম বড়ুয়া।

খালেদা জিয়া বলেন, “আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না। তাদের গুন্ডাবাহিনীর প্রত্যেকের হাতে রয়েছে অস্ত্র। সঙ্গে আছে দলীয় পুলিশ। এরা সাধারণ মানুষকে কেন্দ্রে যেতে দেবে না। পাঁচ মিনিটের মধ্যেই সব ভোট তুলে নিয়ে যাবে।”

তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ থেকে সাবধান। এদের হাত থেকে বাঁচার জন্য সামনের কর্মসূচিতে সফলভাবে অংশগ্রহণ করতে হবে।”

বেগম জিয়া অভিযোগ করে বলেন, “সরকার সর্বস্তরে দলীয়করণ করেছে। সিভিল প্রশাসনে, পুলিশে দলীয় লোকদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বিচার বিভাগেও দলীয় লোক নিয়োগ দিয়েও ক্ষান্ত হয় নাই, সেখানে নির্দেশ দেয়া হচ্ছে কার কতদিন রিমান্ড নেয়া হবে, কে কতদিন জেলে থাকবে। সর্বশেষ নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচন কমিশন সরকারের কথামতই চলে। সুতারং এই কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে না।”

পদ্মা সেতুর প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, “প্রধানমন্ত্রী পদ্মাসেতুর দুর্নীতির জবাব দেন। শুধু টেলিভিশনে বললেই হবে না। এই দুর্নীতিবাজ, খুনি সরকারের হাতে বাংলাদেশ নিরাপদ নয়। সুন্দর সুন্দর কথা বললেই হবে না। সঠিক সময়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে আপনাদেরই মাশুল দিতে হবে।”
খালেদা জিয়া বলেন, “সরকার মিডিয়াকে নিয়ন্ত্রণ করছে। ভিন্নমতকে সহ্য করতে না পেরে মিডিয়াকে চাপ প্রয়োগ করছে। যারা সাহস করে প্রচার করছে তাদের বন্ধ করে দিচ্ছে। হেফাজতে অবস্থান কর্মসুচি সরাসরি দেখানোর কারণে দুটি টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করে দিয়েছে। আওয়ামী লীগ ৫ মে হেফজতের অবস্থানে নিরাপরাধ আলেমদের হত্যা করে অন্যদের ওপর দোষ চাপাচ্ছে। এটাই তাদের অভ্যাস।”
তিনি আরো বলেন, “সংখ্যালঘু বলতে কিছুই নাই। আমাদের সবার একটাই পরিচয় আমরা সবাই মানুষ। যার যার ধর্ম নিজ নিজ ভাবে পালন করবে। নির্বচনী ওয়াদা ভঙ্গ করে আওয়ামী লীগ সবচেয়ে বেশি অত্যাচার নির্যাতন করেছে সংখ্যালঘুদের ওপর। আগেও তারা অত্যাচার করেছে। এবার ক্ষমতায় এসে এ অত্যাচারের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।”
রামুর ঘটনা তদন্ত করে বিএনপি সঠিক প্রতিবেদন দিয়েছে। আর সরকার এখোনো কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারেনি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বৌদ্ধ সাংস্কৃতিক ফোরাম থেকে খালেদা জিয়াকে ক্রেস্ট প্রদান করা হয়।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।