শিক্ষিকা মাহবুবা’র কাণ্ড: সোশ্যাল মিডিয়ায় কড়া সমালোচনা

রাজধানীর সনামধন্য উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নিয়ম মানাতে জোর করে শিক্ষার্থীদের ইউনিফর্মের হাতা কেটে দেওয়ার ঘটনায় সোশ্যাল মিডিয়ায় তোলপাড় হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা খানম কল্পনার কড়া সমালোচনা করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত করে তাকে বিচারের মুখোমুখি করারও দাবি উঠেছে। অনেকক্ষেত্রে বিরূপ প্রতিক্রিয়াও দেখা গেছে।

এদিকে, বিভিন্ন ইসলামী দল এ ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন। তারা শিক্ষার্থীদের জামার ফুলহাতা কেটে দেওয়ার ঘটনাকে ধর্মীয় অনুশাসনের ওপর আঘাত এবং সংবিধান লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন।

আদনান ফয়সাল নামে এক সাংবাদিক তার ফেসবুক প্রোফাইলে লিখেছেন, ‘উদয়ন এর এমন একটি ঘটনায় আমাদের তথাকথিত নারীবাদীরা কোথায়? শুধু ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে কেন, মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই এ কাজটি কতটা যুক্তিসংগত…কী অদ্ভূত!!!’

খান কামরুল আযাদ লিখেছেন, ‘কল্পনার শাস্তি হওয়া দরকার। ইসলামী সংস্কৃতি পালনের ব্যাপারে কিছু বলার অধিকার তার নেই।’

তবে এ নিয়ে ভিন্ন মতও দেখা গেছে। একাত্তর টিভির সংবাদের পরিচালক সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা এ ধরনের একটি পোস্টে মন্তব্য করেছেন, ‘কাজটি তিনি উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ভাইস প্রিন্সিপাল হিসেবে না মন্ত্রীর স্ত্রী হিসেবে করেছেন? স্কুলের নিয়ম যদি হয় হাফ হাতা জামা পড়া, তাহলে মুসলিমের দোহাই স্কুলের আইন না মানা কী ঠিক? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উদয়ন বিদ্যালয়ের অভিভাবক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বক্তব্য কোথায়? এই সংবাদটি রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক উস্কানি আছে।’

সামহোয়ারইন ব্লগেও এই খবর নিয়ে তোলপাড় হয়েছে। বেশিরভাগ পোস্ট ও মন্তব্যে জোর করে শিক্ষার্থীদের জামার হাতা কেটে দেওয়ার ঘটনায় সহকারী প্রধান শিক্ষিকার সমালোচনা করা হয়েছে। অনেকে তার বরখাস্ত দাবিও করেছেন।

আমানুল হক আই এস নামে এক ব্যবহারকারী মন্তব্যে বলেছেন, ‘অবশ্যই নিন্দনীয়… কিন্তু একটা জিনিস বুঝলাম না নিউজের হেড লাইন উদয়ন স্কুলে ‘মন্ত্রীর স্ত্রী’ কেন? উনি তো ‘মন্ত্রীর স্ত্রীর’ হিসেবে এই কাজ করে নাই। একজন অধ্যক্ষ হিসেবে করেছেন, একজন শিক্ষক হিসেবে করেছেন। এই প্রফেশনকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। তার উপযুক্ত শাস্তির দাবি করছি।’

আর একই ব্লগে জুবায়ের ১২ এক মন্তব্যে এ ঘটনায় নারীবাদীদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি লিখেছেন, ‘কোথায় এখন নারীবাদীরা? কোথায় এখন বাকস্বাধীনতা? কোথায় এখন মানবাধিকার?’

টুডে ব্লগের পোস্টে আবদুর রাহীম মন্তব্য করেছেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান যেহেতু প্রতিটি নাগরিককে তার ধর্ম পালনের স্বাধীনতা দিয়েছে, সেখানে মন্ত্রীর স্ত্রী ধর্মপালনের অধিকার কেড়ে নিয়ে সংবিধান বিরোধী রাষ্ট্রদোহমূলক কাজ করেছেন।’

একই ব্লগে অরনি বড়ুয়া লিখেছেন, ‘আমি উদয়ন এ পড়ালেখা করেছি। কল্পনা ম্যাডাম অনেক আগে থেকেই এমন অটোক্রেটিক ব্যবহার করে আসছেন। টিচার-স্টুডেন্ট সবাইকে অহেতুক গালাগাল করেন। কোচিং করতে এবং মডেল টেস্ট দিতে বাধ্য করেন।’

এদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শিক্ষার্থীদের ফুলহাতা কেটে মন্ত্রীর স্ত্রী সংবিধান লঙ্ঘন করেছেন বলে বিবৃতি পাঠিয়েছে।

এতে ফুলহাতা জামাকে একটি সামাজিক পোশাক উল্লেখ করে বলেছে, ‘এটি কোনো ধর্মীয় পোশাক নয়। সরকার একদিক ধর্মীয় স্বাধীনতা ও অধিকারের নামে ধর্মনিরপেক্ষতা চালু করেছে। অন্যদিকে ধর্মের অবমাননা করছেন। এটা কোনোভাবে মেনে নেওয়া যায় না।’

এতে অবিলম্বে প্রতিষ্ঠানটির প্রিন্সিপাল ড. উম্মে সালেমা ও সহকারী প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা খানম কল্পনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করা হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের জামার হাতা কাটার নিন্দা জানিয়েছেন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা শাহ আহমাদুল্লাহ আশরাফ।

বৃহস্পতিবার দুপুরে কামরাঙ্গীরচরে অনুষ্ঠিত এক সভায় তিনি এই নিন্দা জানান।

আশরাফ বলেন, ‘জামার হাতা কেটে দেওয়া ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত এবং সংবিধানের লঙ্ঘন। ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশে ইসলামবিরোধী কাজ করে কেউ রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় টিকে থাকতে পারবে না। এতে সরকারই ক্ষতিগ্রস্ত হবে।’

তিনি উদয়ন স্কুলের শিক্ষিকা মাহবুবা নাসরিন কল্পনাকে গ্রেপ্তার করে শাস্তির দাবি করেন।

সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- মহাসচিব মাওলানা মুহাম্মদ জাফরুল্লাহ খান, মাওলানা হাবিবুল্লাহ মিয়াজী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মাওলানা সাইফুল ইসলাম, মাওলানা হাফেজ আবু তাহের প্রমুখ।

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার সকালে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে ফুলহাতা পরে আসা শিক্ষার্থীদের জামার হাতা জোর করে কেটে দেন উদয়ন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা খানম।

এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরা উদ্বেগ প্রকাশ করে। সে সময়ে পোশাকের হাতা কেটে দেওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে কান্নাকাটি করতে থাকে।

প্রসঙ্গত, সহকারী প্রধান শিক্ষকা মাহবুবা খানম সরকারের শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজু স্ত্রী।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।