উদয়নে অভিভাবক তোপে প্রিন্সিপাল, চলে যেতে বাধ্য হলেন ঢাবি ভিসি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের উদয়ন স্কুল অ্যান্ড কলেজে জোর করে শিক্ষার্থীদের জামার হাতা কেটে দেওয়ার ঘটনায় রবিবার রাতে অভিভাবকরা বিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল ড. উম্মে সালেমা বেগমকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে তিনি প্রশাসনের কাছে সাহায্য চাইলে স্বামীর সহায়তায় বিদ্যালয় থেকে দুই ঘণ্টা পর রাত পৌনে ১১টার দিকে নিরাপদে বের হয়ে যান বলে জানা গেছে।

তবে শিক্ষার্থীদের জামার হাতা কাটার ঘটনার মূলহোতা বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষিকা মাহবুবা খানম কল্পনার বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি পরিচালনা পর্ষদ।

এর আগে উদ্ভুত পরিস্থিতিতে রবিবার রাত ৮টায় বিদ্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের সভা ডাকা হয়। সেখানে বিদ্যালয়ের অভিভাবক হিসেবে ঢাবি ভিসি অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক উপস্থিত ছিলেন।

পর্ষদ সভা সূত্র জানায়, সভায় হাতা কাটার ঘটনায় একটি তদন্ত কমিটি গঠনের কথা জানান ঢাবি ভিসি অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক। এ সময় তিনি চুক্তিভিত্তিতে বর্ধিত মেয়াদে থাকা শ্রম ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী রাজিউদ্দিন আহমেদ রাজুর স্ত্রী মাহবুবা খানম কল্পনার চাকরি স্থগিতের কথা বলেন।

তবে ভিসির দাবির সঙ্গে পরিচালনা পর্ষদের অভিভাবক প্যানেলের সদস্যরা কল্পনা ম্যাডামের চাকরির বর্ধিত মেয়াদ বাতিল এবং তাকে এই কাজে প্ররোচনা দেওয়ার দায়ের প্রিন্সিপাল উম্মে সালেমা বেগমের বরখাস্তের দাবি জানান।

এ সময় সভায় উম্মে সালেমা বেগম মাহবুবা খানমের চাকরির বর্ধিত মেয়াদ বাতিল করতে আপত্তি জানান। তিনি দাবি করেন, তার চাকরি চলাকালীন একটি তদন্ত কমিটি করে ঘটনার তদন্ত করা হবে।

তার এই প্রস্তাবে ঢাবি ভিসিসহ সভার বেশিরভাগ সদস্য আপত্তি জানালেও উম্মে সালেমা বেগম তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন। এক পর্যায়ে এ নিয়ে সভার মধ্যেই হট্টগোল শুরু হয়। ভিসি আরেফিন সিদ্দিক পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হয়ে বের হয়ে চলে যান। এরপর তাকে বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও আর সভার বৈঠকে আনতে পারেননি পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা।

এরই মধ্যে প্রিন্সিপাল উম্মে সালেমার পদত্যাগ এবং মাহবুবার শাস্তি দাবিতে বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়া অভিভাবদের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে তারা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

এ সময় অভিভাবকরা তাকেসহ কেজি মোস্তফা নামের আরেক শিক্ষককে অপসারণের দাবিতে প্রিন্সিপাল উম্মে সালমাকে তালাবদ্ধ করে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। প্রিন্সিপালের কক্ষের বাইরে অবস্থান নিয়ে তারা বিক্ষোভ করতে থাকেন।

এক পর্যায়ে প্রিন্সিপাল প্রশাসনের সাহায্য টাইলে পুলিশ এসে তাকে উদ্ধার করে স্বামীর কাছে তুলে দেন এবং রাত পৌনে ১১টার দিকে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দেয়।

এ সময় অভিভাবকরা আগামীকাল সোমবার সকালে বিদ্যালয়ের সামনে মানববন্ধনসহ অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করে।

মাহবুবা খানম কল্পনার চাকরির মেয়াদ তিন বছর আগেই শেষ হয়েছিল। এরপর দুই দফায় তার চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়। সর্বশেষ তিনি সহকারী প্রধান শিক্ষিকার পদে দায়িত্বরত ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।