কুমিল্লায় আছমা হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবীতে মানববন্ধন

রবিবার কুমিল্লার সদর দক্ষিন কাজের মেয়েকে হত্যার প্রতিবাদে ও হত্যাকারীকে গ্রেফতার এবং ফাঁসির দাবীতে মানববন্ধন করেছে এলাকাবাসী।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, উপজেলার কনকশ্রী গ্রামের জাকির হোসেনের মেয়ে আছমা আক্তার (১৪)কে অবৈধ গর্ভপাত করার পর হত্যা করে টাকার বিনিময়ে ঘাতকদের বাঁচাতে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে একটি প্রভাবশালী মহল। এদিকে কাজের মেয়ে আছমা হত্যার তিন মাস অতিবাহিত হওয়ার পরও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা না নেয়ায় গতকাল রবিবার স্থানীয় এলাকাবাসী উপজেলার দরবেশ পাড়া বাজারে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ার পর ঘাতকরা গা ঢাকা দিয়ে এলাকা ছেড়ে পালিয়েছে। জানা যায়, দেড় বছর আগে হতভাগি আছমা কনকশ্রী গ্রামের আবদুল আজিজের স্ত্রী হাজেরা বেগম ওরফে খালাম্মা কবিরাজের বাসায় মাসিক ৫’শ টাকা বেতনে গৃহপরিচারিকার কাজ নেয়। খালাম্মা কবিরাজের বড় ছেলে মিজানুর রহমান (৪০) বিভিন্ন প্রলোভনে ওই মেয়ের সাথে অনৈতিক ভাবে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তোলে। এতে আছমা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। ৫ মাস পর বিষয়টি জানাজানি হলে গত ১৩ ফেব্রুয়ারী লম্পট মিজানসহ তার পরিবারের লোকজন ৬ হাজার টাকা চুরি করার অপবাদ দিয়ে আছমাকে বেদম মারধর করে এতে ঘটনাস্থলেই আছমার মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর লম্পট মিজানের স্ত্রী কাজল বেগম, ছোট ভাই মাছূম বিল্লাহ ও তার মা হাজেরা বেগম আছমাকে ওড়না পেচিয়ে ঘরের ভিতর ঝুলিয়ে রেখে আত্মহত্যা বলে এলাকায় প্রচার করে। আছমার বাবা জাকির হোসেন মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে মিজানের বাড়ী আসলে মিজানের পরিবারের লোকজন তাকে জানায়, তাঁর মেয়ে আছমা টাকা চুরির করায় তাকে বকাঝকা করার কারনে সে আত্মহত্যা করেছে ।

এদিকে আছমা হত্যার বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে সদর দণি থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। অপরদিকে আছমার পিতা জানান, ঘটনা ধামাচাপা দিতে এলাকার একটি প্রভাবশালী মহল মিজান ও তার পরিবারের কাছ থেকে  ৮ ল টাকা নিয়ে কিছু টাকা থানা পুলিশকে দিয়ে বাকী টাকা ওই প্রভাবশালীরা ভাগবাটোয়ারা করে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করে। এ ঘটনায় পুলিশ প্রশাসন  রহস্যজনক ভাবে নীরব থাকায় জনমনে অসন্তোস দেখা দিয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।