চার সিটিতে নগরপিতা হওয়ার আসল লড়াই শুরু:জামায়াতের প্রাথীতা প্রত্যাহার

প্রায় এক মাস চলেছে রিহার্সেল। রবিবার থেকে শুরু হয়েছে আসল লড়াই। চার সিটির নগরপিতা হওয়ার লড়াই। জাতীয় নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলের জনপ্রিয়তা যাচাইয়ের লড়াই।

শেষ মুহূর্তে এসে রাজশাহী ও সিলেট সিটি থেকে জামায়াতে ইসলামী নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে নেওয়ায় ভোটের ময়দান জমে উঠেছে। হাফ ছেড়ে বেঁচেছে বিএনপি। নির্দলীয় হলেও ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সব সিটিতেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীদের।

আগামী ১৫ জুন ভোটের দিন ঠিক করে গত ২৯ এপ্রিল রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও সিলেট সিটি করপোরেশনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। আজ রবিবার চার সিটিতেই মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের ছিল শেষদিন।

শেষ দিনে এসে সিলেট থেকে জামায়াতের প্রার্থী কারাবন্দি এহসানুল মাহবুব জুবায়েরসহ বিএনপির অন্য প্রার্থীরা তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন। ফলে সেখানে আওয়ামী লীগ সমর্থিত একক প্রার্থী বদর উদ্দীন আহমাদ কামরানের সঙ্গে লড়াই হবে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর।

আরিফুলসহ সিলেটে মেয়র পদে মনোনয়ন জমা দেন বিএনপির চারজন প্রার্থী। কেন্দ্রের মধ্যস্থতায় প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন নাসিম হোসাইন, অ্যাডভোকেট শামসুজ্জামান জামান ও আব্দুল কাইয়ূম জালালি পংকি।

সিলেটের মতো শেষদিনে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করায় রাজশাহীতে ১৮ দলীয় জোটের একক প্রার্থী হিসেবে আছেন বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, বরিশালে আহসান হাবীব কামাল ও খুলনায় মনিরুজ্জামান মনি।

গত ১৬ মে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ১৪ দলের এক বৈঠকে বরিশালে শওকত হোসেন হিরণ, খুলনায় তালুকদার আবদুল খালেক, রাজশাহীতে এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও সিলেটে বদর উদ্দীন আহমাদ কামরানকে ক্ষমতাসীন জোটের সমর্থন চূড়ান্ত করা হয়। তিনটি সিটিতেই তাদের একক প্রার্থী থাকলেও ব্যতিক্রম বরিশাল। সেখানে শওকত হোসেন হিরণের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের আরেক প্রার্থী মাহমুদুল হক মামুন রয়ে গেছেন।

চার সিটির মধ্যে জামায়াত রাজশাহী ও সিলেটে তাদের প্রার্থী দেয়। দুটি অঞ্চলেই জামায়াতের শক্ত অবস্থান রয়েছে। দলটি শেষপর্যন্ত থেকে গেলে ক্ষমতাসীনরা সুবিধা পেতো এবং বিএনপির সঙ্গে কেন্দ্রীয় সংগঠনের টানাপোড়েনের মধ্যে এক পর্যায়ে প্রার্থিতা বহালের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াত।

এরপরই বিএনপি যোগাযোগ শুরু করে। শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় আসার পর গত দুদিনের মধ্যে রাজশাহী ও সিলেট থেকে জামায়াত তাদের প্রার্থীকে প্রত্যাহার করে নেয়। এতে এই দুই সিটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর একচেটিয়া প্রভাব এখন কমে গেছে। ভোটের হিসাব-নিকাষেও পরিবর্তন এসেছে। দুই জোটের মধ্যেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

বরিশালে মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন বিএনপির অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান শাহীন, এবায়দুল হক চাঁন। ফলে মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন আওয়ামী লীগের শওকত হোসেন হিরণ, বরিশাল জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক মেয়র আহসান হাবিব কামাল ও আওয়ামী লীগের আরেক প্রর্থী মাহমুদুল হক মামুন।

খুলনায় মনোনয়ন প্রত্যাহার করেছেন বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী সেকেন্দার জাফরউল্লাহ খান সাচ্চু ও শফিকুল আলম মনা। ফলে প্রার্থী হিসেবে আছেন আওয়ামী লীগ সমর্থিত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক, সাবেক ভারপ্রাপ্ত মেয়র বিএনপি সমর্থিত মনিরুজ্জামান মনি এবং জাতীয় পার্টির শফিকুল ইসলাম মধু। এখানে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তালুকদার আব্দুল খালেক ও মনিরুজ্জামান মনির মধ্যে।

আজ প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ার পর থেকে প্রচারণা আরো জোরদার হবে। আর ২৭ মে প্রতীক বরাদ্দের পর শুরু হবে চূড়ান্ত প্রচারণা। অবশ্য বেশ আগে থেকেই প্রার্থী এবং তাদের স্বজনেরা তাদের নিজ নিজ এলাকায় ভোটারদের বাড়ি বাড়ি ঘুরে সমর্থন চাইতে শুরু করেছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।