ফুলগাজীতে সীমানা প্রাচীর তৈরী করে জলবদ্ধতা সৃষ্টি কৃষকের পাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে

ফেনীর ফুলগাজীতে ফসলি মাঠের পানি নিস্কাশনের পথ বন্ধ করে মাটি ভরাট ও সীমানা প্রাচীর তৈরী করে জলবদ্ধতা সৃস্টি হয়ে এতে কৃষকের পাকা ধান তলিয়ে যাচ্ছে পানির নিচে। সরেজমিনে গিয়ে কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা যায়, দরবারপুর ইউনিয়নের পশ্চিম বসন্তপুর গ্রামের জগতপুর রোডের পাশে ঐ গ্রামের এডভোকেট রুহুল আমিন বসন্তপুর মাঠে জমি কিনে মাটি ভরাট করে এবং সীমানা প্রাচীর তৈরী করায় মাঠের জলবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে ফেনী বিলোনিয়া সড়কের পাশে বসন্তপুরের ৩টি ফসলি মাঠ ও জলবদ্ধ মাঠটি সহ মোট ৪টি মাঠের পানি খাল (ছরা) নিষ্কাশনের একমাত্র পথটি বন্ধ করে দিয়েছে। যার ফলে মাঠে কৃষকের বোরো কাঁচা আধাপাকা ধানগুলো পানির নিচে তলিয়ে যাচ্ছে। এবং কয়েকজন কৃষক তাদের কাঁচা আধাপাকা ধানগুলো কেটে ঘরে তোলেন এবং আগামী কয়েকদিনে অবিরাম বৃষ্টির হলে পানির পরিমাণ বেড়ে সমস্ত মাঠের ধান ডুবে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে। আশপাশের বাড়িঘর রাস্তাঘাটে ক্ষতি হচ্ছে বলে জানান। জলবদ্ধ মাঠের অধিকাংশ জমির মালিক হিন্দু হওয়ায় তারা সাহস করে প্রতিবাদ করতে পারছেন না বলে জানান। গত বছর ও  চলিত বছর অনেক কৃষক জলবদ্ধতার কারণে অনেক কৃষক জমিতে চাষাবাদ করেন নি। জলবদ্ধতার কারণে তারা আগামীতে আমন ও বোরো চাষাবাদ করবেন না বলে জানান। এ ব্যাপারে কৃষকেরা বসন্তপুর ওয়ার্ড মেম্বার বলরাম ঘোষকে বিষয়টি জানালে তিনি বিষয়টি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং এডভোকেট রুহুল আমিনের সাথে যোগাযোগ করার জন্য উনার মোবাইল ফোনে বার বার ফোন করেন। কিন্তু তিনি রিসিভ করেন নি। কৃষকেরা জানান সরকার কৃষি উন্নয়নের জন্য ফুলগাজীতে বিভিন্ন খাল ও ছরা জলবদ্ধতা নিরসনের জন্য সংস্কার করলেও কিন্তু এখানে এক ব্যক্তির কারণে শত একর জমি চাষাবাদের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণের ফলে সমস্ত মাঠের ধান তলিয়ে যাচ্ছে বিধায় কৃষকেরা পার্শ্ববর্তী জমির মালিককে অনুরোধ করে একটি ড্রেন তৈরী করেন। কিন্তু এ ব্যাপারে কৃষক ও স্থানীয় এলাকাবাসী স্থায়ীভাবে পানি নিষ্কাশনের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য আবেদন করছেন।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।