ফেনীতে বিএনপির হরতালে গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ককটেল বিস্ফোরণ: আটক-৩

সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে গ্রেফতারী পরোয়ানার প্রতিবাদে ফেনীতে বিএনপির ডাকা  মঙ্গলবারের সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের মাধ্যমে শেষ হয়েছে। ভোর থেকেই বিভিন্ন সড়কে পিকেটাররা অবস্থান নেয়। হরতালে সকালে শহরের ট্রাংক রোড়ে ছয়টি ককটেলের বিস্ফেরণ ঘটিয়ে আতংক সৃষ্টি করে পিকেটারা। এ সময় সাধারন মানুষ এদিক ওদিক ছুটাছুটি করতে গিয়ে ২জন আহত হয়।
জেলা পুলিশ কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে ফেনী প্রেসকাব ও ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের মহিপালে ২০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় পিকেটাররা। এসময় শহরের জিরো পয়েন্টে ট্রাংক রোডে একটি ফলের ট্রাকে আগুন দেয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের ধাওয়ার মুখে পিকেটাররা পালিয়ে যায়। একই সময় পিকেটাররা মহাসড়কের মহিপাল পুলিশ ফাঁড়ির সামনে একটি মোটর সাইকেলে অগ্নিসংযোগ করে। পুলিশ হরতাল শুরুর পূর্বে ভোরে শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩ জন বিএনপি’র কর্মীকে আটক করেছে।
সকাল ৯টার দিকে শহরের প্রেসক্লাব এলাকায় একটি ট্রাকে ও টায়ারে আগুন দেয় পিকেটারেরা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফতেহপুর নামক স্থানে গাছের টুকরা ফেলে ব্যারিকেড দেয়। প্রায় আধাঘন্টা পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সড়ক অবমুক্ত করে। সকালে এসএসকে সড়কের ফায়ার সার্ভিস সংলগ্ন স্থানে একটি ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করে হরতাল সমর্থকরা। এসময় পরপর দুটি ককটেল বিষ্ফোরণের শব্দ শুনা যায়। মহিপালে বাস সহ কয়েকটি গাড়ী ভাংচুর করা হয়। এখানেও কয়েকটি ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ও ফেনী-মাইজদী মহাসড়কে যান চলাচল করেনি। শহরের রাস্তাঘাটে কিছু সংখ্যক সিএনজি অটোরিক্সা, রিক্সা ও টমটম চলাচল করলেও টাউন সার্ভিস সহ অন্য কোন যানবাহন চলাচল করে। দোকানপাট ও বিপনীবিতান বন্ধ ছিল। সরকারী-বেসরকারী অফিস আদালত খোলা থাকলেও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি ছিল কম। এদিকে হরতালের সমর্থনে মিছিলে অংশ নেন জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মেজবাহ উদ্দিন খান, যুগ্ম-সম্পাদক প্রফেসর আবদুল খালেক ও মনোয়ার হোসেন দুলাল, জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নঈম উল্লাহ চৌধুরী বরাত, জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক এস.এম কায়সার এলিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি কফিল উদ্দিন মামুন ও সাধারণ সম্পাদক সাঈদুর রহমান জুয়েল প্রমুখ। বিপক্ষে আওয়ামীলীগ মিছিল করেছে।
হরতালে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে শহরে পুলিশের পাশাপাশি প্রচুর সংখ্যক র‌্যাব ও পুলিশ’র স্পেশাল বাহিনী ‘কোবরা’ মোতায়েন রয়েছে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।