সেন্টমার্টিনে প্রবল জোয়ারে ব্যাপক ভাঙ্গন, আতংকে দ্বীপবাসী

বঙ্গোপসাগরের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের কয়েকটি অংকে ব্যাপক ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। ২৭ মে সোমবার দুপুরের সাগরের জোয়ারে সেন্টমার্টিন দ্বীপে স্মরণকালের ভয়াবহ ভাঙ্গন ও জলোচ্ছ্বাসের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ২১টি বসত বাড়ি সাগরে বিলীন ও সেন্টমার্টিন বাজারের ৬টি দোকান ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রহমান। তিনি আরো জানান, এ সময় সাগরের জোয়ারের পানি ৫/৬ ফুট বৃদ্ধি পেয়ে দ্বীপের উত্তরাংশ ও গলাচিপা  এলাকা প্ল­াবিত হয়েছে। সাগরের ঢেউ জনবসতিতে এসে পড়ে। এতে দ্বীপের চর্তুদিকে ভাঙ্গন ধরে। বেশি ভাঙ্গন ধরেছে উত্তর ও পশ্চিম অংশে। এতে উত্তর পাড়ার হাফেজ আহম্মদ, শামসুল আলম, রবিউল আলম, ছদু মিয়া, শামসুল আলম, মোঃ ছিদ্দিক, ফাতেমা খাতুন, আবদুল কুদ্দুস, মরিয়ম খাতুন, সাবের, মছিউল্লাহ, ছৈয়দ উল্লাহ, আমিন উল্লাহ, দক্ষিণ পাড়ার ফজল আহমদ এবং ডেইল পাড়ার আমিন উল্লাহ, শামসুল আলম, মোঃ রফিক, ফিরুজা বেগমের বসত বাড়ি বিধ্বস্থ হয়ে বসত ভিটা সাগরে বিলীন হয়ে যায়। এ সময় সেন্টমার্টিন বাজারের মোঃ আমিন, মনির উল্লাহ, আলী আহমদ ও হাবিব উল্লাহর দোকান ভেঙ্গে গেছে।
সোমবার সেন্টমার্টিনের এ ভাঙ্গনে বড় কবরস্থান বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সেন্টমার্টিন পুলিশ ফাঁড়ির আইসি হারুনুর রশিদ জানান, সেন্টমাটিন পুলিশ ফাঁড়ির জমির বাউন্ডারী বিধ্বস্থ হয়েছে। কোস্টগার্ড ষ্টেশন কমান্ডার লে. মোঃ কামাল জানান, জেটিঘাটে একটি ফিশিং ট্রলার ডুবে যায়। তবে এ সব ঘটনায় কেউ হতাহতের খবর পাওযা যায়নি। সেন্টমার্টিন দ্বীপের ইতিহাসে এ ধরনের কোন ভয়াবহ ঘটনার কথা এখনো কেউ প্রত্যক্ষ করেনি। এ প্রথম সাগরে ভয়াবহ ভাঙ্গন এবং জলোচ্ছ্বাসের কবলে পড়ে দ্বীপ বাসী।
এ ব্যাপারে প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুর রহমান মেম্বার জানান, দ্বীপের উত্তর ও পশ্চিম অংশের শীলবনিয়া পাড়া থেকে দক্ষিণ পাড়া মসজিদ, নেভী গেইট থেকে জাদিবিলসহ কবির মেম্বারের বাড়ি ও হোটেল সীমানা পেরিয়ে থেকে গলাচিপা পর্যন্ত ভাঙ্গন ধরে। এ বর্ষায় সেন্টমাটিনের কি হাল হবে তা নিয়ে শংকিত রয়েছে দ্বীপবাসী।
অপরদিকে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপের একমাত্র সড়কটি ভরাখালে বিলিন হতে চলেছে। এ সড়কের খালের উপর নির্মিত ব্রীজের নিচে মাটি সরে প্রায় দুই ফুট পানির নিচে ডেবে যায় এবং দু’পাশের মাটি সরে খালে বিলীন হচ্ছে। এ বিষয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগ’র কোন কার্যকরি ভুমিকা দেখা যাচ্ছে না। তবে সড়কের বিভিন্ন স্থানে নতুন ভাঙ্গন ধরে তা ব্যাপক আকার ধারন করছে। বর্তমানে সাগর উপকুলীয় শাহপরীরদ্বীপ পশ্চিমপাড়া, দক্ষিণপাড়া, ঘোলাপাড়া, ক্যা¤পপাড়া, মাঝরপাড়া, জালিয়াপাড়া ও উত্তর পাড়ার আশপাশ এলাকায় অরক্ষিত বাঁধ দিয়ে সাগরের পুর্নিমার জোয়ারে পানি ডুকে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। টানা বৃষ্টির কারনে নাফ নদী বেড়ীবাঁধ দিয়ে যাতায়ত হয়ে বর্তমানে ¯প্রীড বোড, নৌকা ও সাকোয় পারাপার করছে মানুষ। গত বৃহ¯পতিবার স্থানীয় সাংসদ আলহাজ্ব আব্দুর রহমান বদি সরেজমিন অরক্ষিত বেড়ীবাধ ও ভাঙ্গা সড়ক পরিদর্শন করে। এ সময় ¯প্রীডবোড পারাপারে ঢেউ’র আঘাতে সড়ক ভাঙ্গন বৃদ্ধির কারনে সাংসদের নির্দেশে ¯প্রীডবোড যাতায়ত বন্ধ করে দেওয়া হয়। তাছাড়া ভরাখাল পর্যন্ত সহজে যান চলাচলে অন্যান্য সড়ক ভাঙ্গন এলাকায় সাংসদের উদ্যোগে ইট দেওয়া হচেছ বলে জানা গেছে।
চলতি মাসের শুরুতে শাহপরীর দ্বীপ ভরাখালের উপর নির্মিত ব্রিজ এলাকায় ভাঙ্গন দেখা দেয়। কয়েক দিনের ব্যবধানে সড়কের ভাঙ্গন বড় আকার ধারন করে ভরাখালে বিলীন হয়। তবে এ সড়কের অন্যান্য স্থানে ভাঙ্গন ধরলে তা পরবর্তীতে মেরামত করা গেলেও ভরাখালের উপর নির্মিত বিলীন সড়ক নির্মান করা কঠিন হয়ে দাড়াবে। বর্তমানে ভাঙ্গা সড়ক দিয়ে স্থানীয়দের যাতায়ত ও মালামাল পরিবহনে দূর্ভোগ পৌহাতে হচ্ছে। আগাম বর্ষায় এ দ্বীপে কি অবস্থা সৃষ্টি হবে তা নিয়ে দূশ্চিতায়। সড়ক ও জনপথ বিভাগ যদি একটু সুদৃষ্টি দিত তাহলে ভরাখাল সড়কটি বিলীন থেকে রক্ষা পেত বলে এমন অভিযোগ এলাকাবাসী।
গতবছর শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিমপাড়া বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে শতাধিক বাড়ী-ঘর সাগরে বিলীন হয়ে যায়। একমাত্র সড়কটিও ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচিছন্ন হয়। ফলে বসত বাড়ী ও চাষাবাদে ব্যাপক ক্ষতি হয়। এমনকি লবনের ভরা মৌসুমে চাষীরা কোটি-কোটি টাকার লবন উৎপাদন থেকে বঞ্চিত হয়েছে। হাজার-হাজার লবন শ্রমিক বেকারত্ব জীবন-যাপন করছে। এখনো প্রতিনিয়ত জোয়ারের পানি ভাঙ্গা অরক্ষিত বাঁধ দিয়ে ডুকে নিুাঞ্চল তলিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে বিশাল জনগোষ্টী সাগর ভাঙ্গন ও বিলিন আতংকে দিন কাটাচ্ছেু। বর্ষায় দ্বীপ বাসীকে চরম দূর্ভোগ পৌহাতে হচ্ছে। এখন তাদের কি উপায় হবে তা পথ খুজে পাচ্ছে না। এ দ্বীপের মানুষকে আর কত সময় এভাবে জীবন-যাপন করবে। তাদের এখন প্রশ্ন স্থানীয় সরকার দলীয় এমপি থাকার পরও সাগর ভাঙ্গা বাঁধ মেরামতে কেন হচ্ছে না। “তারা কিছুই চাই না দূর্ভোগ থেকে বাঁচতে চাই। এদিকে শাহপরীর দ্বীপ সড়কটি সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে।
কক্সবাজার সূত্র জানায়, বেড়ীবাঁধ ভেঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী সড়ক ভাঙ্গন এলাকা পরিদর্শন করেন। শাহপরীর দ্বীপ বেড়ীবাঁধ না হলে সড়ক সংস্কার সম্ভব নয় বলে জানায়। তাই এ এলাকায় বাঁধ নির্মান জরুরী বলে মনে করেন সংশ্লি­ষ্টরা। স্থানীয়রা জানায়, গত বছর এ সড়ক এক বা দুই স্থানে ভাঙ্গন ছিল। বর্তমানে শাহপরীর দ্বীপ যাওয়ার পথে ৪.৭০ কিলোমিটার হতে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। তবে ভরাখাল থেকে দক্ষিণ অংশের এলাকা পর্যন্ত সড়ক নেই বললে চলে। তাছাড়া ভরা খালে উপরের সড়কটিও ভেঙ্গে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তবে এ সড়ক দিয়ে আগামীতে যাতায়ত সম্ভব হকে কিনা তা শাহপরীর দ্বীপবাসীকে ভাবিয়ে তুলেছে।


সম্পাদনা: শামীম ইবনে মাজহার,নিউজরুম এডিটর

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।