বাবুনগরীর জামিন আদেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুক্তি

পুলিশ সদস্য হত্যাসহ তিন মামলায় জামিন আদেশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মুক্তি পেয়েছেন হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব জুনাইদ বাবুনগরী। আদালতে সরকারপক্ষের আইনজীবী ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি আব্দুল্লাহ আবু জানান, বাবুনগরীর শারীরিক অসুস্থতা বিবেচনায় নিয়ে আদালত সবক’টি মামলায় জামিন দিয়েছেন।

রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের পুলিশ হত্যা, গাড়ি ভাঙচুরসহ তিনটি মামলায় জামিন পান হাটহাজারী মাদ্রাসার এই শিক্ষক।  জামিনের পর বিকেলেই মুক্তি পান জুনাইদ বাবুনগরী। তার শারীরিক অবস্থা এতটাই গুরুতর যে, জরুরি ভিত্তিতে প্রিজন সেল থেকে বারডেম হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নিতে হয়েছে। তবে তার স্বাস্থ্যগত বিষয়ে হাসপাতালের চিকিৎসকরা মুখ খুলতে চাচ্ছেন না।

সেখানে বাবুনগরীর সঙ্গে থাকা তার জামাই মো. আব্দুল্লাহ  বলেন, ‘বাবুনগরীর অবস্থা সুবিধাজনক নয়। এখানেই তাকে চিকিৎসা দেওয়ার কথা জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।’

এদিকে, বিকেলে হেফাজত মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরীর মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে দলের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। এছাড়া বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগের সাইটেও এ নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়।

হেফাজতের ঢাকা মহানগরীর ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আলতাফ হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে আরটিএনএন- কে বলেন, ‘ঘটনার দিন লালবাগ থেকে আমি নিজ হাতে সুস্থ বাবুনগরীকে পুলিশের গাড়িতে তুলে দিয়েছি। সে সময় পুলিশ বলেছিল, তাকে চট্টগ্রামে পাঠানো হচ্ছে। কিন্তু পরে তাকে গ্রেপ্তার করেন।’  তিনি বলেন, ‘রিমান্ডে নিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতনে ফলে বাবুনগরীর এই অবস্থা হয়েছে। তার কিছু হলে সরকারকেই এর জবাব দিতে হবে।’ সবার প্রিয় হুজুর বাবুনগরী আমাদের মাঝে সুস্থ হয়ে ফিরে না আসলে সরকারের পতন অনিবার্য বলেও হুঁশিয়ারি দেন আলতাফ হোসেন।

এছাড়া অসুস্থতা এবং হঠাৎ করে মৃত্যুর গুজবে অনেকেই হেফাজতের লালবাগের অস্থায়ী কার্যালয়ে জোড় হন। তাদের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। আর বারডেম হাসপাতালেও সংগঠনের অনেক নেতাকর্মী ভিড় করছেন। তবে কড়া পাহারা থাকায় বারডেমে কাউকে ভিড়তে দেওয়া হচ্ছে না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জুনাইদ বাবুনগরীকে বারডেম হাসপাতালের সপ্তম তলার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ, বেড নম্বর-১) রাখা হয়েছে। সেখানে তিনি অধ্যাপক ডা. নূরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

চিকিৎসক সাংবাদিকদের জানান, ‘বাবুনগরীর কিডনিজনিত সমস্যা রয়েছে। এজন্য ডায়ালাইসিস করা হয়েছে। পায়ে সামান্য ক্ষতচিহ্ন দেখা যাওয়ায় এমআরআই করানো হয়েছে।’

ডা. নূরুজ্জামান বলেন, ‘তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। তাকে সব ধরনের মেডিকেল সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। বাবুনগরী আপাতত আশঙ্কামুক্ত।’

এর আগে দুপুরে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম শাহরিয়ার মাহমুদ আদনান হেফাজতে ইসলামের এই কেন্দ্রীয় নেতার জামিনের আদেশ দেন।

পরে কারা উপমহাপরিদর্শক গোলাম হায়দার বলেন, ‘জামিনের কাগজপত্র আসার পর হাসপাতাল থেকে তার পাহারা তুলে নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ এখন তিনি মুক্ত।’

তবে তিনি এখনো হাসপাতালেই রয়েছেন বলে জানান তিনি।

জামিনের পর কারা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বাবুনগরীকে বুঝে নেন তার জামাই মাওলানা মো. আব্দুল্লাহ ও ভাগ্নে মাওলানা মো. সালাহউদ্দিন। এরপর বিকেলে বারডেম হাসপাতালে আসেন ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার জাহিদুল আলম। তিনি বাবুনগরীর জামিনের কাগজপত্র তার স্বজনদের হাতে তুলে দেন।

উল্লেখ্য, গত ৫ মে রাতে মতিঝিল থেকে হেফাজতকর্মীদের হটিয়ে দেওয়ার পরদিন লালবাগ থেকে গ্রেপ্তার হন বাবুনগরী। এরপর তিনটি মামলায় তিনি দুই দফায় ২২ দিন রিমান্ডে ছিলেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।