মানবাধিকার ভঙ্গের নিষ্ঠুর স্থান এখন ঝিনাইদহ: জেলা কারাগার ধারণ ক্ষমতা ২০০ বন্দি ৮০৭

মানবাধিকার ভঙ্গের নিষ্ঠুর স্থান এখন ঝিনাইদহ জেলা কারাগার। জায়গা নেই, তারপরও প্রতিদিন আসামীদের ভরা হচ্ছে কারাগারে। আটককৃতরা রাজনৈতিক নেতা কর্মী হওয়ায় তুচ্ছ মামলাও এ সব আসামীদের জামিন মিলছে না। ফলে মাসের পর মাস কারাগারের অল্প পরিসরের জায়গায় বন্দিদের থাকতে হচ্ছে। বন্দিদের উপর এই অমানবিক নিষ্ঠুর মানসিক নির্যাতন দেখে কারাক্ষীরাও নীরবে নিভৃত্তে অনুশোচনা করছে।

কারাগার সুত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহ কারাগরে দেড়শ থেকে দুইশ অপরাধী হাজতি কয়েদী হিসেবে রয়েছে। এরা হত্যা, ডাকাতি, চুরি, ছিনতাই, বোমাবাজী মামলার আসামী। বাকী আনুমানিক সাড়ে ৬০০ বন্দি অনেকেই বিএনপি বা জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। তুচ্ছ মামলায় আটক হলেও তাদের ভাগ্যে জামিন নেই। ফলে পেশাদার অপরাধীদের সঙ্গে তাদের রাত কাটছে। বন্দিরা অবিযোগ করেন, খাওয়া যেমন তেমন শোয়া, বাথরুম বা সুস্থ পরিবেশের বড়ই অভাবে। একটি রুমে ঠাসাঠাসি করে থাকতে হয়। অনেক সময় অক্সিজেন পাওয়া যায় না। ২০০ আসামীর জায়গায় ৮০৭ জন বন্দির বিষয়টি নিষ্ঠুর অমানবিক হলেও প্রশাসনের কোন পদক্ষেপ নেই। অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে বিরোধীদল বলেই বন্দিদের এ ভাবে সাইজ করা হচ্ছে। তবে এই অবস্থা চলতে থাকলে কারাগারে পরিবেশগত মারাত্মক বিপর্যয় ঘটতে পারে।

ঝিনাইদহ জেলা কারাগার সুপারেনটেনডেন্ট ইকবাল হোসেন জানান, ১৯১৮ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার শহরের নবগঙ্গা নদীর তীরে ৫২ জন ধারণ মতা সম্পন্ন ঝিনাইদহ উপ-কারাগারটি স্থাপন করেন। তিনি আরো জানান, ৯২ বছর একই স্থানে ৫২ জনের পরিবর্তে ৫/৬’শ বন্দি নিয়ে উপ-কারাগারটি দাড়িয়ে ছিল। ২০১০ সালে ঝিনাইদহের মথুরাপুর নামক স্থানে জেলা কারাগারটি নতুন আঙ্গিকে নির্মান শেষে চালু করা হয়। ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে ধারণ মতা দুই’শ হলেও বুধবার পর্যন্ত ৮০৭ জন বন্দি রয়েছে। ধারণ ক্ষমতার তিনগুন বন্দি নিয়ে কারাকর্তৃপক্ষ বেশ বিপদে আছে। স্থানের অভাবের পাশাপাশি বন্দিদের খাবার নিয়েও মাঝেমধ্যে অচলাবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। ব্রিটিশ সরকারের করা নিয়মে একজন বন্দি কারাগারে ৩৬ স্কয়ার ফিট স্থান পেয়ে থাকেন। কিন্তু ৩৬ স্কয়ার ফিটের মধ্যে এখন থাকতে হচ্ছে ৩ জনকে। বর্তমান নাজুক পরিস্থিতিতে মানবাধিকার লংঘিত হচ্ছে কিনা জিজ্ঞাসা করা হলে জেল সুপার ইকবাল হোসেন বলে ওঠেন মন্তব্য নিষ্প্রয়োজন। জেলার আব্দুল্লাহ ইবনে তোফাজ্জেল হোসেন খান জানান, করাগারে একজন বন্দি সারাদিনে মাত্র ৪০ টাকা সরকারী ভাবে বরাদ্দ পাচ্ছেন।

ব্রিটিশ সরকারের আমলে তৃতীয় শ্রেনীর বন্দির জন্য এই বরাদ্দ এখনো রয়েছে, যা বর্তমান দ্রব্যমুল্য ও বাস্তবের চাহিদায় অপ্রতুল বলে তিনি মনে করেন। তিনি বলেন সরকারী ভাবে গুদাম থেকে যে চাল ও গম বরাদ্দ দেওয়া হয়, তাই বন্দিদের খাওয়ানো হয়। চাল ও গমের মান ভাল নয় বলে তিনিও মনে করেন। রুটির সঙ্গে দেওয়া গুড়, সবজির তরকারী ও মাছ মাংশের পরিমান নিয়ে বন্দিদের ােভ প্রসঙ্গে জেল সুপার ইকবাল হোসেন জানান ৪০ টাকার বরাদ্দে এরচে কি বেশি দেওয়া সম্ভব হয়? বন্দিরা জানান, সকালে একটি পাতলা রুটির সঙ্গে এক আঙ্গুলে ওঠা কায়েক ফোটা গুড়, দুপুরে ডালের সঙ্গে গন্ধ চালের ভাত ও রাতে দুর্গন্ধযুক্ত সবজির পাশাপাশি নামমাত্র মাছ ও মাংশের তরকারী। এই হচ্ছে ৯৪ বছর আগে প্রতিষ্ঠিত ঝিনাইদহ জেলা করাগারে বন্দিদের জন্য প্রতিদিনের খাবারের তালিকা। ঝিনাইদহ জেলা কারাগারে এখন ধারণ ক্ষমতার অপ্রতুলতার পাশাপাশি খাবারে অনিয়ম, দুর্নীতি ও হাসপাতাল বেড নিয়ে অর্থ বানিজ্য এবং বন্দিদের সঙ্গে দেখা করার নামে টাকা আদায়ের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।