সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রাণের পণ্য বর্জনের ডাক

টেলিভিশনের পর্দায় চটকদার বিজ্ঞাপন চিত্রে সঠিক মানের নিশ্চয়তা দিয়ে দীর্ঘদিন থেকে প্রচার করে আসলেও প্রাণের পণ্য স্বাস্থ্যের জন্য কতটা ভয়াবহ তার সামন্যই উন্মোচিত হয়েছে মঙ্গলবার মেহেরপুরের গাংনীতে।

ইতোমধ্যে ফেসবুক, টুইটার ও বিভিন্ন ব্লগে ছড়িয়ে পড়েছে এই খবর। তারা প্রাণ কোম্পানিকে অবহিত করেছে ‘প্রাণঘাতী প্রাণ কোম্পানি’ নামে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার দুপুরে আচার তৈরির জন্য খোলা আকাশের নিচে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে প্রাথমিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মাত্রারিক্ত ফরমালিন মেশানোর কারণে ৯০ টন আম জব্দ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার কাজিপুর গ্রামে প্রাণ কোম্পানির আঞ্চলিক আম সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানায় অভিযান চালিয়ে ৮৮৭টি প্লাস্টিক ড্রামভর্তি এ আম জব্দ করা হয়, যার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা।

এ সময় প্রাণ অ্যাগ্রো লিমিটেডের নাটোর কারখানার জুনিয়র এক্সিকিউটিভ মুরাদ হোসেন ও কাজিপুর গ্রামের আবদুল মজিদকে গ্রেপ্তার করে প্রত্যেককে দুই বছর করে কারাদণ্ড, এক লাখ ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরো ছয় মাস করে কারাদণ্ডের আদেশ দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুস সালামের নেতৃত্বে এই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়। বিএসটিআই কর্মকর্তাকে সঙ্গে নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হয়।

এ সময় মেহেরপুর জেলা প্রশাসক মো. মাহামুদ হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আলমগীর হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

খুলনা বিএসটিআইর ঊর্ধ্বতন পরীক্ষক মাসুম বিল্লাহ গণমাধ্যমকে বলেন, ড্রামের আম পরীক্ষা করে উচ্চ মাত্রার ফরমালিনের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া গেছে। আমগুলোতে ২১ থেকে ১৮০ পিপিএম মাত্রার ফরমালিনের অস্তিত্ব পাওয়ায় এগুলো জব্দ করে নষ্ট করা হয়।

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুস সালাম জানান, খোলা আকাশের নিচে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে এভাবে কোনো খাদ্য প্রক্রিয়াজাত করা যায় না।

প্রাণ কোম্পানির আটক জুনিয়র এক্সিকিউটিভ মুরাদ হোসেন জানান, তারা কোনো কেমিকেল মেশাননি। আবদুল মজিদ জানেন কী কী মেশানো হয়েছে। আমের সঙ্গে কী পরিমাণে এবং কী কী রাসায়নিক মেশানো হবে তা কোম্পানি বলে দিয়েছে। এর সঙ্গে ফরমালিন মেশানোর কথা নয়।

আবদুল মজিদ জানান, প্রাণের এক অফিসার নিজে উপস্থিত থেকে আমের সঙ্গে কেমিকেল মিশিয়েছেন। তিনি কিছুই জানেন না।

এদিকে, সোস্যাল মিডিয়ায় প্রাণের সকল পণ্যেই এই ধরনের ঘাপলা আছে বলে দাবি করেছেন ব্যবহারকারীরা। কয়েকজন প্রাণের পণ্য বর্জনেরও আহ্বান জানিয়েছেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।