ইসির কাছে বুলবুলের প্রার্থিতা বাতিলে লিটনের নালিশ

রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোট সমর্থিত সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক বুলবুলের বিরুদ্ধে নিবাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মহাজোট সমর্থিত নাগরিক কমিটির প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন।

লিটনের পক্ষে তার প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট নওশের আলী বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত তিনটি আলাদা লিখিত করেছেন।

কাল শুক্রবার স্থানীয় নির্বাচন কমিশনর অফিসে এ নিয়ে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত গৃহিত হবে। স্থানীয় নির্বাচন কমিশন অফিস জানিয়েছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে বুলবুলের প্রার্থিতা বাতিলও হতে পারে।

মহাজোট সমর্থিত প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত মঙ্গল ও বুধবার পৃথক সংবাদ সম্মেলনে বুলবুলের পক্ষে হেফাজত নেতা মাওলানা হাফেজ আব্দুস সামাদ তার বিরুদ্ধে মানহানিকর বক্তব্য দেন। শুধু তাই নয় ওই হেফাজত নেতার বক্তব্য উস্কানিমূলক ছিল, যা ধর্মীয় বিশ্বাসেও আঘাত হেনেছে।

মাওলানা আব্দুস সামাদ সেদিন তার মোনাজাতের এক পর্যায়ে খায়রুজ্জামান লিটনের ধ্বংস কামনা করেন, যা নির্বাচনী আচরণবিধির লঙ্ঘন বলে দাবি করেছেন লিটন।

রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা জানান, বুলবুলের বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতা ও ধর্মীয় অনুভূতিতে উস্কানিদান ও মোটরসাইকেল শোভযাত্রা করাসহ কয়েকটি অভিযোগ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সিটি করপোরেশন নির্বাচন আচরণ বিধিমালার (প্রজ্ঞাপন, তারিখ: ২৩ চৈত্র ১৪১৬ বঙ্গাব্দ/৬ এপ্রিল ২০১০ খ্রিস্টাব্দ) ষষ্ঠ অধ্যায়ের ১০ এর ‘ক’ উপধারায় স্পষ্ট করে বলা আছে, ‘কোনো প্রার্থী বা তাহার পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি নির্বাচনী প্রচারণাকালে ব্যক্তিগত চরিত্র হনন করিয়া বা কোনো ধরনের তিক্ত বা উস্কানিমূলক কিংবা লিঙ্গ, সামপ্রদায়িকতা বা ধর্মানুভূতিতে আঘাত লাগে এইরূপ কোনো বক্তব্য প্রদান করিতে পারিবেন না’।

বিধিমালার উল্লেখিত ধারা অনুযায়ী হেফাজত নেতার বক্তব্য স্পষ্টতই বিধিমালার লঙ্ঘন বলে প্রতীয়মান হয়েছে বলে মনে করছেন লিটন। উক্ত বিধিমালার দশম অধ্যায়ের এক ধারায় স্পষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘…যদি কোনো উৎস হইতে প্রাপ্ত রেকর্ড কিংবা লিখিত রিপোর্ট হইতে কমিশনের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, মেয়র বা কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থী বা তাহার নির্বাচনী এজেন্ট এই বিধিমামলার কোনো বিধান লঙ্ঘন করিয়েছেন বা লঙ্ঘনের চেষ্টা করিয়াছেন এবং অনুরূপ লঙ্ঘন বা লঙ্ঘনের চেষ্টার জন্য তিনি মেয়র, বা ক্ষেত্রমতে, কাউন্সিলর নির্বাচিত হইবার অযোগ্য হইতে পারেন, তাহা হইলে কমিশন বিষয়টি তাৎক্ষণিক নির্দেশ প্রদান করতে পারবে।’

আর এই বিধিমালার ২ ধারায় বলা আছে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে উক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবেন।

এ ব্যাপারে রাজশাহী জেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসার সাইফুল ইসলাম অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে আরটিএনএন- কে বলেন, ‘আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনার সুভাষ চন্দ্র সরকার এই মুহূর্তে ঢাকায় নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ে আছেন। তিনি ফিরলে আগামীকাল শুক্রবার এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, গতকাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগ নেতা সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে ইসলামের শত্রু আখ্যা দিয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের মেয়রপ্রার্থী বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের পক্ষে কাজ করার ঘোষণা দেন হেফাজতের ইসলামের রাজশাহী মহানগর শাখার আহ্বায়ক মাওলানা হাফেজ আব্দুস সামাদ।

তিনি বলেন, মেয়র লিটন ছিলেন ইসলামের শত্রু, আলেম ওলামাদের টিটকারী করেছেন, ইসলামী জালসা করতে দেননি।

মেয়র লিটনকে উদ্দেশ্য করে সামাদ বলেন, তিনি আলেম ওলামাদের ওপর অত্যাচার-নির্যাতন চালিয়েছেন। ইয়া আল্লাহ! ইসলামের এই শত্রুকে তুমি হালাক (ধ্বংস) করে দাও। আর ইসলামের পক্ষের জাতীয়তাবাদী শক্তিকে এই সিটি নির্বাচনে বিজয়ী করে দাও।

সংবাদ সম্মেলন শুরু আগে ‘বাংলাদেশের স্বাধীরতা-সার্বভৌমত্ব ও ইসলাম হেফাজতে ঐক্যবদ্ধ হোন’ নামে একটি পুস্তিকা বিতরণ করেন হেফাজতের কর্মীরা।

এই সংবাদ সম্মেলনে সম্মিলিত নাগরিক ফোরামের মেয়র প্রার্থী বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক বুলবুলও উপস্থিত ছিলেন।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।