কুমিল্লায় ভুয়া পীরের অপকর্ম ও অত্যাচারে অতীষ্ঠ এলাকাবাসি

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার ৪ নং পূর্বধৈর ইউনিয়নের হিরাপুর গ্রামের পীর পরিচয়দানকারি মাও. মোঃ আব্দুল করিম ওরফে রেজাউল করিম হেলালীর বহুবিধ অপকর্ম ও অত্যাচারে এলাকাবাসি অতিষ্ট হয়ে পড়েছে।  তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে এলাকাবাসি তার সকল অপকর্মের কাহিনী উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছে। অনুলিপি প্রদান করা হয়েছে পুলিশের আইজি, র‌্যাবের আইজি,কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর।

কে এই মাও. মোঃ আব্দুল করিম ?
স্থানীয় এলাকাবাসি সূত্রে জানা যায়, বাপ-মা নাম রেখেছিলেন মোঃ আঃ করিম, কিন্তু সে তার নাম পরিবর্তন করে রেখেছে মাও. রেজাউল করিম হেলালী সুন্নী আল কাদরী। সে মুরাদনগর উপজেলার ৪ নং পূর্বধৈর ইউনিয়নের হিরাপুর গ্রামের মৃত আশরাফ আলী সরকারের মেঝো ছেলে। পাকি¯তানের তৈয়্যেবিয়া কাদেরিয়া দরবার শরীফের খলিফা পীর পরিচয়দানকারি এই মাও. মোঃ আব্দুল করিম বর্তমানে বির্তক সৃষ্টিকারি বিভিন্ন দর্শন প্রচার করে সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ইসলাম বিরোধী কার্যকলাপের জন্য তাকে তার নিজ গ্রাম হিরাপুর কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।

তার ভন্ডামি ও প্রতারণার আমলনামা:
এই পীর পরিচয়দানকারি রেজাউল করিম হেলালী হবিগঞ্জের এক বিশিষ্ট আলেমের বিবাহিত মেয়ে মমতাজ বেগমকে অন্যের সংসার থেকে ভাগিয়ে এনে প্রথম বিয়ে করে। পরে প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে দেবিদ্ধার উপজেলার ছোট শালঘর গ্রামে ২য় বিয়ে করেন। তিনি উভয় সংসারের দুই মেয়ের নামই রাখেন শাহজাদী। চলতি বছরের ৭ ফেব্রুয়ারী স্ত্রী ও মেয়ের অধিকার রক্ষায় প্রথম স্ত্রী মমতাজ বেগম (৪৬) হিরাপুর গ্রামে সংবাদ সম্মেলন করেন। এ সময় তার অনার্সে অধ্যয়নরত কন্যা শাহজাদী সুলতানা লাভলী উপস্থিত ছিলেন। তাছাড়া স্থানীয় ইউপি সদস্য রুহুল আমিন, মোঃ মিজানুর রহমানসহ স্থানীয় এলাকাবাসি উপস্থিত ছিলেন। প্রথম স্ত্রী জানান, দ্বিতীয় বিয়ের পর আমি ও আমার মেয়েকে ঘর থেকে বের করে দেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মুরাদনগর থানায় লিখিত অভিযোগ জানিয়ে কোন লাভ হয়নি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, এলাকার স্থানীয় সহজ-সরল নারীদের মুরীদ করে ফাঁদে ফেলে টাকা-পয়সা নিচ্ছে সে। অনেক নারীর দুর্বলতার সুযোগে লুটে নিয়েছেন তাদের ইজ্জতও। সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার শামচর মাদ্রাসায় চাকুরি করাকালিন সময়ে অনেক নারীর সর্বনাশ ও মাদ্রাসার অর্থ আত্মসাৎ এর দায়ে তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

তার আয়ের উৎস:
তার দৃশ্যমান কোন আয়ের উৎস নেই। সে ধর্ম ব্যবসা ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করছে। ১৯৯০ এর দশকে সে নিজেকে পাকি¯তানের তৈয়্যেবিয়া কাদেরিয়া দরবার শরীফের খলিফা পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন স্থানে ইসলামী জলসা আয়োজনের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নিতো। এলাকায় তার মজলিসে চলে মাদকের আড্ডা ও বেহায়াপনা। বর্তমানে রেজভিয়া দর্শন প্রচার করে, কুফুরী তাবিজ-কবচ বিক্রি করে ও প্রতারণার মাধ্যমে নারী-পুরুষদের মুরিদ করে তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন উপায়ে অর্থ আত্মসাৎ করছে।

ইসলাম পরিপন্থি কাজ:
স্থানীয় সূত্র জানায়, রেজাউল করিম হেলালী নিজে গাজাঁ সেবন করে। যতসব গাজাঁখোর-মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের সাথে তার সর্ম্পক।
সম্পত্তি আত্মসাৎ করতে আপন ভাতিজাকে ডুবিয়ে হত্যার চেষ্টার অভিযোগ:
সম্পদ আত্মসাৎ করার জন্য ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর সে তার আপন ভাতিজা মোঃ শাহাদাত হোসেনকে পানিতে ডুবিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। তখন প্রতিবেশিরা এসে শাহাদাতকে রক্ষা করেন। এ ঘটনায় তার ভাতিজা মোঃ শাহাদাত হোসেন ওই দিনই মুরাদনগর থানায় একটি জিডি (যার নং-১১৭০) করেন। এর আগেও সে আরেক ভাতিজা মোঃ ফোরকানকে হুমকি-ধমকি দিয়ে বাড়ি ছাড়া করেছে। জানা যায়, তার হীন কৃতকর্মের জন্য তার সহোদর ভাইয়েরা তাকে পাশ কাটিয়ে চলে।

এসব অভিযোগের ব্যাপারে রেজাউল করিম হেলালীর মুঠোফোনে ২৯ মে বুধবার রাত পৌণে ৭ টায় কল করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে কলটি কেটে দেন।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিরুল আলম মুঠোফোনে জানান, আমি গত ১০ মে এ থানায় যোগদান করেছি। এই মাও. করিমের বিষয়ে আমি এখনো কিছু জানিনা। তাছাড়া কেউ আমাকে এই বিষয়ে এখনো অবহিত করেনি।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।