বাবুনগরীকে বিদেশ নিতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তার পরিবার

হেফাজত ইসলামের মহাসচিব মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। রাজধানীর বারডেমে তিনে  চিকিৎসাধীন আছেন। তার পরিবারের সদস্যরা তাকে বিদেশ নিতে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বৃহস্পতিবার হেফাজতের কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আলতাফ হোসাইন বলেন, ‘তিনি বাবুনগরীর সঙ্গে আজ দেখা করেছেন। সে সময়ে তিনি চোখ মেললেও কথা বলতে পারেননি। চেনা মানুষগুলোকেও ঠিকমতো চিনতে পারছেন না।’

তিনি আরো বলেন, ‘বাবুনগরীর ডায়াবেটিসের মাত্রা বেড়ে গেছে। আর এর ফলে তা পায়ের ঘাঁ শুকাতে দেরী হচ্ছে।’

চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে আলতাফ হোসেন জুনাইদ বাবুনগরী আশঙ্কামুক্ত নন বলেও জানান।

এ সময় তিনি এই হেফাজত নেতার উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নিতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

বাবুনগরীর জামাই মো. আব্দুল্লাহ বলেছেন, ‘বাবার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। তবে বুধবারের চেয়ে আজ কিছুটা উন্নতি হয়েছে।’

তিনি জানান, উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেওয়ার ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। চিন্তা-ভাবনা চলছে।

এ ব্যাপারে হেফাজতে ইসলামের নেতারা সিদ্ধান্ত নিবেন বলেও জানান মো. আব্দুল্লাহ। তবে তার স্বাস্থ্যগত বিষয়ে বারডেম হাসপাতালে যোগাযোগ করে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর পল্টন থানায় দায়ের পুলিশ হত্যা, গাড়ি ভাঙচুরসহ তিনটি মামলায় জামিন পান জুনাইদ নগরী। তবে প্রিজন সেলে হঠাৎ তার স্বাস্থ্যের অবণতি হলে বিকেলেই তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

এরপর জরুরি ভিত্তিতে বাবুনগরীকে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করে সপ্তম তলার নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ, বেড নম্বর-১) রাখা হয়। সেখানে তিনি অধ্যাপক ডা. নূরুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গতকাল চিকিৎসক সাংবাদিকদের জানান, ‘বাবুনগরীর কিডনিজনিত সমস্যা রয়েছে। এজন্য ডায়ালাইসিস করা হয়েছে। পায়ে সামান্য ক্ষতচিহ্ন দেখা যাওয়ায় এমআরআই করানো হয়েছে। তাকে সব ধরনের মেডিকেল সাপোর্ট দেওয়া হচ্ছে। বাবুনগরী আপাতত আশঙ্কামুক্ত।’

উল্লেখ্য, গত ৫ মে রাতে মতিঝিল থেকে হেফাজতকর্মীদের হটিয়ে দেওয়ার পরদিন লালবাগ থেকে গ্রেপ্তার হন বাবুনগরী। এরপর তিনটি মামলায় তিনি দুই দফায় ২২ দিন রিমান্ডে ছিলেন।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।