বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ বদ্ধপরিকর: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বাংলাদেশ বদ্ধপরিকর রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন সরকার এজন্য বিশ্বের বিভিন্ন সংঘাতময় অঞ্চলে আরো শান্তিরক্ষী পাঠাতে নিরলস প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ।  বুধবার বিকেলে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে  আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব সময় বন্ধুপ্রতীম দেশগুলোর সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখছে এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের অধীনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করছে। কারণ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সূচিত পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে আমরা বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।

বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ শান্তিরক্ষীদের অবদানের কথা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশ সর্বাধিক শান্তিরক্ষা প্রেরণকারী দেশ হতে পারায় এ জাতি গর্বিত।

তিনি বলেন, জাতি হিসেবে আজ আমাদের জন্য একটি আনন্দের ও গৌরবের দিন। কেন না বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ একটি অগ্রণী রাষ্ট্র হিসেবে আজ আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হচ্ছে।

অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ইকবাল করিম ভূঁইয়া এবং জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারী আর্থার এরকেনও বক্তব্য রাখেন। এতে যৌথভাবে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বাংলাদেশ ইনস্টিউট অব পিস সাপোর্ট অ্যান্ড ট্রেনিংয়ের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আনিসুজ্জামান ভূঁইয়া এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (জাতিসংঘ ডেস্ক) সাইয়েদা মুনা।

এরপর জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী মিশনে বাংলাদেশের কর্মকাণ্ডের ওপর একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

মন্ত্রী, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্য, তিন বাহিনীর প্রধান, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), কূটনীতিক এবং পদস্ত সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, অনুষ্ঠানের শুরুতে বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালনকালে আত্মদানকারী বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীরা কঠোর পরিশ্রম, পেশাদারিত্ব, দক্ষতা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী বহু যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকায় শান্তি প্রতিষ্ঠায় বিশাল অবদান রাখছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী এবং বাংলাদেশ পুলিশের সদস্যরা জীবনের সকল ঝুঁকি সত্ত্বেও বিশ্বব্যাপী যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলগুলোতে শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদান রেখে আসছে।

তিনি আরো বলেন, জীবনের ঝুঁকি নিয়েও মাতৃভূমির মর্যাদা বৃদ্ধিতে তারা কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে সে সব দেশের জনগণের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে।

শেখ হাসিনা বলেন, শান্তি রক্ষা অভিযান এবং অন্যান্য বহুজাতিক কর্মকাণ্ডে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বিশ্ব ফোরামে দেশের ভাবমূর্তি বৃদ্ধি করেছে।

তিনি বলেন, শান্তিরক্ষা মিশনে আমাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ একদিকে শান্তির প্রতি আমাদের প্রতিশ্রুতিকে সমুন্নত করেছে এবং অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবে উন্নত ও সামরিকভাবে শক্তিশালী দেশগুলোর সঙ্গে আমাদের কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের ১১৬টি দেশে ৯২ হাজার ৫৪১ জন শান্তিরক্ষীর মধ্যে ২২৪ জন মহিলা শান্তিরক্ষীসহ বাংলাদেশের ৮ হাজার ৯৩৬ জন শান্তিরক্ষী রয়েছে।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ এবং বিশ্বের সকল শান্তিকামী দেশ ত্যাগ, নিষ্ঠা এবং দক্ষতার জন্য বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের প্রশংসা করেছে।

তিনি আরো বলেন, তারা বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব শান্তি রক্ষার পাশাপাশি তারা দেশের ভেতরেও বিভিন্ন সময় জাতি গঠনমূলক কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন।

মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উজ্জ্বল ভূমিকা স্মরণ করে শেখ হাসিনা বলেন, আমি বিশ্বাস করি দেশমাতৃকার প্রয়োজনে আপনারা নিজেদের সদা নিয়োজিত রাখবেন।

শেখ হাসিনা বলেন, আগামী দিনগুলোতে শান্তিরক্ষায় আরো বেশি চ্যালেঞ্জিং হবে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় সামর্থ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে সরকার বেশ কিছু কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সশস্ত্র বাহিনীর জন্য চতুর্থ প্রজন্মের ট্যাঙ্ক, দুই ইঞ্জিনবিশিষ্ট হেলিকপ্টার, এপিসি, শোরাডসহ আধুনিক সরঞ্জাম সংগ্রহ করেছে।

তিনি বলেন, প্রশিক্ষণ জোরদার করা হয়েছে। এতে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের আত্মবিশ্বাস ও সামর্থ্য বৃদ্ধি পাবে।

শেখ হাসিনা বলেন, সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে নিজেদের সার্বক্ষণিকভাবে আপডেট রাখতে হবে।

তিনি বলেন, বিশ্বশান্তি রক্ষার এই মহান প্রচেষ্টায় বাংলাদেশের মানুষ সব সময় আপনাদের পাশে থাকবে। আপনারা বাংলাদেশকে বিশ্বে একটি শক্তিশালী শান্তি প্রতিষ্ঠাকারী দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা করবেন, বিশ্বে বাংলাদেশের পতাকাকে সমুন্নত রাখবেন এটাই আমাদের প্রত্যাশা।

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নিহত দুই এবং আহত পাঁচ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীর পরিবারের সদস্যদের হাতে ক্রেস্ট তুলে দেন।

 

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।