লাকসামে রেলওয়ের কোটি টাকার ভূ-সম্পত্তি অবৈধ দখলে

কুমিল্লার লাকসামে রেলওয়ের অসাধু কর্মকর্তাদের যোগসাজসে অবাধে দখল হচ্ছে রেলওয়ের ভূ-সম্পত্তি।
সূত্রে জানা যায, অসাধু কর্মকর্তা কর্মচারী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের অর্থ-বানিজ্যের কারনে প্রতিদিন দখল হয়ে যাচ্ছে বিশাল ভূ-সম্পত্তি। লাকসাম জংশনটি অতি প্রাচীন ও গুরুত্বপূর্ণ। লাকসাম জংশন হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢ্কাা-নোয়াখালী, ঢাকা-চাদঁপুরগামী রেলওয়ের যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ন যোগাযোগ ব্যবস্থার একটি হচ্ছে লাকসাম জংশন। দৌলতগঞ্জ ষ্টেশন লাকসাম বাজারের উপরে হওয়ার কারনে সরকার দলীয় ও প্রভাবশালীদের নিয়ন্ত্রনে থাকে। স্টেশনের চারপাশের সম্পত্তিগুলো প্রভাবশালী মহল রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ম্যানেজ করে প্রতিদিন দখলে নিচ্ছে।

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দৌলতগঞ্জ ষ্টেশন থেকে নোয়াখালী ষ্টেশন পর্যন্ত রেলওয়ের শত শত একর সম্পত্তি উদ্ধার হলেও বর্তমান সরকারের আমলে পুনরায় দখল করে স্থাপনা নির্মান নিয়েছে প্রভাবশালী মহল। যারফলে ঢাকা-নোয়াখালী গামী রেল চলাচলে চরম বিঘœ ঘটছে।  বিগত দিন থেকে দৌলতগঞ্জ ষ্টেশনের উত্তরে রেল লাইনের ওপর সবজ্বি বাজার, বাশঁ বাজার, পিক-আপ ও সিএনজি ষ্টেশনসহ নিত্যদিন দখল হয়ে থাকে রেল লাইনের দুই পাশ। প্রতি বাজারের দিন সবজ্বি দোকান, বাশঁ দোকান, সিএনজি ও পিক-আপ স্টেশন, ভাঙ্গারী মালের দোকান থেকে রেলওয়ের কিছু কর্মকর্তা দৈনিক, সাপ্তাহিক ও মাসিক হারে চাঁদা আদায় করছে বলে দখলিয় ব্যবসায়িরা জানায় । অবৈধ দখলদারদের থেকে মোটা অংকের টাকা বাণিজ্য করে স্থাপনা নির্মানকারীদের অবৈধ দখলের সুযোগ করে দেয় অসাধু রেল কর্মকর্তারা।

গত যৌথ বাহীনির আমলে হাজী ছিদ্দিকুর রহমান এর মালিকানাধীন হাজী ছিদ্দিকুর রহমান সুপার মার্কেট ও নুরু মিয়ার মালিকানাধীন গ্রীণ সুপার মার্কেটের পশ্চিমাংশ ভেঙ্গে দেয়।  বর্তমান দৌলতগঞ্জ ষ্টেশন মাস্টার আব্দুল মন্নান চৌধরী ও রেলওয়ে কাননগো আবদুল হালিমকে ম্যানেজ করে ঐসব মার্কেট পূনঃনির্মানের পর ব্যবসা বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছে। স্থাপনা নির্মানকারীদের সাথে আলাপ করলে তারা জানায় রেলওয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ম্যানেজ করে স্থাপনা নির্মান ও ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু রেলওয়ে কর্তৃপ থেকে লীজ কিংবা কোন অনুমতিপত্র দেখাতে পারেনি।

এ বিষয়ে দৌলতগঞ্জ ষ্টেশন মাষ্টার আবদুল মান্নান চৌধুরী বলেন রেলওয়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের নিরবতার কারনে এসব স্থাপনা নির্মান-পুনঃনির্মান হয়েছে। আমি রেলওয়ের উর্দ্ধতন কর্তৃপকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি, কর্তৃপরে নির্দেশ পেলেই এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। রেলওয়ে কাননগো আবদুল হালিম এসব বিষয়ে জানান, অবৈধ দখলদারদের তালিকা প্রদান করা হয়েছে এবং রেলওয়ের উর্ধŸতন কর্তৃপরে নির্দেশনা পেলে শিঘ্রই উচ্ছেদ অভিযান করে রেলওয়ের সম্পত্তি দখলদার মুক্ত করা হবে।

উল্লেখ্য যে গত ক’দিন আগে বাজারের উপর রেলগেইটের সাথে ফল দোকান উচ্ছেদ করতে গিয়ে রেলওয়ের কর্মকতা ও রেলওয়ে পুলিশ স্থানীয় সরকার দলিয় নেতা ও দখলকারী ব্যবসায়ীদের হাতে  নাজেহাল হওয়ার ঘটনা ঘটে বলে ষ্টেশন কর্মকতারা জানান।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।