আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি, তিনি এখন মোটামুটি কথা বলতে পারছেন

হেফাজতে ইসলামের মহাসচিব আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরীর শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন তার বড় জামাতা মাওলানা আরশাদ হোসাইন। তিনি বলেন, “বাবার শারীরিক অবস্থা গতকালের চেয়ে একটু ভালো। তিনি এখন মোটামুটি কথা বলতে পারছেন।”

শুক্রবার সকালে তিনি একথা বলেন।

মাওলানা আরশাদ বলেন, “মাঝখানে ডায়াবেটিসের মাত্রা বেড়ে গিয়েছিল, এখন অনেকটা কমেছে। পায়ের ঘাঁ অনেকটা শুকিয়েছে। শুক্রবার সকালে আমরা দেখা করে এসেছি, আমাদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন। হাসপাতাল থেকে যে নাস্তা দিয়েছেন তিনি সেটাই খেয়েছেন।”

তিনি বলেন, “বাবার যাবতীয় যা কিছু দরকার হাসপাতাল থেকেই সরবরাহ করা হচ্ছে। আমরা বাইরে থেকে তার জন্য কিছুই দিইনি। হাপাতাল থেকেও নিষেধ রয়েছে বাইরের খাবার দিতে।”

বাবুনগরীর চিকিৎসা বিষয়ে জামাতা আরশাদ বলেন, “আমরা আল্লামা শাহ আহমদ শফী হুজুরকে সন্মান করি। তিনি আমাদের অভিভাবক। তার দিকে তাকিয়ে আছি। বাবার উন্নত চিকিৎসার বিষয়ে তিনি সিদ্ধান্ত নেবেন। তবে বাবুনগরীকে বাইরে পাঠিয়ে উন্নত চিকিৎসার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন আল্লামা শফী।”

মাওলানা আরশাদ শুক্রবার সকালে ঢাকায় আসেন শ্বশুরের কাছে থাকার জন্য। এর আগে আরেক জামাই আব্দুল্লাহ ছিলেন বাবুনগরীর কাছে।

আরশাদ বলেন, “বাড়িতে আমার দাদি শাশুড়ি রয়েছেন। ছেলের চিন্তায় তিনি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন। আমার শাশুড়িও খুবই চিন্তিত। বাবুনগরীর পাঁচ মেয়ে এক ছেলে। মেয়েরা সবাই বিবাহিত। ছেলে সবার ছোট। তারা সবাই বাবাকে নিয়ে চিন্তিত।”

বাবুনগরীকে বারডেম হাসপাতালের সপ্তম তলার আইসিইউর ১নং বেডে রাখা হয়েছে। তিনি আইসিইউ বিভাগের প্রধান আরিফুল ইসলামের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে আইসিইউ’র কেউ বাবুনগরী বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে তারা জানিয়েছেন, বাবুনগরী আগের চেয়ে ভালো আছেন।

এরআগে কিডনিজনিত সমস্যার কারণে বাবুনগরীকে ডায়ালাইসিস করা হয়।  পায়ের  ক্ষতচিহ্নের কারণে  এমআরআই করানো হয়েছে। তাকে সব ধরনের মেডিকেল সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে।

হাসপাতালে বাবুনগরীর নিকটাত্মীয়ের মধ্যে রয়েছেন ছোটভাই মাওলানা জোবায়ের বাবুনগরী, জামাতা মাওলানা আরশাদ, মাওলানা কুতুব, মাওলানা ফয়জুল করীম ও মাওলানা জুনায়েদ। তারা সবাই গণমাধ্যম কর্মীদের এড়িয়ে চলছেন।

শুক্রবার সকালে বাবুনগরীকে দেখতে বারডেমে আসেন বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। সকাল থেকে হেফাজতে ইসলামের কাউকে হাসপাতালে দেখা যায়নি। সংগঠনের কেউ আসেন না বলেও জানান বাবুনগরীর আত্মীয়রা।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।