চৌদ্দগ্রামে আ’লীগ-জামায়াত দফায় দফায় সংঘর্ষ, ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ, পুলিশসহ আহত ২৫

কুমিলার চৌদ্দগ্রামে আ’লীগ-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষে চার পুলিশসহ উভয় পক্ষের ২৫ জন আহত হয়েছে। এসময় ১০টি দোকান, ১৫টি বসতঘর, ২টি গাড়ি ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়।

বৃহস্পতিবার রাতে উপজেলার গুনবতী বাজার ও কর্তাম গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, রাজনৈতিক আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে কয়েকদিন ধরে আ’লীগ ও জামায়াতের কর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছিল।

বৃহস্পতিবার সকালে আ’লীগ কর্মীরা আকরাম নামের এক জামায়াত কর্মীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এর জের ধরে ওইদিন বিকেলে গুনবতী কলেজ শাখা ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক হাসান এইচএসসি পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পথে জামায়াত কর্মীরা তাকে কুপিয়ে মারাত্মক জখম করে। গুরুতর আহত অবস্থায় দু’জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে রাত ১০টার দিকে গুনবতী বাজারে আ’লীগ-জামায়াত কর্মীরা সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১’শ ২৮ রাউন্ড রাবার বুলেট নিপে করে। সংঘর্ষে পুলিশের এএসআই শাহীন মিয়া, এএসআই জামান ভূঁইয়া, পুলিশ সদস্য ইমরান, পুস্পপল মজুমদার, জামায়াত কর্মী রাজু, রোমন, শাকি, হাসান, বাদশা, রুপম, কামাল, সাগর, সোহাগ, কাশেম আহত হয়।

এ সময় দূর্বৃত্তরা আগুন ধরিয়ে দিলে গুনবতী বাজারের দুটি মার্কেটের হক মেটাল, শামীম টেলিকম, মাদ্রাসা রোডের দুলাল ষ্টোর, কাসেমের ওয়ার্কশপ, সাগর টেলিকম, খোরশেদের মুদি দোকান, একটি মাইক্রোবাস (ঢাকামেট্রো-চ-১৪-২২৯২) ও একটি সিএনজি বেবী টেক্সি পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

এছাড়াও গভীর রাতে আ’লীগ কর্মীরা কর্তাম গ্রামের ১৫টি বসতঘর ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। ক্ষতিগ্রস্থ ঘরগুলো হলো ; অলি আহমেদ, আলম, নুরু, গাজী, জহির, রিপন, আলী, ফজলুল হক, মাসুম সওদাগর, বাহাদুর, মিজান ও আবু তাহেরের ঘর। ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে পুলিশ বৃহস্পতিবার রাত ও  শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে ১৬ জনকে গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতদের কয়েকজন হলো ; গুনবতী গ্রামের নাসিম (২৫), শাহ আলম (৩২), নুরে আলম (১৬), শাহজাহান (৪০), আবুল হোসেন (৩২), নুরের রহমান (২৮), চাপাচৌ গ্রামের সোহরাব (৪৪), কর্তাম গ্রামের মহিন উদ্দিন (১৬), সাফায়েত (১৮), শহিদুল ইসলাম (১৬), রাজবলবপুর গ্রামের রাজিব (১৬), কুঞ্জশ্রীপুর গ্রামের হাসিবুল হাসান শান্ত (১৭), পিরিচকরা গ্রামের কায়কোবাদ(৩০), সাতবাড়িয়া গ্রামের সাদ্দাম (২৫)।

বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করায় সাধারণ মানুষ আতংকিত রয়েছে। চৌদ্দগ্রাম থানার ওসি ইসমাইল মিঞা জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ১’শ ২৮ রাউন্ড রাবার বুলেট নিপে করা হয়। পুলিশি বাধার মুখে জামায়াত-শিবির নেতাকর্মীরা পালিয়ে যায়। গ্রেফতারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কুমিলা থেকে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।