হরতাল নিয়ে আইন করার চিন্তা করছে সরকার: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর বলেছেন হরতাল নিয়ে সরকার আইন করার চিন্তা করছে । তিনি জানান, হরতাল রাজনৈতিক অধিকার হলেও এর নামে মানুষ হত্যা, গাড়িতে আগুন দেয়ার মতো ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড মেনে নেয়া যায় না। যে সব দল হরতালে সহিংসতায় জড়িত হবে সে সব রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির ক্ষতিপূরণের বিধান রেখে একটি আইন প্রণয়নের চিন্তা করছে সরকার।

বৃহস্পতিবার বিকালে চট্টগ্রাম চেম্বার ভবনে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এর সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে সভায় অন্যান্যের মধ্যে চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক সভাপতি এম এ লতিফ এমপি, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাভেদ এমপি,  জাসদের কার্যকরী সভাপতি মাঈনুদ্দিন খান বাদল এমপি, পুলিশের চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি মো. নওশের আলী ও সিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “দেশ ও জনগণের স্বার্থে হরতাল দিয়ে আন্দোলন করা যুক্তিসঙ্গত। মহাত্মা গান্ধীও শান্তিপূর্ণ অহিংস অসহযোগ আন্দোলন করেছেন।  জনস্বার্থে হরতাল দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুও। এ সব হরতাল আন্দোলনে জনগণের ব্যাপক সম্পৃক্ততা ছিল বলেই উদ্দেশ্য অর্জিত হয়েছিল, জনগণ সমর্থন করেছিল।”

কিন্তু ছোট ছোট বিষয় নিয়ে হরতালের নামে দেশে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে দেশ ও শ্রমের অবমাননা করা হচ্ছে বলে উল্লেখ করে ড. মহিউদ্দিন খান আলমগীর বলেন, “দেশে হরতালের সংস্কৃতি শেষ হয়ে আসছে এবং সহসা এ সংস্কৃতির পরোপুরি অবসান হবে।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উৎপাদনশীলতার ধারকবাহক, কর্মসংস্থান সৃষ্টির নায়ক এবং জিডিপি বৃদ্ধির মূল দায়িত্ব বহনকারী ব্যবসায়ী সমাজকে বাংলাদেশের আর্থ সামাজিক উন্নয়নের মূল চাবিকাঠি বলে উল্লেখ করে গণতন্ত্র ব্যাহত হলে ব্যক্তি উদ্যোগ তথা অর্থনৈতিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে বলে আশংকা প্রকাশ করেন।

উন্নত বিশ্বে ৬০০ জন মানুষের বিপরীতে একজন  আর বাংলাদেশে ১২০০ জন মানুষের বিপরীতে একজন পুলিশ সদস্য রয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি চাহিদা অনুযায়ী ক্রমান্বয়ে পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হচ্ছে বলে জানান। এ প্রসঙ্গে তিনি সরকার পুলিশ বিভাগে আরো  ১৫০০ জনবল নিয়োগ দিচ্ছে বলে জানান।

বিরোধী দলের নেতাদের গ্রেফতার ও রিমান্ড বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “বিরোধীদলের নেতাদের বিরোধী হিসেবে কারাগারে পাঠানো হয়নি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে ফৌজদারি আইনের মাধ্যমেই তাদের বিচার হচ্ছে।”

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।