খাদ্যে ভেজাল দিলে সর্বোচ্চ শাস্তি অনুর্ধ্ব ১৪ বছর কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের বিধান হচ্ছে

খাদ্যদ্রব্যে মানব-স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিকর পদার্থ ব্যবহার বা বিক্রয়ের সর্বোচ্চ শাস্তি অনুর্ধ্ব ১৪ বছর কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে চূড়ান্ত করা নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ সংসদের আগামী বাজেট অধিবেশনে পাস হচ্ছে।

নতুন এ আইনের ওপর রোববার দুপুরে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ আয়োজিত এক সেমিনার ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় খাদ্যমন্ত্রী ড. আবদুর রাজ্জাক এ আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “খাদ্যে ভেজাল ও দূষণের কারণে জনস্থাস্থ্যের ওপর সৃষ্ট চরম হুমকি প্রতিরোধে যুগোপযোগী ও সমন্বিত এ আইন একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হবে।”

চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলমের সভাপতিত্বে এ সেমিনারে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য এম. আবদুল লতিফ এমপি, চিটাগাং চেম্বার সহ-সভাপতি সৈয়দ জামাল আহমেদ, চেম্বারের পরিচালকরা এবং বিভিন্ন ট্রেডবডি ও পেশাজীবী নেতারা আলোচনায় অংশ নেন।

খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “নির্বাচনী অঙ্গীকারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মহাজোট সরকার খাদ্য নিরাপত্তা ও নিরাপদ খ্যদ্য নিশ্চিতকরণে অনেকগুলো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এ কারণে বাংলাদেশে এ মুহূর্তে চালের দাম পৃথিবীর মধ্যে সর্বনিম্ন। গত সাড়ে চার বছরে প্রতিবছর দুই ভাগ হারে দারিদ্র হার কমেছে। এ সময়ে ১৬ কোটি জনসংখ্যার এ দেশে একটি লোক না খেয়ে মৃত্যুবরণের খবর পাওয়া যায়নি।”

খাদ্য নিরাপত্তায় লন্ডনভিত্তিক প্রভাবশালী ম্যাগাজিন দ্য ইকনোমিস্টের উদ্বৃতি দিয়ে তিনি বলেন, “এ পত্রিকাটিতে অব্যাহতভাবে যুদ্ধাপরাধীদের পক্ষে বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে লেখা হলেও গত ফেব্রুয়ারিতে এক লেখায় বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য খাদ্য নিরাপত্তায় একটি রোল মডেল বলে প্রশংসা করা হয়। তবে পুষ্টি ও নিরাপদ  খাদ্যে এখনো দেশ পিছিয়ে আছে বলে মন্তব্য করা হয়।”

খাদ্যে ভেজালকে বর্তমানে একটি চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “এর কারণে ক্যান্সারসহ নানাবিধ মরণব্যাধির প্রকোপ বাড়ছে। খাদ্যে ভেজাল ও বিষাক্ত উপাদান মিশানোর কারণে মানুষ এখন চরম আতঙ্কিত।”

এ অবস্থা থেকে মুক্তির জন্যই নিরাপদ খাদ্য আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে উল্লেখ করে মন্ত্রী নতুন আইন বাস্তবায়নে ব্যবসায়ীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।

এম. আবদুল লতিফ এমপি প্রস্তাবিত আইনে আমলানির্ভর কমিটি না করে জেলাভিত্তিক ভোক্তাসহ সব পেশাজীবীর সমন্বয়ে কমিটি গঠন করার বিধান আইনে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য মন্ত্রীকে অনুরোধ জানান।

চিটাগাং চেম্বার সভাপতি মাহবুবুল আলম আইনে অপরাধ সংঘটিত হলে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে প্রথমবার সতর্কীকরণ ও মিনিমাম জরিমানা করার প্রস্তাব করেন।

মুক্ত আলোচনা পর্বে আমদানি করা খাদ্যে কাস্টমস কর্তৃক ফরমালিন টেস্টকরণ, বাজারগুলোতে পর্যাপ্ত টেস্টকীট সরবরাহসহ নানাবিধ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণে সুপারিশ করা হয় এবং খাদ্য ব্যবসায়ীদের প্রশাসনিক বহুমুখী হয়রানি থেকে মুক্তি দিতে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের আহবান জানানো হয়।

এতে সিভিএএসইউ’র ভিসি প্রফেসর ড. এ.এস. মাহফুজুল বারী ও ডিন প্রফেসর পরিতোষ কুমার বিশ্বাস, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব জুবায়ের আহমদ, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার হাবিবুল হাসান, বিএসটিআই’র সহকারী পরিচালক কে. এম. হানিফ, বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি সালেহ আহমেদ সোলেমান, ক্যাব’র সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী ও জেসমিন সুলতানা (পারু), ইস্পাহানী গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক মিনহাজ উদ্দিন আহমদ ও ওম্যান চেম্বার নেত্রী কোহিনুর কামাল অংশ নেন।

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।